সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২০ : ১:১৮ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

জাতিসংঘের পুরির বাড়ি কুলাউড়া

 সিলেট ভিউজ টুয়েন্টিফোরডটকম :   মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার গ্রামীণ হাট রবিরবাজার। রবিরবাজার থেকে পূর্বদিকে একটি পাকা সড়ক গেছে। সেই সড়কের কিছুদূর পর বাম দিকে একটি ইট-বিছানো পথ গেছে ঘরগাঁও গ্রামে। দু-একজনকে নাম বলতেই তাঁরা ঝটপট ‘ও জাতিসংঘের পুরির (কন্যা) বাড়ি’ বলে বাড়িটি দেখিয়ে দিলেন। বাড়িতে ঢোকার রাস্তাটি চিকন। এঁদো পুকুরের পাড়ে একচিলতে উঠোন পেরিয়ে মাটির ঘর। এই বাড়িতে বিদ্যুতের আলো নেই। কিন্তু পরিবারের আলো হয়ে এখন চারদিক আলোকিত করছে মণি বেগম। কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সুলতানপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ঘরগাঁও গ্রামের মহরম আলী ও হাওয়ারুন বিবির ছয় সন্তানের সবার ছোট। ‘তাকে বাড়তে দাও’ স্লোগান নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক গিয়েছিল। আট দিন জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সুস্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচা, লিঙ্গ-সমতা ও বৈষম্য বিষয়ে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট মানুষদের সামনে বক্তৃতা দিয়েছে। দেশে ফিরেছে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। সেই ঘোরটি তার চোখেমুখে এখনো সতেজ। মণি বেগম বলে, ‘আমি অনেক খুশি। এটা স্বপ্নের ও বাইরের ঘটনা। যা চাইনি, সেটা হঠাৎ পেয়ে গেছি। প্লেনে চড়েছি। স্কুলে স্ট্যাচু অব লিবার্টির ছবি দেখে ভাবতাম, যদি ওখানে যেতে পারতাম। সেটা সরাসরি দেখে এসেছি। আমার অসম্ভব ভালো লাগছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের অটোগ্রাফ নিয়েছি। তিনি আমার দেশ কোথায় জানতে চেয়েছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে কীভাবে লিঙ্গবৈষম্য দূর, বাল্যবিবাহ ও শিক্ষা থেকে মেয়েদের ঝরে পড়া রোধ করা যায়, এ নিয়ে প্রশ্ন করেছি।’ পৃথিবীর অনেক বিখ্যাতজনের কথা এখন মণির ঝুড়িতে। যাঁদের অনেকের নাম মনে নেই। মণি সপ্তম শ্রেণি থেকে ব্র্যাকের সুলতানপুর ট্রাস্ট ক্লাবের কিশোরী নেত্রী। কিশোরী ক্লাবে কথা বলতে বলতেই বক্তব্য রাখার সাহস অর্জন। আহছানিয়া মিশনের সহযোগিতায় সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশের সব শিশুর প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিল। জাতিসংঘ থেকে ফিরে তার মাথায় এখন দুনিয়া বদলানোর অনেক ভাবনা। তার কথায়, ‘বাল্যবিবাহ রোধে আমি এখন একাই একশ। আমার গ্রামে, দেশে বাল্যবিবাহ রোধ, কোনো মেয়ে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়বে না। এ নিয়ে কাজ করতে চাই।’ তার সঙ্গে ছিল আরও ১৯ দেশের প্রতিনিধি। একে অন্যের ভাষা ভালো বোঝে না। তবু সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। এত দূর আসার জন্য মণি তার মা-বাবা, স্কুলের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। সে বড় হয়ে পাইলট বা আইনজীবী হতে চায়। পাশাপাশি গানও গাইবে। মণির মা হাওয়ারুন বিবি বলেন, ‘আমার মেয়ে যে এতটুকু করেছে। খুব খুশি। আমি চাই ও দেশের কাজে লাগুক।’
নিউইয়র্কসহ পাঁচটি স্থানে সংবর্ধনা পেয়েছে মণি। মাটির কুঁড়েঘর থেকে জাতিসংঘ, এই অর্জন তাকে দিয়েছে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সাহস, উদ্যম। এমনটাই তার অভিব্যক্তিতে প্রকাশ।
সৌজন্যেঃ প্রথম আলো

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open