শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ : ৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

উড়াল সেতুর স্বপ্ন পূরণ হলোনা সিলেটবাসীর -নির্মিত হচ্ছে ফুট ওভারব্রিজ

সিলেটবাসীর কাছে একটি উড়াল সেতুর স্বপ্ন স্বপ্ন-ই রয়ে গেলো। নগরীর যানজট নিরসনে নগরবাসীকে উড়াল সেতু (এ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সড়ক ও জনপথ বিভাগ উড়াল সেতু নির্মানের জন্য ৩৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও তৈরি করেছিল অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে। প্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে। মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রকল্পটি সম্প্রতি একেনেকে উত্তাপন করা হলেও তা আর পাস হয়নি।

ফলে এই সরকারের আমলে আর সিলেটে নির্মিত হচ্ছে না উড়াল সেতু। নগরবাসীর কাছে কেবল স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে এ প্রকল্পটি। রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে বিপুল সংখ্যক উড়াল সেতু নির্মাণের ফলে শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও যানজট নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এক্ষেত্রে প্রবাসী অধ্যুষিত আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট নগরীতেও একটি উড়াল সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলো সিলেটবাসী। কিন্তু সেটি আর বাস্তবায়নের দিকে এগুচ্ছেনা।

এদিকে সম্প্রতি সিলেট নগরীর ব্যস্ততম এলাকা বন্দবাজারের কোর্ট পয়েন্টে অর্থমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় নির্মিত হচ্ছে একটি ফুটওভার ব্রিজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে সিলেট নগরীর প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যানজট। অপ্রশস্ত সড়ক, পার্কিংবিহীন বিপনীবিতান, ফুটপাত দখল ও যানবাহন বৃদ্ধির ফলে দিন দিন এ সমস্যা প্রকট থেকে প্রকটতর হয়ে ওঠছে। তাই যানজট নিরসন ও সিলেটের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকারের প্রথম দিকে ব্যস্ততম শেখঘাট-কোর্টপয়েন্ট-চৌহাট্টা-আম্বরখানা পয়েন্টের উপর দিয়ে উড়াল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

২০১০ সালে সিলেটের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি বর্তমান সরকারের আমলে উড়াল সেতু বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার নির্দেশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ৩৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একনেকে প্রকল্পটি পাশ না হওয়ায় অর্থমন্ত্রীর স্বপ্নের উড়াল সেতু এই মেয়াদে আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা।

সওজ সূত্র জানায়, সিলেট নগর উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে ২০১০ সালের শেষের দিকে ৯২৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে ২০টি প্রকল্পের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। ওই প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলো উড়াল সড়ক নির্মাণ। প্রায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে উড়াল সড়ক প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৬০ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলো একনেকে উপস্থাপন করা হলে পাস হয় ৪৫০ কোটি টাকা। বরাদ্দকৃত অর্থে নগরীর চারপাশে লিংক রোড স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় ভেস্তে যায় উড়াল সড়ক নির্মান প্রকল্প।

উড়াল সেতু প্রকল্প নিয়ে সরকারের প্রথমদিকে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও শেষের দিকে সিলেটে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী নিজেও।
২০১৩ সালে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাক্কলন ব্যয় বেশি ধরাতে আপাতত এ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

সে সময় সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ)’র প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, উড়াল সেতু নির্মানের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরী করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু অর্থবরাদ্দ না পাওয়ায় এ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলে নগরীর যানজট অনেকাংশে কমে আসতো।

 কোর্ট পয়েন্টে নির্মিত হচ্ছে এই ফুটওভার ব্রিজ

সিলেটে প্রথমবারের মতো ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গত ২১ মে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্রিজের কাজের উদ্বোধন করেন। সিলেটের ব্যস্ততম এলাকা নগরীর বন্দবাজারের কোর্ট পয়েন্টে নির্মিত হচ্ছে এই ফুটওভার ব্রিজ।

কিনব্রিজের নির্মাণশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফুটওভার ব্রিজটি তৈরি করা হচ্ছে। যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সিলেটে এই প্রথম কোনো ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশন ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ কাজ তদারকি করছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের প্রথম ফুটওভার ব্রিজ হওয়ায় এটি দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণের দিকটিও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। ব্রিজ সব মিলিয়ে ছয়টি সিঁড়ি থাকছে। ছয় দিক থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন পথচারীরা। কোর্ট পয়েন্টের ট্রাফিক মোড় হবে এর প্রধান ফটক। কালেক্টরেট মসজিদের অংশ, সেন্ট্রাল মার্কেটের একাংশ ও মধুবন সুপার মার্কেটের সামনের রাস্তার অংশে থাকবে সেতুর ভিত্তি।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নির্বাচনী ইশতেহারে এটি ছিল। কিন্তু ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে দ্বিতীয় মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর আগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এটির অর্থায়নও হচ্ছে অর্থমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব বলেন, সিলেটের জন্য নতুন প্রকল্প এটি। নতুন ও প্রথম হওয়ায় কাজের দিকে সবার নজর রয়েছে। এর সুফল দেখে নগরে আরো কয়েকটি স্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, কোর্ট পয়েন্ট ছাড়াও ক্বিন ব্রিজ মোড়ে আরও একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এটির অর্থায়ন করবে সিলেট জেলা পরিষদ। ওই ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণেরও প্রস্তুতি চলছে। ২০১৪ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪টি স্থান ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর মধ্যে কোর্ট পয়েন্টের ফুটওভার ব্রিজ প্রকল্পও ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে, ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ইস্পাত অ্যান্ড প্রকৌশল করপোরেশন ‘চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড’র মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বর্তমানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে ব্রিজের কাজ। ভিত্তির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। লোহার সিঁড়ি ও অন্যান্য অংশ চট্টগ্রাম থেকে তৈরি করে নিয়ে আসায় জুনের মধ্যেই পুরো ওভারব্রিজ স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সিলেটে আদালতপাড়া থেকে আসামির পলায়ন নিয়ে তোলপাড়

দুই শ’ পিস ইয়াবাসহ গত মঙ্গলবার র‌্যাব-৯ এর একটি দল আটক করেছিল তাকে। এরপর থানায় …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open