বৃহস্পতিবার, জুন ২৪, ২০২১ : ৯:২৮ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

এমবিএ করা অসম্ভব সুন্দরী যখন পাক্কা গাড়িচোর!

ফরসা ছিপছিপে গড়ন।  কেতাদুরস্ত স্যুট আর সোনার গয়নায় মোড়া রীতিমতো সুন্দরী এমবিএ পাস মেয়েটিকে দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হন।  কিন্তু ঘূণাক্ষরেও তারা টের পান না, যুবতীই যে ভারতের উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত গাড়ি চুরি চক্রের হোতা।

গত কয়েক বছর ধরে উত্তরপ্রদেশ এবং এনসিআর-এ চুরি গেছে কয়েকশ’ বিলাসবহুল গাড়ি।  তদন্তে নেমে পুলিশ এক বিশাল অপরাধ চক্রের সন্ধান পায় কিন্তু কিছুতেই তার প্রধানের হদিশ মেলে না।

বোঝা যায়, দুষ্কৃত চক্রের পেছনে রয়েছে ক্ষুরধার মস্তিষ্ক।  দাগি অপরাধীকে পাকড়াও করতে পারলে নগদ ১০,০০০ পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। অবশেষে লাগাতার ২ বছর তল্লাশির পর সম্প্রতি তার নাগাল পেয়েছে এলাহাবাদ পুলিশ।  কিন্তু গ্রেপ্তারের পর তার মুখোমুখি হয়ে হতবাক গোয়েন্দারা।  অসম্ভব সুন্দরী, এমবিএ পাস তরুণী শ্বেতা গুপ্তা-ই গাড়ি চুরির পেছনে মূলহোতা?

কানপুরের বাসিন্দা শ্বেতা আদতে মেধাবী ছাত্রী ছিলেন।  এমবিএ পাস করার পর বেশ কয়েকটি সংস্থায় তিনি চাকরি করেন।  এরপর চাকরি ছেড়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি কেনা-বেচার ব্যবসা ফাঁদেন।  কম দামে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি কিনে তা সারিয়ে ফের বিক্রি করে কয়েক বছরে বেশ কিছু অর্থ উপার্জন করেন তিনি।

কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে শেষে অন্ধকার জগতের হাতছানিতে সাড়া দেন। পুলিশের বক্তব্য, প্রথমে একাই গাড়ি চুরি করতেন শ্বেতা। পরে পেশা জমে উঠলে গাড়ি চুরি করতে তৈরি করেন দল।  ক্রমে কানপুর, এলাহাবাদ, গাজিয়াবাদ ও নয়ডাজুড়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে তাঁর গাড়ি-চোর চক্র।  পুলিশের মতে, গত ৫ বছরে অন্তত ৩০০ বিলাসবহুল গাড়ি চুরি করেছে শ্বেতা ও তার দলবল।

কীভাবে গাড়ি চুরি করে

পুলিশ জানিয়েছে, শহরের ধনী এলাকা থেকেই বেশির ভাগ গাড়ি চুরি করা হত।  এর জন্য বেশ কিছুদিন ধরে সম্ভাব্য শিকারের ওপর নজর রাখা হত। এরপর সুযোগ পেলে ‘মাস্টার কি’ দিয়ে দরজা খুলে গাড়ি নিয়ে চম্পট দিত দুষ্কৃতরা।

জানা গেছে, চুরি করার পর গাড়ি নিজেই চালাতেন শ্বেতা।  আসলে সন্দেহ হলে রাস্তায় কখনো পুলিশ গাড়ি দাঁড় করালেও চালকের আসনে মহিলাকে দেখে ছেড়ে দিত বলেই এ কৌশল।

চুরি করা গাড়িটি এরপর টুকরো করে পেলত দুষ্কৃতরা।  তারপর তার যন্ত্রাংশ খোলা বাজারে বিক্রি করে দিত।  শ্বেতার সংগ্রহে থাকা কোনো দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির নম্বর প্লেট এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হত।  গ্রেপ্তারের পর লেডি ডন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের তল্লাশি করে মোট ৫ কোটি টাকা নগদ এবং বেশকিছু দামি গাড়ির যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে এলাহাবাদ পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

জানা গেছে, ৬ বছর আগে কানপুরের বাসিন্দা পেশায় সেলসম্যান সন্তোষ গুপ্তার সঙ্গে বিয়ে হয় শ্বেতার।  তাদের ৫ বছরের একটি ছেলে আছে।  তথ্যসূত্র : এই সময়

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

চীনে টর্নেডো-শিলাবৃষ্টিতে ৯৮ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশে টর্নেডো ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে কমপক্ষে ৯৮ জনের মৃত্যু …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open