বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০ : ৭:৩৪ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

নগরীতে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট ঈদের বেচাকেনা

বিপ্লব রায় : ঈদের বাকি আর মাত্র ২ দিন । সময় যতো ঘনিয়ে আসছে ঈদের বেচাকেনা ততোই জমজমাট হচ্ছে। তাই সবাই এখন ব্যস্ত কেনাকাটায়। প্রতিটি বিপণিবিতানই ক্রেতার ভিড় লক্ষনীয়। এর ব্যতিক্রম নয়  সিলেট নগরীর অভিজাত বিপণিবিতান গুলোতেও। ব্যবসায়ীরা হাট শেষে বিপনী বিতানগুলো ঢেলে সাজিয়ে নিয়েছেন। ক্রেতারাও ঈদের কেনা-কাটায় মত্ত। তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। মুসলিম উম্মাহের  প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিলেটের ঈদের বাজার সেজেছে নানা ঢং-এ। মার্কেট গুলোতে ক্রমশ ক্রেতার ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে বিপণী বিতান, টেইলার্স ও লেডিস কর্নারগুলোতে বেশি ভিড় পরিলতি হচ্ছে। গত শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় ঈদের বাজারে ছিলো  জমজমাট। ঈদ ঘনিয়ে আসায় দিন রাত সমান তালে চলছে কেনাকাটা । সন্ধের পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মার্কেট গুলোতে ভালো বেচা-কেনা করেছেন ব্যাবসায়ীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর সিটি সেন্টার, মিলেনিয়াম, কাকলী, ব্লু-ওয়াটার, আল-হামরা, সিলেট প্লাজা, মধুবন, শুক্রিয়া মার্কেট, আড়ং , মাহা, লা-রিভ, কাশিস এবং কুমার পাড়া রোডের বিপণিবিতান গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। রঙ-বেরঙের বাহারি ডিজাইনের পোশাক শোভা পাচ্ছে সবখানে । এ বছর ‘কিরণমালা’ ও ‘ফোরটাচ’ নামের পোশাক মেয়েদের সেরা পছন্দে স্থান পেয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানীরা। গত বছর বাজারে ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের নায়িকার নামানুসারে ‘পাখি’ থ্রি-পিচ ছিল আকর্ষণীয়। এ বছরও অনুরূপ ‘কিরণমালা’ এবং ‘ফোরটাচ’ থ্রি-পিচ বাজারে এসেছে। বিক্রেতারা জানান, ভারতীয় সিরিয়াল কিরণমালার নামের পোশাকটিতে সাধারণত লম্বা সালোয়ার-কামিজের ওপর কটি থাকে। নিচে ঘের দেওয়া থাকে। এর সঙ্গে থাকে ফলস, সামনে-পেছনে নকশা, দুই পাশে দুটি ঝুমকা। বিক্রেতারা জানান, এ পোশাকের দাম ৩ হাজার থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা।
কিরণমালা ছাড়াও সিলেটের ঈদ বাজারে তরুণীদের জন্য আরও আছে ‘রাজকুমারী’, ‘ইচ্ছে নদী’, ‘ছুয়ে দিলে মন’, ‘জলকন্যা’, ‘বউ কথা কও’, ‘পাতালপুরি’, ‘পাখি রিটার্নস’সহ নানা ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ও এর নায়িকাদের নামের পোশাক। তাছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে শিশুদের পোষাকের নামকরন করা হয়েছে। কিশোরদের জন্য ‘দাবাং’ ও ‘পাগলু’ নামে পোশাক আনা হয়েছে। ঈদের বাজারে শাড়িতেও ভারতীয় সিরিয়ালের দাপট লক্ষ করা যাচ্ছে। নগরীর শাড়ির দোকানগুলো ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এবার তারা ক্রেতার জন্য ‘রেশম কা জরি’, ‘রাধিকা’, ‘জারা জারা’ ইত্যাদি নামে ভারতীয় শাড়ি দোকানে তুলেছেন। এ শাড়িগুলোতে পাথর ও চুমকির ভারি কাজ করা রয়েছ। কায়ালীটি অনুযায়ী এসব শাড়ি ৫ হাজার থেকে ৯৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। রেশমি চুড়ি আর প্রসাধনীর দোকানগুলোতেও ঈদের প্রভাব পড়েছে। তরুণীরা তাদের পছন্দের পোষাকের সাথে মিল রেখে তা ক্রয় করছেন। ঈদ বাজারে জুতার দোকানগুলোতে বিভিন্ন বয়সী ক্রেতার সমাগম দেখা যায়। বাটা, এপেক্স, লটোসহ অন্যান্য ব্রান্ডের শো-রুমে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখে বিক্রেতারা একটু নড়ে-চড়ে বসেছেন। বছরে দু’বার ঈদ আসে। এই ঈদগুলোতে সামর্থ অনুযায়ী মুসলমানরা নতুন পোশাক কেনেন। নতুন পোষাকের আনন্দ ঈদের আনন্দকে বহুগুন বাড়িয়ে তোলে। ঈদ হয়ে উঠে অপার আনন্দের মহামিলন। তবে এবার কেনাকাটা করতে এসে তেমন ভোগান্তি পোহাতে হয়নি বলে জানান ক্রেতারা। বান্ধবীদের নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মাসুমা আক্তার। তিনি সুরমা টাইমসকে বলেন, ‘পোশাকের জন্য প্রথম পছন্দ অভিজাত বিপণিবিতানগুলো। সর্বশেষ কালেকশন ও ডিজাইনের পোশাক পাওয়া যায় এখানে। তাই প্রতিবছরই আসা হয় কেনাকাটা করতে। বিপণিবিতানের বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ও দোকানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে বিভিন্ন দামের শার্ট বিক্রি হচ্ছে। শার্ট বিক্রি হচ্ছে এক থেকে চার হাজার টাকায়। পাঞ্জাবি রয়েছে দেড় থেকে নয় হাজার টাকা দামের। প্যান্ট আছে এক থেকে তিন হাজার টাকা দামের। একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন সুরমা টাইমসকে বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন ডিজাইনের প্রচুর কালেকশন রয়েছে। তার থেকে পছন্দের পোশাকটি বেছে নেওয়া যায়। দামও নাগালের মধ্যে থাকে। সোনামণিদের পোশাকের দোকানগুলোতে উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। নাজনিন আক্তার নিয়ে এসেছিলেন ছয় বছরের ছেলেকে। তিনি নিরাপদ সুরমা টাইমসকে বলেন, ‘বাচ্চারা যে পোশাকটি পছন্দ করে, দোকানিরা তার বেশি দাম নেয়। বাচ্চার আবদার মেটাতে বেশি দাম দিয়ে পোশাক কিনতে হচ্ছে। দাম বেশি হলেও ঈদের বাচ্চার খুশিটাই বড়। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বেশ বেচাকেনার আয়োজন দেখা যায়। নগরীর বন্দরবাজার থেকে আম্বারখানা পর্যন্ত পুরো ফুটপাত এখন হকারদের দখলে। ঈদকে সামনে রেখে তাদের বেচাকেনায় কোন ঘাটতি নেই। সেখানে ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে  নানা কৌশল চোখে পড়ার মতো। বড় বড় মার্কেটগুলোতে ক্রেতা আকর্ষণের জন্য নানা রকম কুপনের মাধ্যমে আকর্ষণীয় পুরস্কারের আয়োজন করা হয়েছে। নতুন নতুন ডিজাইনের পোষাক আর রকমারি সাজসজ্জায় পুরো সিলেট এখন কেনাকাটার ব্যস্ত নগরী।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open