শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ : ৫:০১ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সিলেটে বাফুফের একাডেমি: সমস্যায় বন্দী সম্ভাবনা

এই একাডেমি থেকে আগামী বছর বের হবে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষিত ফুটবল সৈনিকরা। দুই ক্যাটাগরিতে ২০ জন করে ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নেন। যাদেরকে কয়েক বছর পূর্বে ফিফা ও বাফুফের কোচরা সারাদেশ থেকে বাছাই করে ছিলেন। একাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য ৪ জন কোচ নিয়োগ দিয়েছে বাফুফে। কোচরা হলেন আব্দুর রাজ্জাক,  সোহেল জিলানী, জাহান ই আলম নুরী (রাহেল) ও মাহবুবুর রহমান রক্সি।

খাদিমপাড়া বাইপাস এলাকায় স্থাপিত বিকেএসপিতে ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে যাত্রা শুরু করা একাডেমিটিতে প্রধান সমস্যা হলো পানি। টেপ ছাড়লেই স্বপ্ন পানির বদলে সেখানে আসে লাল পানি। আছে যানবাহনের সমস্যাও। দেশের একমাত্র ফুটবল একাডেমিটির নেই কোন নিজস্ব গাড়ি। হাটবাজারসহ বাইরের কাজে ব্যবহার করতে হয় পাবলিক পরিবহন। একাডেমির বহুতল ভবনের ছাদ দিয়ে পানি এসে পড়ে রুমে।

অনুর্ধ্ব-১৪ ও অনুর্ধ্ব- ১৫ দুই ক্যাটাগরিতে ২০ জন করে ৪০ জন ফুটবল প্রশিক্ষণার্থীর বেশির ভাগই ছাত্র। অথচ একাডেমির ভেতর তাদের অধ্যায়নের কোন সুযোগ নেই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যার যেখানে বাড়ি সেখান থেকেই পড়ালেখা করতে হয়। পরীক্ষা সময় ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা দিতে হয়। সামনেই ছাত্রদের ষাম্মাষিক পরীক্ষা। তাই পরীক্ষায় অংশ নিতে দু’এক দিনের মধ্যেই একাডেমি ছাড়বে প্রশিক্ষণার্থীরা।

একাডেমিতে কোন শিক্ষকও নেই। ছাত্রদের শিক্ষকতার কাজটি তাই ফুটবল কোচরাই করে থাকেন। একাডেমিটি ফুটবলারদের আবাসস্থল হলেও সেখানে সার্বক্ষণিক কোন চিকিৎসক নেই। নেই সাপ্তাহিক কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষারও সুযোগ। অথচ প্রতিদিনই সকাল ও বিকাল শিফটে অনুশীলন করে থাকেন ফুটবলাররা। কেউ অনুশীলনে আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার সুযোগ নেই। কোন সময় কেউ অসুস্থ হলেও নেই চিকিৎসার ব্যবস্থা। জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্যও নেই যানবাহন। এলাকাটি নির্জন হওয়ায় তাৎক্ষণিক যানবাহন পাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়।

একাডেমি থেকে মাত্র ১শ দেড়শ ফুট দূরে গ্যাস লাইন থাকলেও একাডেমিতে নেই গ্যাস সংযোগ। তাই সিলিন্ডার গ্যাস দিয়েই তাদের রান্নার কাজ চালাতে হয়। নেই জেনারেটর ব্যবস্থাও। এত সব সমস্যা নিয়েই এগিয়ে চলছে আগামি  দিনের বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশের তারকারা।

একাডেমির কোচ আব্দুর রাজ্জাক  বলেন, অনেক সমস্যা নিয়েই আমরা এগিয়ে চলছি। সমস্যাকে সঙ্গী করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। তবে তিনি বেশ আশাবাদী প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে। তিনি বলেন, এখান থেকেই আগামীতে বের হবে অনেক খেলোয়াড়। যাদের অনেকেই হয়ত জায়গা করে নেবে জাতীয় দলে।

একাডেমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলা ফুটবল কমিটির সভাপতি মাহি উদ্দিন সেলিম

সিলেট নগরীর উপকণ্ঠ খাদিমপাড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) একমাত্র ফুটবল একাডেমি। আগামী দিনের লাল-সবুজের ফুটবল তারকা তৈরি হবে এ একাডেমি থেকেই। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও বাফুফের যৌথ অর্থায়নে একাডেমিটি পরিচালিত হচ্ছে। এটি দেশের একমাত্র ফুটবল একাডেমি হলেও সমস্যার শেষ নেই ফুটবলার তৈরির এ কারখানাতে।

বলেন, যানবাহন ও চিকিৎসকের কথা বাফুফের শীর্ষকর্তাদের জানানো হয়েছে। একজন চিকিৎসকের সাথেও কথা হয়েছে। আর তাদেরকে এখানের স্থানীয় কোন স্কুলে ভর্তির ব্যাপারেও কতাবার্তা হচ্ছে। আশা করছি সব কিছুই সমাধান হয়ে যাবে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সিলেটে আদালতপাড়া থেকে আসামির পলায়ন নিয়ে তোলপাড়

দুই শ’ পিস ইয়াবাসহ গত মঙ্গলবার র‌্যাব-৯ এর একটি দল আটক করেছিল তাকে। এরপর থানায় …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open