সোমবার, মে ১৭, ২০২১ : ১০:০২ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

নীলকে বেছে নিয়েছিলেন শান্তির আকাঙ্ক্ষায়

42833সিলেট ভিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম: গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। বর্বর সেই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবে মেনে নেওয়ার মতো নয়, মেনে নিতে পারেননি আসমা কিবরিয়া- এএমএস কিবরিয়ার স্ত্রী।বেদনার রঙ নীল, আর সেই নীল রঙ-কে একজন চিত্রশিল্পী সমাজে শান্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। স্বামী হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলেন না, শান্তির আকাঙ্খা মনে পুষে রেখেই নীরবে চলে গেলেন আসমা কিবরিয়া।এএমএস কিবরিয়া এবং আসমা কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া একজন অর্থনীতিবিদ। মেয়ে নাজলী কিবরিয়া আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করছেন।তাদের বাবা ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঈদ পরবর্তী আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন। হবিগঞ্জ-৩ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ছিলেন এএমএস কিবরিয়া। হবিগঞ্জের লস্করপুর থানার বৈদ্যেরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে ওই হামলায় মারা যান আরও চারজন।কিবরিয়া হত্যার বিচার শেষ হয়নি এক দশকেও। স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আসমা কিবরিয়া ২০০৫ সালের ৩ মার্চ শুরু করেন ‘শান্তির স্বপক্ষে নীলিমা’ ও ‘রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর’ আন্দোলন কর্মসূচি। এটি ছিল শান্তিপূর্ণ, অহিংস আন্দোলন।ব্যানারে নীল, কাপড়ে নীল, নীলকে বেছে নেওয়া হয় বেদনা হিসেবে, প্রতিবাদ আর শান্তির আকাঙ্ক্ষা হিসেবে- তখনকার গণমাধ্যমের ভাষ্যে এটা স্পষ্ট।সোমবার (০৯ নভেম্বর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান আটাত্তর বছর বয়সী আসমা কিবরিয়া।১৯৩৭ সালে জন্ম নেন আসমা কিবরিয়া। নিউইয়র্কের উন আর্ট স্কুল এবং ওয়াশিংটনের কোরকোরান স্কুলে চিত্রকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।ওয়াশিংটনে সেখানকার চিত্রশিল্পীদের সঙ্গে কাজের সূত্র ধরে বিমূর্ত ধারার চিত্রকলায় প্রভাবিত হন আসমা কিবরিয়া। ব্যাংককসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দশটি একক প্রদর্শনী হয়েছে আসমা কিবরিয়ার।একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে নীলকে ধারণ করে রাস্তায় নেমেছিলেন শান্তিপূর্ণভাবে। নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তার সতীর্থরাও। একটু পদযাত্রা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়েছিল নীলিমা আন্দোলন। নীল রঙের ব্যানার-প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুনে ছিল সব হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের দাবির কথাও।স্বামী হত্যার ঘটনা তো নয়ই, কোনো হত্যাকাণ্ডই মেনে নিতে পারেননি আসমা কিবরিয়া, সব হত্যার বিরুদ্ধে মানুষকে প্রতিবাদী করে তোলা ছিল নীলিমা আন্দোলনের উদ্দেশ্য। জনগণকে সোচ্চার করে বিবেককে নাড়া দিতেও পেরেছিলেন তিনি।কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আর এগোয়নি। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিষেধ করায় বন্ধ হয়ে যায় নীলিমা আন্দোলন। তখন এ নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলা হয়, এ আন্দোলন দেখে অনেকে রাস্তায় নামবেন। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও তা আর চালু করতে পারেননি আসমা কিবরিয়া।২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলেও পাননি আওয়ামী লীগ আমলের অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যার বিচার।স্থানীয়দের বর্ণনায় হামলার দিনে হবিগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে দেননি, অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য তো দূরের কথা হেলিকপ্টার আনতেও দেননি। একজন সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে কোনো শোক প্রস্তাব তোলেনি বিএনপি জোট শাসনামলের সংসদ।অন্যায়ের বিচার একদিন হবেই- এ প্রত্যাশা থাকলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আসমা কিবরিয়া আওয়ামী লীগের গত আমলে বলেছিলেন, আমার ভয় হয়, আমার জীবোদ্দশায় এটা (বিচার) হবে কি-না। যতোদিন যাবে বিচারের তাগিদ বিস্মৃত হয়ে পড়বে। এটাকেই আমি ভয় পাই।গ্রেনেড হামলায় শুধু শাহ এএমএস কিবরিয়া নন, তার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলীর মৃত্যু হয়, আহত হন ৭০ নেতাকর্মী।এ হামলায় হুজির নাম এলেও দীর্ঘ সময়েও এই হত্যাকাণ্ডের হোতা, পরিকল্পনাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করতে পারেনি তদন্ত দল।বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে হামলাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বিচারের অপেক্ষায় কিবরিয়া পরিবার।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open