সোমবার, মে ১৭, ২০২১ : ১:২৯ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

দেশবাসীর কাছে স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চাইলেন কামরুলের স্ত্রী

42871সিলেট ভিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম: সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজনের প্রধান আসামি কামরুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন এলি স্বামীর অপরাধের জন্য অনুতপ্ত। তারপরও তিনি দেশবাসীর কাছে স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছেন। আলোচিত ওই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়া তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্বামী ইচ্ছে করে এ ঘটনার সাথে জড়িত হননি। চৌকিদার ময়না তাকে ওই ঘটনায় জড়িয়েছে।’তিনি জানান, ঘটনার দিন সকালে ময়না ফোন দিয়ে কামরুলকে ডেকে নিয়ে প্ররোচিত করে এ ঘটনা ঘটায়।তারপরও তার স্বামী অপরাধ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এক মাত্র ১৮ মাসের সন্তান এনামুল ইসলাম ফারিসের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দেশবাসীর কাছে আমি আমার স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চাচ্ছি।‘গত রবিবারে আদালতের রায়ে কামরুলের পরিবার সন্তোষ নয় জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এ রায় প্রকৃত ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে আবেগের বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।‘রাজিয়া খাতুন এলি জানান, ন্যায় বিচারের জন্য তারা উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন।কামরুলের মা কুদরতুন্নেছা তার ছেলে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমার ছেলে এমন অন্যায় করেনি যে তাদের ফাঁসি হবে।’প্রসঙ্গত, রবিবার সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আদালত একজনকে যাবজ্জীবন, ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ৩ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার শেখপাড়ার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে কামরুল ইসলাম, সুলতান মিয়ার ছেলে তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, পীরপুর গ্রামের মৃত মব উল্লাহর ছেলে সাদিক আহমদ ময়না ওরফে বড় ময়না ওরফে ময়না চৌকিদার ও সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের অলিউর রহমানের ছেলে জাকির হোসেন পাভেল ওরফে রাজু। এর মধ্যে পাভেল পলাতক রয়েছে। ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত চারজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সাজার আদেশ দেন আদালত।এদিকে আলোচিত এই হত্যা মামলায় সিলেট সদর উপজেলার পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নূর মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুইমাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।এছাড়া হত্যাকান্ডের মূলহোতা কামরুল ইসলামের তিনভাই আলী হায়দার ওরফে আলী, মুহিত আলম ও শামীম আলমকে ৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ২ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেন আদালত। ৭ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে শামীম আলম পলাতক রয়েছে। মামলায় একবছর করে সাজা ও ১ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে একমাসের সশ্রম কারাদন্ড হয়েছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরগাঁওয়ের মুজতবা আলীর ছেলে আয়াজ আলী ও সিলেট সদর উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন আহমদের ছেলে দুলাল আহমদের। আর বেকসুর খালাস পেয়েছেন ফিরোজ আলী, আজমত উল্লাহ ও রুহুল আমিন।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open