শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ : ৪:০৭ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগ ছেলেকে তুলতে গিয়ে চ্যালেঞ্জে ধর্মমন্ত্রী

mymensingh politics al -logo_91238সিলেট ভিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম: জীবনের শেষ বেলায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ধর্মমন্ত্রী ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান। এত দিন তিনি এক হাতে নৌকার হাল ধরে রাখলেও এখন সেখানে ভাগ বসিয়েছেন ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটু। মন্ত্রীর এই চ্যালেঞ্জে পড়ার পেছনে ছেলে মোহিত উর রহমান শান্তকে রাজনীতির মাঠে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাই বড় কারণ বলে জানান নেতাকর্মীরা।মোটা দাগে এই হলো ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের হাল চিত্র। এ ছাড়া ময়মনসিংহের তিনটি আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়ায় সেগুলোতে দলের রাজনীতি আপাত নিস্তরঙ্গ।  এই মুহূর্তে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একটা বিষয় লক্ষণীয়, শহর ও উপজেলা ইউনিটগুলোতে দলের পুরো নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় নেতাদের হাতেই। ফলে সেখানে দলাদলিও কম।এ ছাড়া দল ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বেশির ভাগই চলছে পুরনো অথবা আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। তাই স্থবিরতা চলছে বিভিন্ন ইউনিটে।এ ব্যাপারে মতিউর রহমানের বক্তব্য জানতে কয়েক দফা ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।তবে তার ছেলে মোহিত উর রহমান শান্তর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটুর সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।বিরোধ থাকার কথাও নয়।কেননা টিটু জেলা আওয়ামী লীগের কোনো পদেও নেই। পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসাবে মনোনয়ন পাওয়া এবং ভোটে পাস করার পেছনে আবার বাবার অবদানই সবচেয়ে বেশি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছেলে হিসাবে আমার পিতা যদি আমাকে সাপোর্ট করে সেটাও তো অন্যায় কিছু না। বাবার ঝান্ডা ছেলে তুলে ধরবে সেটা চাওয়া তো অন্যায় হতে পারে না।তাছাড়া ৯১ সালেই আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করি। এর পর নানা ধাপ অতিক্রম করে আমি আজ এই পর্যায়ে। আমি তো উড়ে এসে জুড়ে বসি নাই।রাজনীতি করে করেই আমি আজ এ পর্যায়ে এসেছি।
জেলায় বিরোধ প্রকাশ্য
১১ বছরের পুরনো কমিটি আর বিরোধের জেরে অস্থিরতা বিরাজ করছে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগে। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে বর্তমান ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমানকে সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটি হওয়ার পর আর কোনো সম্মেলন হয়নি। গত বছরের ৮ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের ১২টি শূন্য পদে নতুন করে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ প্রকাশ্যে আসে। গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে দলের দুই পক্ষের মধ্যে।
দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান,  গোল বেধেছে মূলত মতিউর রহমানের  ছেলে মোহিত উর রহমান শান্তকে দলীয় রাজনীতিতে তুলে আনতে গিয়ে।  এমপি বাবার সুবাদে আগে থেকেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তার বিরুদ্ধে দলের ভেতর একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছিল। গত বছরের নভেম্বরে শান্তকে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ  সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া আর ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটুর বাদ পড়ার পর সেটি প্রকাশ হয়। ধর্মমন্ত্রীর এমন হটকারী আচরণে ক্ষুব্ধ হন টিটুর অনুসারী  নেতা-কর্মীরা। ফলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগের রাজনীতি।ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের এই বিক্ষুব্ধ পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা এবং মেয়র  ইকরামুল হক টিটু। প্রবীণ-নবীন এ জুটির নেতৃত্বে মেরুকরণ হচ্ছে জেলা দলে।জেলা আওয়ামী লীগের এই দুই পক্ষের বিরোধ শিগগিরই মিটছে না বলে জানালেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
গোছানো শহর আ.লীগ
সত্তরের দশকের ছাত্রনেতা শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে দল গোছাচ্ছেন। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নেতৃত্ব উঠিয়ে আনার কাজ করছেন তিনি। ইতিমধ্যে বেশির ভাগ ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ হয়েছে। এখন শহর আওয়ামী লীগের  কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।
