বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০ : ১১:৩৮ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

ছাগল উন্নয়ন খামার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : সিলেট সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামার কেন্দ্রটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে । লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ছাগল না থাকায় ও লোকবল সঙ্কটে খামারটি তার উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারছে না। ফলে ছাগল খামারের ছাগল প্রজনন, সংরক্ষন সম্প্রসারণের উদ্যোগ তেমন কাজে আসছে না। শুরুতে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের জন্য হতদরিদ্র, বিধবা নারী ও ভূমিহীন জনগণের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে সে অবস্থা নেই। সিলেটবাসীকে ছাগল পালনে উদ্ভোদ্ধ করতে ও উন্নত জাতের ছাগলের প্রজনন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে সরকারী ভাবে নগরীর টিলাগড়ে ছাগল উন্নয়ন খামার স্থাপন করা হয়। ছাগল উন্নয়ন খামারের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতার ফলে ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে এই খামারটি। অফিস সূওত্র জানা যায়, ছাগলের ৮ টি সেড আছে। ৮ টি সেডের মধ্যে একটি সেড ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে ৭ টি সেডে ছাগলকে রাখা হয়েছে। সরেজমিনে ঘুঁরে দেখা যায়, খামারটিতে ছাগল পালনের ৮টি সেড থাকলেও ছাগল না থাকার কারণে ৩টি সেড অব্যবহৃতভাবে পড়ে আছে। যেখানে নথিপত্রে ৫০০ টি ছাগল উল্লেখ থাকলেও পরিদর্শনে তা দেখা যায়নি। মাত্র ২শ থেকে ২৫০টি ছাগল রেখে কার্যক্রম চালাচ্ছে সরকারি ছাগল উন্নয়ন খামারের কর্মকর্তারা। তাই ইচ্ছে মতো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে তারা। রবিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ছাগল উন্নয়ন খামারের অফিসে তালা ঝুলানো। কোনটিতে তালা ঝুঁলিয়ে রাখা হলেও কোনটিতে কোন তালা দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, বড় বাবুরা সময় মতো অফিসে আসে না । তারা অফিসে আসলেও কিছু সময় থেকে আবার চলে যায়। প্রতি সপ্তাহে তারা ৩-৪ দিন আসে। আর বাকি দিনগুলো অফিসে তালা ঝুলানো থাকে। স্বরজমিন আরো দেখা যায় , খামার কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ,অবহেলা ,অযতেœ খামারে পালিত ছাগল গুলো রোগে ভূগে শুকিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের কয়েকজন বলেন,কর্মকর্তারা ছাগলের উন্নয়নের নামে ও নানা অযুহাতে সরকারী সম্পদ লুটপাট করে চলছে। এমনকি,খামারের হিসাব রক্ষক আলমগীর হোসেন ছাগলের জন্য সরকারীভাবে বরাদ্ধকৃত মাসিক টাকা দীর্ঘ দিন থেকে আত্বসাত করে চলছে । শুধু তাই নয়, সরকারী ভাবে প্রাপ্ত ছাগলের ঔষধ,খাদ্য ,ব্যাক্সিন ইত্যাদি স্থানীয় খামারিদের কাছে বিক্রি করে যাচ্ছে। খামারটিতে ছাগল পালনের ৮টি সেড থাকলেও ছাগল না থাকার কারণে বাকি সেড গুলো গাছ কেটে গাছের বল্লি রেখে পূর্ন করে রেখেছে। খামারের উন্নয়ন নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই। প্রতিবছর ছাগলগুলো বাচ্চা দিলেও নানা কারনে অধিকাংশ বাচ্চা মারা যায়। এতে খামারে ছাগলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এ খামারে আয়ের চাইতে ব্যায় বেশি। ফলে প্রতি বছর এ খামারে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা লুকসান হচ্ছে। তারা আরও বলেন, এ খামারে নিয়মিত তদারকি ও বাৎসরিক অডিট না আসার ফলে এ খামারটি আজ ধ্বংস হয়ে গেছে। এব্যপারে হাঁস মুরগী খামারের সহাকারি পরিচালক ও ছাগল উন্নয়ন খামারের অতিরিক্ত পরিচালকের দায়িত্বে কামরুজ্জামান বলেন, কয়েকদিন হয় আমি দায়িত্ব পেয়েছি। এই খামারের পরিচালক ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে গেছে। আর ছয় মাসের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমাকে। ছাগল বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নথিপত্র অনুযায়ী এই সেডে সব ছাগলগুলো আছে। আর ১টি সেড ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে এই সেডটি ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে  জানান।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open