রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১ : ১:৫৭ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

ওসমানীনগরে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা

imagesওসমানীনগর সংবাদদাতা : সিলেটের ওসমানীনগরে শ্রমিকলীগের সম্মেলনে পরিচয় করিয়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে আ’লীগ ও যুবলীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত পাল্টা-পাল্টি মামলা দায়েরের আট দিনের মধ্যে মামলা দুটির সব আসমিকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় মামলা দুটির তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই রমা প্রসাদ এজাহার নামীয় আসামীদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।সংঘর্ষ ও মামলা দায়েরের পর থেকে গোটা উপজেলায় উত্তেজনা রয়েছে। উভয় গ্রুপের পক্ষে পাল্টা-পাল্টি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারও পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিবদমাম দুই পক্ষই। এই উত্তেজনার মধ্যেই পুলিশের চুড়ান্ত প্রতিবেদন নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন দেয়খা দিয়েছে।এদিকে বিজয়রে মাসকে স্বাগত জানিয়ে আজ বুধবার পৃথক বিজয় র‌্যালীর ঘোষণা দেয় উভয় গ্রুপ। উক্ত বিজয় র‌্যালীকে সফলের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আতাউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নাজলু চৌধুরীর পক্ষ থেকে সিএনজি চালিত অটো রিকশা যোগে মাইকিং বের করা হয়। রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তাজপুরস্থ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুর রহমান সোহেল এর বাসার সামনে মাইকিংয়ে নিয়োজিত লোকজনকে মারপিট করে অটোরিকশাটি ভাংচুর করে সুহেল গ্রুপের লোকজন।তবে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুর রহমান সোহেল পক্ষের লোকজনের দাবি তাঁর লোকজন মাইকিংয়ের অটোরিকশাটি ভাংচুর করেনি। অন্যদিকে বিজয় র‌্যালীর মাইকিংয়ের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় সুহেলসহ তাঁর লোকজনকে দায়ি করে এর প্রতিবাদে নাজলু চৌধুরী,র লোকজনসহ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আতাউর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তাজপুর কদমতলা এলাকায় হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস সহ কয়েকটি দুরপাল্লার বাস ভাংচুর করা হয়। এক পর্যায়ে রাত ৮ টা থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন নাজলু চৌধুরীর লোকজনসহ উপজেলা আ’লীগে সভাপতি আতাউর রহমানসহ আ’লীগের একাংশের নেতৃবৃন্দ। ফলে রাত ৮ টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত মহাসড়কের এ অংশে যান চলাচল বন্ধ থাকে। যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যানজটের মধ্যে আটকা পড়ে টানা দুই ঘন্টা আটকা পড়েন যাত্রী-সাধারণ।উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুর রহমান সোহেল পক্ষে দায়েরকৃত মামলার বাদি মিজানুর রহমান জানান, আমরা মাইকিংকের গাড়িতে ভাংচুর করিনি। আমরা আমাদের আজ বুধবারের বিজয় র‌্যালীর আয়োজন নিয়ে ব্যাস্থ রয়েছি। আমাদের ঘোষনাকৃত বিজয় র‌্যালীকে বানচালের লক্ষে নাজলু চৌধুরীসহ তার লোকজন এসব নাটক সাজিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহামন চৌধুরী নাজলু বলেন, সুহেলের লোকজন আমাদের মাইকিংয়ের লোকজনকে মারপিট করে মাইকিংয়ে নিয়োজিত অটোকিরশা ভাংচুর করছে। গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদে আমরা তাৎক্ষনিক মাহসড়ক অবরোধ করেছি। সুহেলকে গ্রেফতার পূর্বক সংবাদ সম্মেলনে পেশকরা আমাদের দাবি গুলো পূরন করা না হলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমা প্রসাদ জানান, দু-পক্ষের দায়েরকৃত মামলায় ঘটনার সাক্ষ্য প্রমান না পাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার বিকালে দায়েরকৃত মামলার এজহার নামীয় আসামীদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন প্রেরন করেছি।
সমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মুরসালিন বলেন, শ্রমিকলীগের সম্মেলনে সংঘর্ষের ঘটনায় দু-পক্ষের দায়েরকৃত মামলায় এজাহার নামীয় আসামীদের বিরুদ্ধে কোন স্বাক্ষ্য পাওয়া যায় নাই। মামলা দুটি দ্রুত বিচার আইনের হওয়ায় ৮ দিনের মধ্যে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মাইকিংয়ের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে অবরোধ করা হয়েছে। আমরা নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে যান চলাচল স্বভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, গত ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে শ্রমিকলীগের সম্মেলন চলাকালিন সময়ে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুর রহমান সুহেলের পরিচয় করিয়ে না দেয়ায় সম্মেলনের মধ্যে সুহেল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুহেল চুরিকাঘাতসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। পরবর্তীতে সুহেল এর সমর্থকরা গোয়ালাবাজারে অবস্থিত নাজলু চৌধুরী’র প্রভাতি ফিলিং ষ্টেশন,নওরোজ পোল্টিসহ ব্যাক্তিগত অফিস ও অফিসের সামনে থাকা কয়েকটি মটরসাইকেল ভাংচুর করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি পুলিশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে ও উপজেলার গোয়ালা বাজারসহ পাশ্ববর্তী এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন ইউএনও। এ ঘটনায় ২২ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলুর ছোট ভাই নাবেদুর রহমান চৌধুরী বাদি হয়ে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলাতাফুর রহমান সোহেলসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি রেখে থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন। অন্য দিকে ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান বাদি হয়ে উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজলু চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় দ্রুত বিচার আইনে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। উক্ত সংঘর্ষ ও মামলা দায়েরর ঘটনা দিয়ে গোটা উপজেলায় আলোচনা সমালোচনা সহ উভয় পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করেছিল। অবশেষে থানা পুলিশ সংঘর্ষের ৮ দিন পর দু-গ্রুপের দায়েরকৃত মামলায় এজহারনামীয় আসামীদের মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে গতকাল মঙ্ঘলবার বিকালে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন দুই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এসআই রমা প্রসাদ। এ দিকে আজ বুধবার উভয় গ্রুপের পক্ষে পৃথক বিজয় র‌্যালীর আয়োজন করা হয়। বিজয় র‌্যালীকে সফলের লক্ষে বিকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষে অটোরিকশা যোগে মাইকিং বের করা হলে সন্ধ্যা ৭টায় মাইকিংয়ের নিয়োজিত ব্যাক্তিদের মারপিটসহ অটোরিকশা ভাংচুর করা হয়। উক্ত ভাংচুরের ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুহেলের লোকজনকে দ্বায়ি করে রাত সাড়ে ৭টায় কদম তলা এলাকায় গাড়ি ভাংচুরসহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজলু চৌধুরীর লোকজনসহ উপজেলা আ’লীগের একাংশের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open