নেতৃত্বশূন্য ছাত্রলীগ
ব্যর্থতার দায় নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জসিম-রকিবের বিদায়ের পর এখনো নতুন কমিটি গঠিত হয়নি। কমিটি গঠনে কেন্দ্র গড়িমসি করছে বলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ। নতুন কমিটির নেতৃত্বে আসতে জোর লবিং করছেন জেলা ছাত্রলগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা।
ঘুণে ধরা নেতৃত্বে যুবলীগ
তিন বছর মেয়াদি জেলা যুবলীগের কমিটির বয়স  ১১ বছর পেরিয়েছে। ঘুণে ধরা নেতৃত্বের কারণে জেলা যুবলীগ মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না। একই অবস্থা কোতোয়ালি ও শহর যুবলীগের। সেখানেও নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই।জেলা যুবলীগের কমিটি হচ্ছে হবে করেও হচ্ছে না। ধর্মমন্ত্রীর ছেলে শান্ত ও মেয়র টিটু পক্ষের মধ্যে এখনো সমঝোতা না হওয়ায় মূলত আটকে আছে এ সংগঠনের কমিটি, এমন গুঞ্জনও আছে।এক নেতার স্বেচ্ছাসেবক লীগ পাঁচ বছর ধরে শুধু সভাপতি  দিয়ে চলছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতি। এ কমিটির একমাত্র নেতা অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান খোকন।  আর কোনো নেতা নেই এ কমিটিতে।এ ছাড়া শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা লীগসহ অন্য সংগঠনগুলোর অবস্থাও বেশ নাজুক।উপজেলা আওয়ামী লীগে দুই প্রভাবশালী ময়মনসিংহের প্রায় সব উপজেলার নেতারা নিজ নিজ এলাকায় দল নিয়ন্ত্রণ করছেন।তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) মুজিবুর রহমান ফকির। গোটা উপজেলা এমনকি জেলাতেও তিনি ‘ন্যাড়া এমপি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। মানুষকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় রয়েছে তার টর্চার সেল। সেখানে ধরে নিয়ে তিনি নির্যাতন করেন তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদকারীদের। তার কর্মকাণ্ডে বিব্রত উপজেলা, জেলা এমনকি কেন্দ্রীয় নেতারাও।তবে তার সমর্থকরা মনে করেন, ক্যাপ্টেনকে নিয়ে দলের রাজনীতিতে বিরোধী পক্ষরা বিতর্ক তৈরি করলেও মাঠ পর্যায়ের নেতারা তার সঙ্গেই আছেন।গত সংসদ নির্বাচনে গফরগাঁওয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়ে এমপি নির্বাচিত হন আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের ছেলে ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল। রাজনীতির মাঠের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি সরব। তার উন্নয়ন প্রচেষ্টা দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন বলে জানান কর্মীরা।এমপিত্ব হারিয়ে দিশেহারা দুই দলীয় সিদ্ধান্তে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়ায় হওয়ায় আর এমপি হতে পারেননি কাজী খালিদ বাবু। আগেরবার নিজের এমপিত্বের প্রভাবে ঠিকাদারি ব্যবসার বড় বড় কাজ ভাগিয়ে নিয়ে নিজের আখের গোছানোর কাজে বেশি ব্যস্ত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় কাঙ্ক্ষিত ও দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে না পারায় দলীয় নেতা-কর্মীরাও ছিলেন তার প্রতি ক্ষুব্ধ। এখন রাজনীতিতে আর সুবিধা করতে পারছেন না কাজী খালিদ বাবু।একইভাবে এমপিত্ব হারিয়ে এলাকায় যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছেন ত্রিশাল উপজেলার আহ্বায়ক রেজা আলী। দলীয় সূত্র জানায়, চার বছর ধরে এই আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে দল। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল তালুকদার মারা গেছেন আরো দুই বছর আগে। ফলে এখানে স্থবির হয়ে পড়েছে দলের রাজনীতি। এ শূন্যতায় দলীয় নেতা-কর্মীদের আস্থার জায়গাটিতে চলে এসেছেন ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এ বি এম আনিসুজ্জামান। তাকে ঘিরেই এখন পরিচালিত হচ্ছে ত্রিশালে আওয়ামী লীগের রাজনীতি।দলীয় সূত্রমতে, জেলার বিভিন্ন আসনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা নানা কারণে বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন। কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউই তাদের নিয়ে মুখ খুলছে না।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ট্র্যাফিক নির্দেশনা

আসন্ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে আগামী শুক্রবার থেকে রোববার (২১-২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত রাজধানীতে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open