মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০, ২০২১ : ১:৩৬ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

রাজধানী ঢাকায় গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি যেন হারিয়ে গেছে। ২৯ মে থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত টানা সাত দিনে বৃষ্টির দেখা নেই। তাপমাত্রা বাড়ছে। হাঁফ ধরা গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী। শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশেই জ্যৈষ্ঠের শেষদিকে একই অবস্থা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলছে, এই অবস্থা আরও কয়েক দিন থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এখন মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে। এ অবস্থা আরও দুই-তিন চলবে।রাজধানী ঢাকায় গত বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে ঢাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ২ ডিগ্র দেশের বেশির ভাগ এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। গরমের মাত্রাটা বেশি যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী অঞ্চলে। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে, ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশের জেলা চুয়াডাঙ্গায় ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সাতক্ষীরায় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের জেলা রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টায় কুতুবদিয়ায় ৪৫,টেকনাফে ১৯, সন্দ্বীপে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্য সব এলাকা ছিল প্রায় বৃষ্টিশূন্য।আবহাওয়াবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টি না হওয়ায় গরম বাড়ছে। বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকায় শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। তাই গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান জানান, বছরের এই সময়ে তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। বর্ষাকালও এ সময় থেকে শুরু। কিন্তু মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপকূল পর্যন্ত না আসায় বৃষ্টি হচ্ছে না। কালবৈশাখীও হচ্ছে না। সব মিলিয়ে গরম বাড়ছে। তবে দু-এক দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু ইয়াগুন থেকে বাংলাদেশ উপকূলে বিস্তৃত হলে বৃষ্টি হতে পারে।
কুমিলা, চাঁদপুর, মাইজদীকোট, শ্রীমঙ্গল, সৈয়দপুর, বরিশাল ও খেপুপাড়া অঞ্চলসহ ঢাকা-রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, চট্টগ্র্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অ¯’ায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানতঃ শুষ্ক থাকতে পারে।সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা যেকোনো গ্রামের সঙ্গে রাজধানীর দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার সন্ধ্যায় শহরের ফ্ল্যাটবাড়ির বাইরের অংশের চেয়ে ভেতরের তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।প্রকৃতি ধ্বংস করে নগরায়ণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভবন তৈরির কারণেই তাপমাত্রার এই পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার সাব্বির আহমেদ ১৫ বছর ধরে এ বিষয়ে গবেষণা করছেন। শহরে তপ্ত ভূখণ্ড তৈরির নানা কারণ হিসেবে গাছপালা ও জলাশয় ধ্বংস করে অপরিকল্পিত নগরায়ণের বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন তিনি। গত বছর থেকে শুরু হওয়া আরেকটি গবেষণায় সাব্বির আহমেদের তত্ত্বাবধানে ওই বিভাগেরই দুজন শিক্ষক ঢাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাম্প্রতিক কারণ চিহ্নিত করেছেন। এতে রাজধানীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে প্রকৃতি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি ভবন নকশা পরিবেশবান্ধব না হওয়াকে দায়ী করা হয়েছে।নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করেন। এতে দেখা যায়, ভবন নকশার কারণে ঘরের ভেতরে ও বাইরের তাপমাত্রার পার্থক্য ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়। তাঁর গবেষণাতেই বেরিয়ে আসে, রাজধানীর সঙ্গে একটি গ্রামের তাপমাত্রার পার্থক্য অন্তত ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।যেকোনো এলাকার তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলেই আবহাওয়াবিদেরা তাকে দাবদাহ বলেন। গত সোমবার রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এই তাপমাত্রা আবহাওয়া দপ্তর মেপেছে রাজধানীর আগারগাঁও ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায়। সেখানকার গড় তাপমাত্রা শহরের অন্য এলাকার চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। সেই হিসাবে এক সপ্তাহ ধরেই ঢাকার বেশির ভাগ এলাকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশিই ছিল, যা মাঝারি তীব্রতার দাবদাহের সমান।
এ ব্যাপারে বিশিষ্ট পরিবেশবিজ্ঞানী ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, ঢাকার নগরায়ণের ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। এখানে দুই ভবনের মাঝখানে কোনো জায়গা রাখা হচ্ছে না। ফলে আলো-বাতাসের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শহরটা কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। বাড়িঘর ও অফিসে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসছে। এগুলো ঘরের বাইরে তাপ বের করে দিচ্ছে। ফলে বাড়ির বাইরে তাপ আরও বাড়ছে। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকায় বায়ুর আরাম ও ধরন’ শীর্ষক ২০১১ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর ভবনগুলো এমনভাবে তৈরি হচ্ছে যে সেখানে আলো-বাতাস কম প্রবেশ করছে। নব্বইয়ের দশকে রাজধানীর বেশির ভাগ ভবনের প্রতিটি ফ্লোর বা তলার মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ছিল ১১ থেকে ১৩ ফুট। ২০০০ সালের পর থেকে প্রতিটি তলার উচ্চতা কমে সাড়ে ৯ ফুট করা হচ্ছে। আগের ভবনগুলোর ছাদে ও জানালায় কার্নিশ দেওয়ার চল ছিল। এখনকার ভবনে তা উঠেই গেছে। ফলে বাইরের তাপ প্রতিটি ভবনকে একেকটি অগ্নিচুলিতে পরিণত করছে।ওই গবেষণাতেই দেখা গেছে, ফ্ল্যাট বাড়ি গুলোর রান্নাঘর ও টয়লেট এমনভাবে নির্মিত হচ্ছে যে সেখানকার তাপ বাইরে বের না হয়ে ঘরের মধ্যেই আটকে থাকছে। ঘরে আলো না থাকায় সারা দিন বাতি জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। ঘরের তাপ কমাতে অনেকে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করছেন। এতে ঘর ঠান্ডা থাকছে ঠিকই, কিন্তু শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে বের হওয়া তাপের কারণে ভবনের বাইরের তাপমাত্রা বাড়ছে, যা ভবনটিকেই আরও উত্তপ্ত করে তুলছেআবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার দেশের তাপমাত্রার গতি-প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি রাজধানীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হারকে আশঙ্কাজনক হিসেবে তুলে ধরে বলেন, নব্বইয়ের দশকের পর থেকে রাজধানীতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের কারণে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।
ঘরের ভেতরে তাপমাত্রা আটকে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৬ সালের আগে রাজধানীর যেসব ভবন নির্মিত হতো, তার বড়জোর ২০ শতাংশ খালি রাখা হতো। শীতপ্রধান দেশগুলোর ভবন নির্মাণ অন্ধভাবে অনুসরণ করায় রাজধানীর ফ্ল্যাট বাড়িগুলো থেকে বাতাস প্রবাহের জায়গা বা ভেন্টিলেটর উঠিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালের আগে ভবনগুলোর ভেতরে প্রতি ঘণ্টায় ১২ বার বাতাস প্রবাহিত হতো। কিন্তু ২০০৮ সালে নতুন ভবন নির্মাণ আইন অনুসরণ করে যাঁরা ভবন তৈরি করেছেন, তাঁদের ঘরে ঘণ্টায় ২২ বার বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু বাতাসের গতিবেগ ও প্রবাহের ধরন মাথায় রেখে যাঁরা ভবন তৈরি করেছেন, তাঁদের ঘরে বাতাস বইছে ৩০ বার।