বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০২০ : ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

কিরণমালা ও সোনাক্ষ্মীতে মজেছে বরিশালের ঈদ বাজার

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : কিরণমালা, সোনাক্ষ্মী, বধূ সাজ, উদাসীমন, ফ্লোরটাচ, পাখি, পামেলার মতো বিদেশি বাহারি নামের পোশাক বরিশালের বিপণী বিতান ও মার্কেটগুলো দখল করে রেখেছে। বিত্তবান তরুণীদের কথা মাথায় রেখে অভিজাত বিপণী বিতানগুলোর বেশিরভাগ অংশ জুড়ে এ ধরনের পোশাক শোভা পাচ্ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে নগরীর মার্কেটগুলোতে। পরিবারের সবার জন্য পছন্দমতো কেনা-কাটা করতে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে চষে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা। এ সুযোগে বিক্রেতারাও হাঁকছেন আকাশ ছোঁয়া দাম। তবে গত দু’দিন বৈরী অবহাওয়ার কারণে মার্কেগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা কম লক্ষ্য করা গেছে। অভিজাত বিপণী বিতানগুলোর মালিকরা জানান, এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত বেচা কেনা শুরু হয়নি। তাদের দাবি গতবারের তুলনায় এবার এসময়ে বিক্রি একেবারেই কম। এবার রোজা শুরুর দিকে টানা বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে গেছে তাদের বেচা বিক্রি। গত দু’দিনেও থেমে থেমে ভারী বর্ষণ হয়েছে। এ কারণে ক্রেতাদের ভিড় কমে যাওয়ায় বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। তবে কোনো কোনো ব্যবসায়ী বলেছেন, মধ্য রোজা থেকে কিছু বিক্রি শুরু হয়েছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, বিক্রি ততই বাড়ছে। বিপণী বিতানগুলোর বিক্রেতারা জানান, এবারের ঈদ বাজারে নারীদের জন্য ভারতীয় বাহারি নামের আকর্ষণীয় পোশাকের সম্ভার রয়েছে। ভারতীয় বিভিন্ন টেলিভিশন সিরিয়ালের বদৌলতে দেশীয় পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ নেই। এ কারণেই সিরিয়াল দেখে শুধুমাত্র নামের আকর্ষণে তরুণীরা ভারতে তৈরি পোশাক বেশি কিনছেন। আড়াই হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এসব পোষাক। ক্রেতারা বলছেন, তারা ঘুরে ঘুরে বাজার যাচাই করছেন, তারপর পছন্দের পোশাক কিনছেন। দাম কিছুটা বেশি হলেও তা সাধ্যের বাইরে নয়। কেনাকাটা করতে আসা তরুণীরা জাগো নিউজকে জানান, দেশে তৈরি পোশাক সেভাবে আকর্ষণীয় নয়। তাই টাকা বেশি খরচ হলেও বাহারি নামের এসব পোশাক কিনছেন তারা। এবার ছেলেদের জন্য ১ থেকে ১৫ হাজার টাকায় রাজশাহী সিল্ক পাঞ্জাবি, ইন্ডিয়ান কিউজি পাঞ্জাবি, খদ্দর পাঞ্জাবি, সুতি পাঞ্জাবি, এনডি সিল্ক পাঞ্জাবি এবং সেরওয়ানি পাওয়া যাচ্ছে। আর ৮শ থেকে ৪ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শার্ট। এছাড়া ২ থেকে ৮ হাজার টাকায় মেয়ে শিশুদের ওয়েস্টার্ন সেট, পার্টি ফ্রোক, মিডি, লাছা, টপস, স্কার্ড এবং ছেলে শিশুদের জন্য ১ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় বাবা সেট, বয়েজ গেঞ্জি, থ্রি-কোয়ার্টার, ফোর কোয়ার্টার, কোটি শার্ট এবং বিশেষ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নামানুসারে মোদি কোর্টের বেশ চাহিদা রয়েছে। অপরদিকে, নগরীর স্বর্ণের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। স্বর্ণালঙ্কার কিনতে বা গড়াতে তারা ভিড় করছেন। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা নগরীর মহসিন মার্কেট, বহুমুখী সিটি মর্কেটসহ ফুটপাতের দোকানগুলো। এসব দোকানের বিক্রেতারা বলছেন, কমদামে পছন্দের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে বলে নিম্ন আয়ের মানুষ ভিড় করছেন ফুটপাতের দোকানে। এ বাজারের সব পোশাকই দেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। কমদামে স্বল্প বাজেটে পরিবারের সবার জন্য পোশাক কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। বড় দোকান থেকে বিদেশি পোশাক কেনায় কোনো আক্ষেপ নেই বলেও জানিয়েছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। এদিকে, এবারের ঈদ বাজারে নিরাপত্তা এবং বখাটের উৎপাতের অভিযোগ করেছেন নারী ক্রেতারা। তাদের দাবি, নগরীর গীর্জা মহল্লা, কাঠপট্টি ও চকবাজার এলাকায় বখাটের উৎপাত বেড়েছে। এদের কঠোর হস্তে দমন করা না হলে ঈদ বাজারে বখাটের উৎপাত সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। তবে ঈদ বাজারের নিরাপত্তা এবং বখাটের উৎপাত রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন। টহল বৃদ্ধি এবং সাদা পোশাকে নজরদারীসহ ঈদ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। এছাড়া বখাটে ধরতে নারী পুলিশ সদস্যদের সাদা পোশাকে টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open