শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ : ৪:২৫ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

দোয়ারাবাজারে বিএনপি নেতাকর্মীর পাল্টাপাল্টি দোষারোপ : অভ্যন্তরীণ বিবাদ চরমে

1নিউজ ডেস্কঃ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত হয়েই চলছে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মাঠ পর্যায়ে দলটির বর্তমান কার্যক্রমও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে ছাতক-দোয়ারাবাজার দু’উপজেলায় বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য সাবেক ছাতক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুনসিফ আলীর নেতৃত্বে তিন বলয়ে বিভক্ত হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে চলছে সাংগঠনিক কর্মকান্ড। আর এসব কারণে দুর্দিনে দলটি পদে পদে হোঁচট খেয়েছে । বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দু’ উপজেলাতেই তাদের মনোনীত প্রার্থীদের চরম ভরাডুবি হয়েছে। তার পরও সাংগঠনিকভাবে এক হতে পারেনি দু’ উপজেলার বিএনপির সিনিয়র নেতারা। বিভক্ত হয়েই বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ড খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এখন দু’ উপজেলায়।
এ দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে মিলন-মিজান দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীন কোন্দল লেগেই আছে। এ ইউনিয়নের বিএনপির তৃণমুল নেতাকর্মীরা সাম্প্রতিক সময়ে গ্রুপ বদলাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ঘন ঘন গ্রুপ বদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন খোদ উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীরাও। সিনিয়র নেতাদের দীর্ঘদিনের বিভক্তের কারণে তৃণমুলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের কারণেই গ্রুপ বদলের হিড়িক পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমুলের একাধিক নেতাকর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপির একটি গ্রুপ দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মিলন গ্রুপের মোরশেদ আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরো চরম আকার ধারণ করে। শুরু হয় দুই বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাংলাবাজারের মা-মনি মেডিকেল সেন্টারে নেতাকর্মীদের এক জরুরী সভায় বিএনপি নেতা মোরশেদ আলমকে নিয়ে প্রতিপক্ষের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য খলিলুর রহমান, আমীর হোসেন মেম্বার, নুরজ্জামান, আবু হানিফ মেম্বার, আব্বাস উদ্দিন মেম্বার, আনিসুর রহমান, আঃ শহিদ, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ডা: আলম শিকদার, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, যুবদল নেতা সুলতান আহমদ, ইমান হোসেন, জমসিদ মিয়া, মোরশেদ আলম, ডাঃ আবুল কালাম, ফজর আলী, সারোয়ার মিয়া, মোস্তফা, আল-আমিন, নাজির হোসেন, সেলিম আহমদ, মাহতাব উদ্দিন, ওয়ারিছ আলী, নূর মিয়া প্রমুখ।
জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপি নেতা মোরশেদ আলম বলেন ,আমাকে ইউপি নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য প্রতিপক্ষ নানা ভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমাকে এবং আমার নেতা কর্মীদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা মুলত বাংলাবাজারের জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামী মূল্যবোধের শক্তিকে পরাজিত করার জন্য সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে র্কাযক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, আমি পরপর দু’বার ইউপি নির্বাচন করেছি, নেতা কর্মীদের প্রতি আমার অভিমান থাকতে পারে। রাজনীতিতে মান অভিমান রাগ অনেক কিছুই থাকে। এরকম হয়ে থাকলে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ষড়যন্ত্রকারীরা যতই অপপ্রচার করুক, আমি তাতে বিচলিত নই। আমি মিজান গ্রুপ থেকে সরে আসার কারণেই আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মিজান গ্রুপের উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খোরশেদ আলম বলেন, মোরশেদ আলম আমাদেরকে জড়িয়ে মোবাইল কথোপকথনে গালাগালি করায় আমরা সম্মিলিত ভাবে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open