শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ : ৪:২৯ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

অদ্ভুত এক দেশ: যেখানে রাজধানী ও রাজনীতি নেই (ভিডিও)

শিরোনাম দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। কিন্তু অবাক হওয়ার কিছু নেই। পৃথিবীর বুকে এমন একটি দেশের অস্তিত্ব রয়েছে। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র এটি। দেশটির নাম ‘নাউরু’।

এক নজরে নাউরু:
    দেশের নাম : রিপাবলিক অব নাউরু
    জনসংখ্যা : ১৩ হাজার
    রাজধানী : কোনো রাজধানী নেই
    আয়তন : ৮ বর্গমাইল
    প্রধান ভাষা : নাউরুয়ান ও ইংরেজি
    প্রধান ধর্ম : খ্রিষ্টান
    মুদ্রা : অস্ট্রেলিয়ান ডলার
   
অবস্থান ও কর্তৃত্ব:
নাউরু নিরক্ষরেখার ২৬ মাইল দক্ষিণে ডিম্বাকৃতির ছোট দ্বীপ। এর আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি’র ১০ ভাগের ১ ভাগ। চার দিকে রয়েছে প্রবাল প্রাচীর। ভূমির গড়ন পাহাড়ি। উঁচনিচু এবড়ো-খেবড়ো। চার দিকে বালুময় সমুদ্র সৈকত। ‘নাউরু’র একদিকে রয়েছে চীন এবং অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু দ্বীপ। আশেপাশের অন্য দেশ বলতে রয়েছে জাপান, অস্ট্রেলিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ড। তবে এই দেশগুলোর দূরত্ব ‘নাউরু’ থেকে অনেকখানি। তবে তাদের সরাসরি প্রভাব রয়েছে এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটিতে। নাউরুর বাজেট নির্ধারণ করা হয় অস্ট্রেলিয়া থেকে এবং নাউরুতে অস্ট্রেলিয়ান মুদ্রার প্রচলন রয়েছে। এথেকেই বোঝা যায় বর্তমানে নাউরুতে অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। নিজেদের কোনো সামরিক বাহিনীও নেই। নিরাপত্তার বিষয়গুলো অস্ট্রেলিয়াই দেখে।

জনসংখ্যা ও জাতি:
৮ বর্গমাইল এই দ্বীপটিতে ১৩ হাজার মানুষের বসবাস। এদের প্রধান ধর্ম খ্রিষ্ট হলেও এরা দুটি জাতিতে বিভক্ত। একটি হলো ‘মাইক্রোনেশিয়া’ ও অপরটি ‘পলিনেশিয়া’। জনসংখ্যার ৫৮ শতাংশ নাউরুয়ান। ২৬ শতাংশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্যান্য দ্বীপের। চাইনিজ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত রয়েছে যথাক্রমে ৮ শতাংশ করে। ইংরেজি ভাষার প্রচালন রয়েছে ব্যাপকভাবে। সরকারি ভাষা নাউরুয়ান। নাউরুর মানুষ বিশ্বের সবচেয়ে মোটাসোটা। ৯০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রয়োজনাতিরিক্ত মোটা। দেশটিতে ডায়াবেটিসের হারও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি। মানুষের জীবনাচরণে এখন সম্পূর্ণ পশ্চিমাদের অনুকরণ পরিলক্ষিত হয়। শিক্ষাদীক্ষায় অনুন্নত রয়ে গেছে।

নেই কোনো রাজধানী নেই কোনো রাজনীতি:
সত্যিকার অর্থেই দেশটির কোনো ঘোষিত রাজধানী নেই। আর রাজনীতি বলতে আমরা যা বুঝি তার বিন্দুমাত্র লেশ দেশটিতে নেই। তবে হ্যা ওখানেও নির্বাচন হয় এবং সরকার গঠন করা হয়। তবে কিভাবে? ১৩ হাজার জনসংখ্যার দেশটিতে প্রভাবশালী মানুষগুলো একে অন্যের পরিচিত। সরকার গঠনে মূল ভূমিকা পালন করে আত্মীয়তা। নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়। এ কারণে রাজনৈতিক দল গঠন ও বিকাশ হয়নি। তবে একেবারে কোনো ধরনের রাজনৈতিক দল ‘নাউরু’তে নেই সে কথাও বলা যাবে না, আবার আছে তাও বলা যাবে না। কেননা গঠন ও কার্যক্রম প্রচলিত রাজনৈতিক দলের মতো নয়। তাই এগুলোকে সেই অর্থে রাজনৈতিক দল বলা যাবে না। ‘নাউরু’তে স্থানীয়ভাবে তিনটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এগুলো হলো – ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, নাউরু ফার্স্ট ও সেন্টার পার্টি।

শাসন ব্যবস্থা:
রাজধানী কিংবা রাজনীতি না থাকলেও দেশটির নিজস্ব একটি শাসন ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে নিজস্ব একটি সংসদ। এই সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা ১৮টি। প্রতি তিন বছর পর পর এই সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাভুটির মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের মধ্যে একজনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়। রাজনৈতিক দল না থাকায় যে ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা, তা হয় না। এর প্রধান কারণ গোষ্ঠী আর আত্মীয়তা রাজনৈতিক অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে।

১৪টি বিভাগে ভাগ করে শাসনকাজ পরিচালনা করা হয়। বিচার আর প্রশাসনিক ইউনিটগুলো মূলত বিভাগীয় কেন্দ্রগুলোতে বিন্যস্ত করে দেয়া হয়েছে। দেশটিতে নেই কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতক দল। এখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা কায়েম রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে দেশে ১৭টি সরকারের পতন হয়।

 ভিডিও দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

চীনে টর্নেডো-শিলাবৃষ্টিতে ৯৮ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশে টর্নেডো ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে কমপক্ষে ৯৮ জনের মৃত্যু …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open