বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২০ : ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

স্বামীর দ্বিখ-িত লাশ পুতে রাখলেন পাষন্ড স্ত্রী

42905সিলেট ভিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম: স্বামীকে নিজ হাতেই দু’খন্ড করলেন স্ত্রী। এতও ক্ষান্ত হননি তিনি। স্বামীর খন্ডিত দেহ ঘরে ও ঘরের বাইরে জঙ্গলে পূতে রাখেন তিনি। চাঞ্চল্যকর স্বামী খুনের এই ঘটনাটি ঘটেছে সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়ার মোকামেরগুল এলাকায়। তবে স্বামীকে খুন করে লাশ গুমের চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি তা। শেষ পর্যন্ত পুলিশের খাঁচায় তিনি বন্দি হয়েছেন।হতভাগ্য স্বামীর নাম আলী হোসেন (২৬)। তিনি মোকামের গুল এলাকায় ঘাতক স্ত্রী পারভীন আক্তার (৩৬)কে নিয়ে বসবাস করছিলেন।সোমবার বিকেলে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে পারভীনকে আটক করে সিলেট মহানগরীর শাহপরান (র.) থানা পুলিশ। এরপর পারভীনেরই দেওয়া তথ্য রাতে আলীর খণ্ডিত দেহ উদ্ধার করা হয়।আলী হোসেন গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে।সিলেট সদর উপজেলার শাহপরান থানার দাশপাড়া এলাকার সুরুজ আলীর মেয়ে পারভীন আক্তার তিন বছর আগে পাথর ব্যবসায়ী আলী হোসেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি আলীর তৃতীয় স্ত্রী।পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পারভীন বেগম দাবি করেন, তার স্বামী আলী হোসেন তিন বিয়ে করেছেন। স্বামী প্রায় সময় তাকে নির্যাতন করতেন। স্বামীর নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতেই নিজে স্বামীকে খুন করেন তিনি। ৪ নভেম্বর বুধবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় দুই কোপে স্বামীর দেহ বিচ্ছিন্ন করেন ঘাতক স্ত্রী। স্বামীর দেহের  মুণ্ডুটি পার্শ্ববর্তী একটি টিলার গর্তে পুতে রাখেন। আর মরদেহ নিজের ঘরেই পূতে রাখেন। এরপর ৫ নভেম্বর রাতে মরদেহ রশি দিয়ে টেনে নিয়ে জঙ্গলে ফেলে রাখেন।হত্যাকাণ্ডের ছয় দিনের মাথায় সোমবার মোকামেরগুল বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে আলী হোসেনের মুণ্ডুবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পারভীনকে আটককালে ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি রাম দা উদ্ধার করে পুলিশ।আলীর ছোট ভাই জমির হোসেন জানান, ৪ নভেম্বর থেকে ভাইয়ের খোঁজ পাইনি। অজ্ঞাত নাম্বার থেকে এক লোক মোবাইল ফোনে ভাইয়ের বন্ধু পরিচয় দিয়ে হত্যাকাণ্ডের কথা জানায়। যে কারণে থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি (নং-৪২৭) করি আমরা।এদিকে, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর সোমবার রাতে শাহপরান থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ফজলে মাসুদ উদ্ধারকৃত খণ্ডিত মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠান।থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে নিহতের স্বজনরা জাফলং থেকে এসে শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে পারভীন বেগমকে আটক করা হয়। আটকের পর পুলিশের কাছে স্বামী হত্যার বর্ণনা দেন তিনি।  তার দেওয়া তথ্য মতে, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির পার্শ্ববর্তী টিলা থেকে খণ্ডিত মুণ্ডু ও জঙ্গলে ফেলা মুণ্ডুবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় মরদেহের শরীর থেকে মাংস ঝরে পড়ছিল।