শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ : ৫:০০ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

যেভাবে সন্ত্রাসী হয়ে উঠে হামলাকারী মার্কিন দম্পতি

jakia..female_93634আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা সাইদ রিজওয়ান ফারুকের। চাকুরির কারণে থিতু গড়লেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। এরপর শুরু হলো বিয়ের জন্য জীবন সঙ্গী খোঁজার কাজ। একপর্যায়ে পেয়েও গেলেন তাশফিন মালিককে। বলা প্রয়োজন, বিয়ের আগে তাশফিন কিন্তু কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে আসেনি।শুরু হলো তাদের সংসার জীবন। ফুটফুটে এক সন্তান নিয়ে মার্কিন মুলুকের এক মফস্বল শহরে ভালোই যাচ্ছিল তাদের সংসার। এরপরের কাহিনী সকলেরই জানা।  এফবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলা হয়েছে, মাত্র কয়েক বছর আগেও ফারুক এবং তাশফিন একে অপরকে চিনতো না। তাহলে এমন কী মন্ত্র আছে যে তারা একসঙ্গে আত্মঘাতী হতে উদ্বুদ্ধ হলো? কোন মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সাদামাটা এই দম্পতি একসঙ্গে ১৪জনকে হত্যা করলো এবং আরো অনেককে আহত করলো?এর সঙ্গে কি মৌলবাদ সংশ্লিষ্ট? নাকি তারা জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটস বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর মন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে এই নৃশংসতা ঘটিয়েছে? অথবা এমনও তো হতে পারে বর্হিবিশ্বের সন্ত্রাসী কর্মকা- দেখে স্বপ্রণোদিত হয়ে তারা এই হত্যাকা- ঘটায়।যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র এক আইন প্রণেতা মনে করেন, তাশফিন হয়তো আগে থেকেই মৌলবাদের সঙ্গে জড়িত। কারণ তিনি অন্য দেশ থেকে গতবছর ফারুকের স্ত্রী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন।এদিকে ফারুকের প্রোফাইল দেখে জানা যায়, ২৮ বছর বয়সী ফারুকের জন্ম পাকিস্তানে। সান বার্নাডিনোর স্কুলে এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ¯œাতক সম্পূর্ণ করেন তিনি। দেশটির খাদ্য পরিদর্শকের পদে চাকুরি করতেন। তার দায়িত্ব ছিল রেস্তোরা এবং সেখানকার কর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছনতার বিষয়গুলো দেখা। এছাড়াও তিনি নিয়মিত স্থানীয় মসজিদে প্রার্থনা করতে যেতেন বলেও পরিচিতরা জানিয়েছে।২৯ বছর বয়স্ক তাশফিন কিছুটা রহস্যময় প্রকৃতির। বুধবারের ওই নৃশংসতার তিন দিন আগে থেকে কোনো পরিচিত জনই তাকে দেখতে পায়নি বলে জানিয়েছে। তিনি সবসময় নিকাব ব্যবহার করতেন। এজন্য তার চোখ ছাড়া আর কিছুই দেখা যেতো না। তিনি গাড়ি চালাতে পারতেন না। এজন্য তার স্বামী ফারুক নামাজ পড়তে গেলে তিনি সড়কের পাশে রাখা গাড়িতে বসে থাকতেন বলেও পরিচিতজনরা জানিয়েছে।সম্প্রতি জানা যায়, ফার্মেসিতে ডিগ্রিধারী তাশফিনের পাকিস্তানের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান এবং তার বেড়ে ওঠা সৌদিতে। ২০০৭ সালে মুলতান শহর থেকে ১শ’ মাইল অদূরে তার গ্রামে ঘুরতে গিয়েছিলেন।  তাশফিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আদিবা রানি জানান, ২০০৯ সাল থেকে হঠাৎই বদলে যেতে শুরু করেন তাশফিন। স্থানীয় এক মাদ্রাসায় ধর্মশিক্ষা গ্রহণ করতেন এবং সেখানেই সব অর্থ ব্যয় করতেন তাশফিন।রানির ধারনা, সুন্নি পন্থী ওয়াহাবি শিক্ষা দেয়া হতো ওই মাদ্রাসায়।ছয় বছর থেকে তাশফিন কে চিনতাম। ওই মাদ্রাসায় যাওয়ার পর থেকে সে শুধু ধর্মচর্চায় মনোযোগী হয়। এমনকী পড়াশুনাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আমার যখন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় ব্যস্ত তাশফিন শুধুমাত্র পাকিস্তানের ইসলামিক টেলিভিশন চ্যানেল নিয়ে পড়ে থাকত বলে জানালেন রানি।রানি আরও জানায়, তাশফিন সবসময় বোরকা পড়তো। ক্লাশে কখনো প্রথম বেঞ্চে বসতো না, এমনকী কোনো যুবকের দিকে সরাসরি তাকিয়ে কথাও বলতো না। খুব অন্তর্মুখী স্বভাবের ছিল, কিন্তু খুব শান্ত।এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে আইডি কার্ডসহ সকল ছবি পুড়িয়ে দিয়েছিলেন তাশফিন।তবুও বলা যায়, তাশফিনের এসব ধর্মীয় মতাদর্শ কোনো মৌলবাদের চিহ্ন বহন করে না।তাশফিনের এক চাচা জানায়, পারিবারিক সম্পদের বিরোধিতার কারণে ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে সৌদিতে পাড়ি জমায় তাশফিনের পরিবার। তাদের অন্যান্য সব আত্মীয় এখনও পাকিস্তানেই আছে।জানা যায়, ইন্টারনেটে ম্যারেজ সাইটের মাধ্যমে ফারুক এবং তাশফিনের বিয়ের কথা হয়েছিল।  গতবছর আগস্টে তাদের বিয়ে হয়।ফারুকের বন্ধুরা জানায়, বিয়ের পর থেকে একটু একটু করে তাদের সঙ্গে সম্পর্কে দুরত্ব বাড়তে থাকে।রেডল্যান্ডে দুতলা এক ভবনে ফারুক-তাশফিন দম্পতি এবং তাদের সন্তান ও ফারুকের মা থাকতেন।এদিকে এ.ইউ.এস কর্তৃপক্ষ শনিবার নিশ্চিত করে বলেছে যে, ফারুক আল-শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠীর মতাদর্শে বিশ্বাসী। সোমালিয়ার এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে কিভাবে এবং কখন ফারুক জড়িয়ে পড়েছে সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।তদন্তে এখনো অনেক কিছুই অস্পষ্ট। কিভাবে এক কখন এই দম্পতি সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি।জানা যায়, বুধবারের এই ঘটনার আগে ফারুক তার ফেসবুক থেকে আইএসের সমর্থনে একটি পোস্ট শেয়ার করে। যদিও পরে সেটি মুছে ফেলা হয়।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

চীনে টর্নেডো-শিলাবৃষ্টিতে ৯৮ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশে টর্নেডো ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে কমপক্ষে ৯৮ জনের মৃত্যু …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open