বৃহস্পতিবার, জুন ২৪, ২০২১ : ৮:৫৪ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

আলোচিত রাজন হত্যা মামলায় ৩ পুলিশের কি হবে?

rajonসিলেট ভিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম: সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যার বিচার রোববার শেষ হয়েছে। আলোচিত ওই মামলায় চারজন আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। কিন্তু ওই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ ওঠা তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তই শেষ হয়নি এখনো। জালালাবাদ থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) জাকির হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তারা রাজন হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। নিহত রাজনের বাবার অভিযোগ আমলে না নিয়ে মূল আসামিদের আড়াল করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন দুজনকে আসামি করে তারা মামলা দায়ের করেন এবং হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও ঘাতক কামরুলকে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। এ অভিযোগ ওঠার পর ওসি আলমগীর হোসেনকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করে তাকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। আর সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এসআই জাকির হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলামকে। ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকায় জনমনে সৃষ্ট ক্ষোভের প্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটি প্রাথমিক তদন্তে রাজন হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির ‘প্রাথমিক প্রমাণ’ পাওয়ায় গত ২৪ জুলাই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।ওসি তদন্ত পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়। অন্য দুই সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব পান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ঘটনার প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ওই তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের তদন্ত শেষ করতে পারেননি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশের একাধিক সূত্র।অভিযোগে প্রকাশ, চাঞ্চল্যকর রাজন হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল, সেকেন্ড অফিসার জাকির হোসেন ও ওসি তদন্তের দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন বিতর্কিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। জালালাবাদ থানার ওসি (অপারেশন) আখতার হোসেন ঘটনার প্রাক্কালে ছুটিতে ছিলেন।নির্মম এ ঘটনার পর নিহত রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান থানায় মামলা দিতে গেলেও পুলিশ তার মামলা নেয়নি। উল্টো এসআই আমিনুল রাজনের বাবাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। ততক্ষণে মূল আসামি কামরুল সনাক্ত হলেও এসআই আমিনুল ইসলাম নিজে বাদি হয়ে কামরুলকে বাদ দিয়ে অন্য আরো দুই ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এমনকি ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুই ব্যক্তি আজমত উল্লাহ ও ফিরোজ আলী থানায় গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন।কিন্তু পুলিশ তাদের বক্তব্য আমলে না নিয়ে উল্টো আজমত উল্লাহ ও ফিরোজ আলীকে মামলায় আসামি করে। অবশ্য, এ দুজনকেই আদালত গতকাল প্রদত্ত রায়ে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মামলার প্রত্যক্ষদর্শী ইসমাইল আলী আবরুছ নামের এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার দূরে তার বাড়ি থেকে ধরে এনে নাটক সাজানোর চেষ্টা করে পুলিশ। পুলিশ এদেরকে গ্রেপ্তার করে ঘটনায় জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালায়। গতকাল খালাসপ্রাপ্ত চার জনকেই পুলিশ ফাঁসানোর চেষ্টা করে মামলায়।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open