শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ : ৮:৩৭ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

একমাস বন্ধ থাকার পর ছাতক সিমেন্ট কারখানায় উৎপাদন শুরু

Untitled137-750x440সিলেট ভিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম: প্রায় এক মাস সম্পূর্নভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকার পর দেশের প্রাচীনতম রাষ্ট্রায়াত্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কারখানায় আবারো উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। কারখানার এইচইসি কিলন চালুর সকল আনুসাঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে গতকাল সোমবার বিকেলে উৎপানে যায় কারখানাটি।বিসিআইসির নির্ধারিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ক্যাথওয়েল্ড কনস্ট্রাকশন সংস্কার শেষে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার পর চালুর ক্ষেত্রে বেশ কিছু আনুসাঙ্গিক ত্র“টি ধরা পড়ে। ফলে কিলন পুরোপুরি চালু করতে কর্তৃপক্ষকে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। একাধিক বার কিলন চালু ও বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটলে কারখানাটি চালুর ব্যাপারে দেখা দেয় নানা প্রশ্ন। কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্ধিহান হয়ে পড়েন সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীরা। হস্থান্তরের প্রায় আড়াই মাসের মাঝে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল কারখানায় এসে কিলনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কিন্তু তখনো শ্রমিক-কর্মচারীরা কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে পারছিল না। ফলে কর্তৃপক্ষের প্রতি ফুঁসে উঠতে থাকে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর জের ধরে গত ৩এপ্রিল সাধারণ শ্রমিকরা প্রশাসনিক কার্যালয় ঘেরাও করে কারখানা চালুর দাবী জানায়। শ্রমিকদের তোপের মুখে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ৭দিনের মধ্যে কারখানা চালু করে দেয়ার প্রতিশ্র“তি দেন। প্রতিশ্র“তির একদিন হাতে রেখেই কারখানাটি উৎপাদনে যেতে সম্ভব হয়েছে। কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বইছে বাঁধভাঙ্গা উল¬াস।ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ছাতক সিমেন্ট কারখানা ১৯৩৭ সালে ছাতক সুরমা নদীর উত্তর পারে নদীর কুল ঘেষে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংশি¬দের মতে প্রতিষ্ঠার ৭৮বছরের মধ্যে কারখানার এটিই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের ঘটনা। প্রতি মাসে ৭হাজার ৮শ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এ কারখানা গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৪ মাসে উৎপাদন হয়েছে মাত্র প্রায় ৪হাজার মেট্রিক টন সিমেন্ট। সংস্কারের পর কারখানার একটি কিলন সম্পুর্ন অচল ও অপরটিও কোনমতে চালানোর ফলে কারখানার ভবিষ্যত নিয়ে দেখা দিয়েছিল অনিশ্চয়তা। প্রতিষ্ঠার পর এ কারখানা বিভিন্ন সময়ে দু’বার বিএমআরই করা হলেও উৎপাদন ক্ষমতা সচল রাখতে এইচইসি কিলনের সেল ও রোলার প্রতিস্থাপনসহ সংস্কারের বিষয়টি হয়ে পড়ে জরুরী। গত বছরের ১৭ডিসেম্বর কারখানার ২০কোটি টাকার সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুহিবুর রহমান মানিক এমপি। ৮ মাসের মধ্যে অর্থাৎ চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এইচইসি কিলনের সেল ও রোলার প্রতিস্থাপনসহ মেরামত কাজ সম্পন্ন করে পরীক্ষামুলকভাবে চালু করার শর্তে কাজের দায়িত্ব ভার গ্রহন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ক্যাথওয়েল্ড কনস্ট্রাকশন।চুক্তি অনুযায়ী ১৬ আগষ্ট কাজটি শেষ করে ক্লিংকার উৎপাদন শুরু করার কথা থাকলে যথাসময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে কিলন চালুর জন্যে ৮ঘন্টা গ্যাস পার্জিং করে কিলন রুটেশনে দেয়ার পর মারাত্মক ক্রটি দেখা দেয়। এরপর থেকে কিলনের নানাবিধ মেকানিক্যাল ক্রটির ও সেল বাঁকা থাকার ফলে কারখানাটি চালু করতে কর্তৃপক্ষকে অন্তত দু’মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। এরই মধ্যে অপর কিলনটি বিকল হলে গত ১২ অক্টোবর কারখানার উৎপাদন সম্পূর্নরূপে বন্ধ হয়ে পড়ে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কারখানার অভিজ্ঞ শ্রমিক-কর্মচারী ও প্রকৌশলীদের দিবারাত্রির অব্যাহত প্রচেষ্টায় ২শ’৫০ মেট্রিক টন ক্লিংকার উৎপাদনকারী কিলনটি অবশেষে সোমবার সাড়ে ৪টায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। শ্রমিক নেতা আব্দুল কদ্দুছ জানান, কারখানায় বাৎসরিক ওভার হোলিং করার প্রয়োজনীতা আবশ্যক হলেও প্রায় ১৮বছর ধরে ওভার হোলিং করা হয়নি। ফলে কারখানার সকল যন্ত্রাংশ ক্ষয়প্রাপ্ত ও অকেজো হয়ে পড়েছে। কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবুল হাসনাত চৌধুরী জানান, দেরীতে হলেও কারখানা চালু করা সম্ভব হয়েছে। অপর কিলনটিও দু’মাসের মধ্যে মেরামত শেষে চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open