রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২০ : ৩:৫৯ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের ১৩ লিফটের ৬টি বিকল বাকিগুলো চলছে ধুঁকে ধুঁকে

সিলেট ভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : গুরুতর অসুস্থ রোগিকে স্ট্রেচারে নিয়ে লিফটের সামনে অপেক্ষমান তার স্বজনরা। লিফট নামার নাম নেই। কোথায় যেন আটকে আছে, ত্যক্ত বিরক্ত আর নিরুপায় হয়ে লিফটের দরজায় একের পর এক আঘাত করতে থাকলে হঠাৎই ঘটাং করে নেমে আসে লিফট। সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের লিফটের চিত্র এটি। হাসপাতালের অবশিষ্ট কয়েকটি লিফট চলছে এরকম ধুঁকে ধুঁকে। বাকিগুলো বিকল। সেগুলোর কোনোটির দরজায় লাল কালিতে ক্রশ এঁকে বুঝানো হয়েছে এটি বিকল আবার কোনোটিতে দেয়া হয়েছে রডের বেড়া। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে এখানে লিফট আছে প্রায় ১৩ টি। এরমধ্যে ৬টিই চলে না।
সরেজমিনে দেখা যায়; ২, ৪, ৭, ৮, ৯ এবং ১০ নম্বর লিফট অচল রয়েছে। এর মধ্যে ৪, ৭ ও ৮ নম্বর লিফটের উপরে লাল রঙ দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেয়ার পাশাপাশি লিফটের ঠিক মধ্যখানে লোহার পাত দিয়ে ঝালাই করে বন্ধ রাখা হয়েছে। যে লিফটগুলো সচল রয়েছে এর মধ্যে কোনোটিরই কল বাটন কাজ করেনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর চৌহাট্টাস্থ সদর হাসপাতাল থেকে ১৯৩৮ সালে এ মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়। তখন এটি ছিল প্রাতিষ্ঠানিক হাসপাতাল। ১৯৪৮ সালে মেডিকেল স্কুল এবং ১৯৬২ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত হয়। ১৯৭৭ সালে হাসপাতালটি বহুতল ভবন করে কাজলশাহ এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ওই সময় হাসপাতালের মূল ভবনে ১৩টি লিফট স্থাপন করা হয়। ১৯৮৬ সালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে এ মেডিকেল কলেজের নামকরণ করা হয়। বর্তমানে অচল ও সচল মিলিয়ে এ হাসপাতালে সমান সংখ্যক লিফট থাকলেও গত ৩৮ বছরে কোনো নতুন লিফট স্থাপন করা হয়নি। যার মধ্যে ২টি লিফট বিকল রয়েছে এক যুগ থেকে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১৩টি লিফটের মধ্যে ৬টিই অচল।
হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা সূত্র জানায়, লিফট সচল এবং অচলের বিষয়টি প্রশাসনিক শাখা দেখে না। দীর্ঘদিন থেকে অর্ধেক সংখ্যক লিফট বিকল রয়েছে জানিয়ে কর্মকর্তারা জানান, ‘১৯৭৭ সালের পরে হাসপাতালে নতুন কোনো লিফট স্থাপন করা হয়নি। ওই সময় ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট ছিল এ হাসপাতাল। তখন রোগীর চাপও কম ছিল। যে রোগী গুরুতর অসুস্থ তাকে তাৎক্ষণিক লিফট দিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়েছে। ২০০৩ সালে হাসপাতাল ৯শ’ শয্যাবিশিষ্ট করা হয়। কিন্তু লিফট ১৩টি থেকে যেমন বাড়ানো হয়নি, তেমনি বাড়ানো হয়নি হাসপাতালের লোকবলও। বর্তমানে ৯শ’ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে প্রায় ২ হাজারের উপরে রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। অবশ্য অচল লিফটগুলো সচল করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তারা জেনেছেন।’
কথা হয় হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের পাশের ভবন গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনকারী উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) মো. সুন্দর আলীর সাথে। তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান, ‘২০১৩ সালের দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিকল ৩টি লিফট সংস্কার ও নতুন ২টি লিফট স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু এখনও বরাদ্দ আসেনি।
তিনি বলেন, ৪, ৭ ও ৮ নম্বর লিফট একযুগ থেকে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। বাকি লিফটগুলো সচল রয়েছে। যাত্রী সেবা প্রদানের সময় যদি কোনো লিফট বিকল হয় আমরা সাথে সাথে তা সংস্কার করি। কোনো কোনো লিফটে বড় ধরণের সমস্যা দেখা দিলে সংস্কারে ২ থেকে ৩দিন সময় লাগে। অচল লিফটগুলো কবে সংস্কার করে সচল করা সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভর করে। মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দিলেই অচল লিফট সচল করা সম্ভব হবে।’
সুন্দর আলী বলেন, ‘রোগী বহনকারী লিফটে রোগীসহ ১০ থেকে ১২ জন যেতে পারেন। ওই লিফট ১২শ’ ৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে। আর হাসপাতালে আগমন করা আরোহীদের যে লিফটে সেবা দেয়া হয় ওই লিফট ১ হাজার কেজি ওজন বহন করতে পারে। ওই লিফটে ৬ থেকে ৮ জন লোক সেবা নিতে পারেন।’
 

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open