বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০ : ৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

imagesমোঃ আল-আমিন, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কয়েকজন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্বে রবি শস্য উৎপাদনে ব্যাঘাত এবং দাপ্তরিক কাজে বিঘœ ঘটছে। এ বিষয়ে একে অপরকে দোষারোপ করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা শিল্পমন্ত্রীর কাছে সাক্ষাত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসিফ ইকবালের নামে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে সার্ভিস নিয়ম অতিক্রম করে অভিযোগ করায় উপপরিচালক বরাবরে বিভাগীয় নিয়ম মোতাবেক শাস্তি প্রদানের জন্য আবেদন করেন। কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের ইন্ধনে লাইভলি ফিল্ড স্কুল (এলএফএস) কমিটির ব্যানারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নামে দুর্নীতি ও অপসারন দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে এলএফএস কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মোঃ দুলাল হাওলাদার ও সদস্য সচিব হিসেবে মোঃ কামরুল ইসলাম খান স্বাক্ষর করেন। সংবাদ সম্মেলনে চলতি রবি মৌসূমে কাঙ্খিত উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলেও  ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় এলএফএস এর সংখ্যা রয়েছে শতাধিক। কিন্তু কোন ব্লকের এলএফএস এর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে তা গোপন রাখা হয়েছে। তাছাড়াও দাপ্তরিক তথ্য সমূহ কিভাবে কৃষকরা পেল এ নিয়েও খোদ দপ্তরের মাঝে ধু¤্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা বলেন, তিনি (কৃষি কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল) এখানে যোগদান করার পরই বিভিন্ন খাত থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত করেছেন। নিজের দোষ ঢাকতে তিনি আমাদের নামে হয়রানি মূলক মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, কৃষি উপসহাকরী কর্মকর্তা এমএ হান্নান, আলাউদ্দিন, ফিরোজ আহমেদ, আসাদুজ্জামান, নিয়ামত উল্লাহ খান, জাহাঙ্গির হোসেন ২০-২৫ বছর যাবত একই স্থানে চাকুরী করায় একটি সিন্ডিকেট করে কর্তব্যে অবহেলা, অর্থ আত্মসাত, সরকারী আচরণ, নাশকতা, অফিস নিয়ম লঙ্ঘন, দলাদলি, সহকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। এখানে কৃষি কর্মকর্তারা যোগদান করলেই কৌশলে এ কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তারা তাকে জিম্মি করে স্বার্থ আদায় করতো। এমনকি এদের বিরুদ্ধে কৃষি কর্মকর্তাদের নাজেহাল করারও ঘটনা রয়েছে। তাদেরকে পার্শ্ববর্তি উপজেলায় বদলী করা হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। কৃষি কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল বলেন, কয়েকজন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা তাদের ব্লকে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন এবং সরকারী সুবিধা প্রকৃত কৃষককে না দিয়ে স্বজনপ্রীতি ও ভূয়া কৃষক দেখিয়ে মাস্টাররোল তৈরী করে অধিকাংশ বরাদ্দ আত্মসাত করছে। এ বিষয়ে তদারকি করলে তারা আমার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলে। এতে কিছুদিন ধরে দাপ্তরিক কাজেও বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্ট সচেতনরা মনে করেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল মাস পাঁচেক পূর্বে রাজাপুর থেকে এসে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় এসে যোগদান। এরমধ্যে তার বিরুদ্ধে ২ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে কৃষকরা সংবাদ সম্মেলন করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে না জানিয়ে এ ধরণের কাঁদা ছোড়াছুড়ি করা হচ্ছে। দ্বন্দ্বে জড়িতদেরকে জেলার বাইরে বদলী করা হলে সকল দ্বন্দে¦র নিরসন ঘটবে বলেও মত প্রকাশ করেন তারা। ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ  মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নামে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা একাধিক কমিটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে। এটা ডিপার্টমেন্টাল ব্যাপার। অনেকটাই সমাধান হয়েছে। বাকিটাও সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open