শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০ : ২:৪৯ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

“আমাদের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিন”

pic 2_93352_1ডেস্ক রির্পোট: দেখতে দেখতে দুই বছর চলে গেছে। অনেকের মানসপট থেকে তাদের নাম হারিয়ে গেছে। কিন্তু স্বজনরা তো আর ভুলতে পারেন না। ঠিকই মনে রেখেছেন। নিখোঁজ স্বজনের জন্য স্বজনদের অপেক্ষা কত কষ্টের তা বলে গেছেন। বলতে গিয়ে সবাই কেঁদেছেন। উপস্থিত সবাইকেও কাঁদিয়েছেন।বলছিলাম ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানী থেকে নিখোঁজ হওয়া ১৯ যুবকের স্বজনদের কথা। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সন্তানহারা মায়েদের কান্না, দুই বছর অতিবাহিত’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের কথা। নিখোঁজ হওয়া ওই ১৯ জন সবাই রাজধানীতে থাকতেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা নিখোঁজদের ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়েছেন।
“আমাদের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিন”
একে একে নিখোঁজ মানুষের স্বজনেরা বলে যাচ্ছিলেন প্রিয়জনকে হঠাৎ করে হারিয়ে ফেলার কষ্ট, দুর্দশা আর নানা দুর্ভোগের কথা। তাদেরই একজন ছোট্ট হৃদি। নিখোঁজ পারভেজ হোসেনের মেয়ে হৃদি এখন একটি কিন্ডারগার্টেনে নার্সারি শ্রেণিতে পড়ছে।
অন্যদের মতো মাইকের সামনে হৃদি বলে যাচ্ছিল বাবার জন্য তার সব কষ্টের কথা। বাবার জন্য তার চোখে ঝরছিল ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু। তার এ কান্না উপস্থিত সবাইকে বেদনার্ত করে তোলে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।হৃদি বলে, ‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও। আমি বাবার সাথে স্কুলে যাবো। মা আমাকে আইসক্রিম কিনে দেয় না। মায়ের পয়সা নেই। বাবা আইসক্রিম কিনে দেবে; শিশুপার্কে নিয়ে যাবে। বাবাকে অনেক দিন দেখি না।’“আমাদের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিন”নিখোঁজ ১৯ জন হলেন, শাহীনবাগের সাজেদুল ইসলাম সুমন ও এম এ আদনান চৌধুরী, বসুন্ধরার জাহিদুল করিম তানভীর, নাখালপাড়ার আব্দুল কাদের ভূঁইয়া মাসুম, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, কাউসার, কমলাপুরের আসাদুজ্জামান রানা, উত্তর বাড্ডার আল আমিন, সূত্রাপুরের সেলিম রেজা পিন্টু ও সম্রাট মোল্লা, বাংলাবাজারের খালিদ হাসান, বংশালের হাবিবুর বাশার জহির, পারভেজ হোসেন, মো. সোহেল, চঞ্চল, দক্ষিণ খানের নিজাম উদ্দিন মুন্না, তরিকুল ইসলাম মুন্না, সবুজবাগের মাহবুব হাসান ও কাজী ফরহাদ।
রাজধানীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম ওরফে সুমনের মা হাজেরা খাতুন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। সংবাদ সম্মেলনে শেষ বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল সুমনের মা হাজেরা খাতুনের। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের…প্রধানমন্ত্রী পারেন। আমরা এখনও আশায় আছি।’ কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আর পারি না, বাবা। দুই বছর হয়ে গেল!’সন্তানহারা ১৯ পরিবারের কান্নাকাটি ও আহাজারির মধ্যেই তিনি সবার সন্তান ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান।প্রধানমন্ত্রীর কাছে শেষ সুযোগ হিসেবে সন্তানহারা মুন্নার বাবা সামসুদ্দিন বলেন, ‘আমার জীবিত মুন্নার খোঁজ না দিতে পারলেও অন্তত তার কবর দেখিয়ে দেন। আমি আমার সন্তানের কবর জিয়ারত করতে চাই।’ এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন মুন্নার বাবা।“আমাদের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিন”আরেক স্বজন পিন্টুর বড় বোন মুন্নি। তিনি বলেন, ‘আমি ভাইকে আর ফেরত চাই না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলব, আমাদের পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলুন। এভাবে আর আমরাও বাঁচতে চাই না।’আর চঞ্চলের সন্তান আহাদ শুধু বাবাকে ফিরিয়ে দেয়ার কথা বললেন।এ সময় নিখোঁজ আদনানের বাবা রুহুল আমিন সংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের কষ্টের কথাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিন। কেন আমাদের সন্তানগুলোকে এভাবে কেড়ে নিয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে হয়তো তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে।’শাহবাগে জন্মদিনের ফুল আনতে গিয়ে বাবা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানায় সোহেলের সন্তান। সে বললো, ‘আমি এখনও আশায় আছি প্রধানমন্ত্রী আমার বাবাকে ফিরিয়ে দেবেন।’সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ পরিবারদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নুর খান লিটন।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open