শুক্রবার, জুলাই ২৩, ২০২১ : ৩:২০ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সিলেট-২ আসনে তিন চৌধুরীর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

সিলেট-২ আসন ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ ও বিশ্বনাথে তিন চৌধুরীর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। দল ও প্রশাসনে একক আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় ক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সিলেট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার মধ্যে এ দ্বন্দ্ব বিরাজ করেছে। বিগত সময়ে তিন চৌধুরীর দ্বন্দ্ব ভেতরে ভেতরে থাকলেও সম্প্রতি এ তিন নেতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে প্রশাসনিকভাবে একজন আরেকজনকে ঘায়েল করতে পিছপা নেই। বিশেষ করে ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ ও বিশ্বনাথের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মধ্যে শফিকুর রহমান চৌধুরী এবং আনোয়ারুজ্জামানের দ্বন্দ্বের কারণে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। তাদের দ্বন্দ্বে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে চলছেন।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেট-২ আসন ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ ও বিশ্বনাথে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে প্রচার শুরু করেন। এ সময় শফিকুর রহমানের হাতে হাত ধরে আরেক যুক্তরাজ্য কমিউনিটি নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী শফিকুর রহমানের পক্ষে এ আসনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে দলীয় মনোনয়ন আদায়ে দেশে-প্রবাসে লবিং থেকে শুরু করে ২০০৮ সালে শফিক চৌধুরীকে নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন শফিকুর রহমান ও আনোয়ারুজ্জামান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এম ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিকুর রহমান চৌধুরী। শফিকুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দু-তিন বছর শফিকুর রহমানের সঙ্গে আনোয়ারুজ্জামানের সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু ৫ বছরের শেষের দিকে হঠাৎ করে কোনো এক অদৃশ্য কারণে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। দুজনই চলতে থাকেন নিজ নিজ গতিতে, দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দুজনেই বিভক্ত হয়ে পড়েন। শুরু হয় শফিক চৌধুরী ও আনোরুজ্জামান চৌধুরীর মধ্যে গ্রুপিং। আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার মধ্যে বিভক্তি শুরু হলেও তা প্রকাশ্য রূপ নেয়নি। বিগত উপজেলা নির্বাচনে বালাগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয় দলীয় কোন্দল। আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান বালাগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান মফুর ও শফিকুর রহমানের একান্ত ঘনিষ্ঠ সহচর বালাগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনহার মিয়া। এতে মোস্তাকুর রহমান মফুরের পক্ষ নেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ তার অনুসারীরা। সিলেট জেলা,
ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা সভা করে শেষ পর্যন্ত মোস্তাকুর রহমান মফুরকে বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য থাকলেও সে সময় শফিকুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীর অনেকই মোস্তাকুর রহমানকে মেনে নিতে পারেননি। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মফুরের ভরাডুবি হয়, বিএনপির প্রার্থী আবদাল মিয়া জয় লাভ করেন। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান মফুর ও আনোয়ারুজ্জামানসহ তার অনুসারীরা প্রকাশ্যে সভা করে উপজেলা নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য শফিকুর রহমান ও তার ঘনিষ্ঠজন আনহার মিয়াসহ শফিকুর রহমানের অনুসারীদের দায়ী করেন। শুরু হয় আনোয়ারুজ্জামান গ্রুপের বৃহৎ আকারে যাত্রা। ২৫ জানুয়ারি ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শফিকুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী আতাউর রহমান ও আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরাজিত হন আনোয়ারুজ্জামান সমর্থিত প্রার্থী তৎকালীন কমিটির সভাপতি কবির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবদাল মিয়া। এর পর থেকে শুরু হয় বর্ধিত কলেবরে আনোয়ারুজ্জামান গ্রুপ ও শফিকুর রহমান গ্র“পের মধ্যে প্রকাশ্যে দলীয় কোন্দল। ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দুদলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। তিন উপজেলার স্থানীয় নেতাকর্মীরা আনুয়ারুজ্জামান ও শফিকুর রহমানকে নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
ইতিমধ্যে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট-২ আসনে তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। এ লক্ষ্যে তিনি এ আসনের তিন উপজেলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।এদিকে সিলেট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার সঙ্গে এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমানের দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে এ আসনের তিন উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন এহিয়া চৌধুরীর করার কথা থাকলেও শফিকুর রহমান চৌধুরী বাধা প্রদান করে ক্ষমতার জোরে নিজেই উদ্বোধন করছেন। বিগত কয়েক দিন ধরে ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ ও বিশ্বনাথে পল্লী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ এহিয়া চৌধুরীকে পাশ কাটিয়ে তিনি উদ্বোধন করছেন। সম্প্রতি বিশ্বনাথে এহিয়া চৌধুরীর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভামঞ্চ ভাংচুর করেন শফিকুর রহমানের অনুসারীরা। এসব কারণে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী বলেন, আমার আসনে উন্নয়ন কাজ তার নিজস্ব গতিতে চলছে। কে উদ্বোধন করছে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। জনগণ আমাকে সংসদে পাঠিয়েছে। আমি তাদের জন্য কাজ করে যাব।
আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি এ আসনে প্রার্থী হব। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব।
শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার সঙ্গে আনোয়রুজ্জামানের দ্বন্দ্ব কি নিয়ে সেটা আমার চেয়ে তিনি বেশি জানেন। এ আসনে আনোয়রুজ্জামানের নির্বাচন করার ঘোষণার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নির্বাচনের যোগ্য হলে নির্বাচন করুন। আনোয়ার ও তার পরিবার দলের জন্য এবং এলাকার মানুষের জন্য কি করেছেন সেটা সবার জানা।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open