সাইফুল ইসলামের মতে, ঘরের বাইরের তাপ ও ভেতরে তৈরি হওয়া উত্তাপ মিলেমিশে রাজধানীতে গ্রীষ্মের স্বাভাবিক তাপমাত্রাই দাবদাহের মতো করে অনুভূত হচ্ছে। বাতাস ও আলো চলাচলের যথেষ্ট স্থান রাখার ব্যবস্থা রেখে নতুন ভবন নির্মাণের পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রাম: প্রচন্ড খরায় চট্টগ্রাম ওয়াসার গভীর নলকূপগুলোর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ব্যবহার্য ও খাওয়ার পানির সঙ্কটে হিমশিম খাচ্ছে নগরবাসী। গত দুই মাস ধরে পানি সঙ্কট বেড়েই চলছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকেই বাধ্য হয়ে দূষিত পানি পান করছেন। ওয়াসার ৯৬টি গভীর নলকূপ থেকে পানির স্তর অর্ধেক নেমে যাওয়ায় নগরজুড়ে চলছে পানির হাহাকার।তবে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, সংকট নিরসনে পুরনো গভীর নলকূপগুলো সংস্কারের পাশাপাশি নতুন নলকূল বাসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ার কারনে এই অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান কর্মকর্তারা।জানা গেছে, কোথাও গভীর নলকূপ নষ্ট হয়ে যাওয়া, কোথাও নলকূপের পানি নিচে নেমে যাওয়া, কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি ও বৈদ্যুতিক লোডশেডিংয়ের কারণে পানি উত্তোলন করতে না পারায় পানি সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। যা ক্রমেই বাড়ছে।ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসার মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প ও ৯৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ওয়াসা দৈনিক গড়ে ২১ থেকে ২২ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করার কথা। মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প থেকে প্রতিদিন গড়ে ৯ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হলেও ৯৫টি গভীর নলকূপ থেকে উৎপাদন হতো ১২ কোটি লিটার।
গভীর নলকূপ থেকে পানি উৎপাদন কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসার এখন প্রতিদিন পানি উৎপাদনের পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ কোটি লিটার। আগে বেশির ভাগ পানি উৎপাদিত হতো গভীর নলকূপ থেকে।
নগরীতে দৈনিক ৬৬ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। যার বিপরীতে ওয়াসা দৈনিক গড়ে ২১ থেকে ২২ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করে। কিন্তু গত এক বছর ধরে ওয়াসা ৫ কোটি লিটার পানি কম উৎপাদন করছে। এর ফলে পানি সঙ্কটে পড়ছে নগরবাসী।জানা গেছে, নগরীর জামাল খান, মোমিন রোড, আন্দরকিলা,দেওয়ানবাজার, জুবিলি রোড, এনায়েত বাজার, মেহেদীবাগ, ষোলশহর, শোলকবহর, মুরাদপুর, চকবাজার, বাকলিয়া, চাক্তাই, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, মাদারবাড়ি, কদমতলী, পাথরঘাটা, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং, ইপিজেড, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর প্রভৃতি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। এসব এলাকার বাসিন্দাকে ওয়াসা স্থাপিত বিভিন্ন ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।নগরীর হালিশহর থানার বড়পুল এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, প্রতিদিন রান্না ও খাবারে পানি জোগাড় করতে ওয়াসার পানির গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কোন সময় পানি না আসলে হোটেল থেকে খাবার কিনে আনি।নগরীর দেওয়ানহাট মিস্ত্রিপাড়া এলাকার ভাড়াটিয়া রাসেল চৌধুরী বলেন, সারাদিন অফিস করে এসে বাসায় গোসল করা বা হাত ধোয়ার পানি পর্যন্ত থাকে না। সপ্তাহে দুইদিন পানি দেয় । তাও ঘন্টাখানেকের জন্য। এ অবস্থায় খুব কষ্টে দিন পার করছি।
আগ্রাবাদ টিএন্ডটি কলোনীর পাশে একটি ভবনে বসবাসকারী জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘বাসায় নিয়মিত পানি পাওয়া যায় না। যেদিন সামান্য পরিমাণ পাই তা রান্নার জন্য রেখে দিই। আগ্রাবাদের দিঘীতে গিয়ে গোসল সারতে হয়। এছাড়া বাসার জন্য কয়েকদিন পরপর পানি কিনতে হয়। সবমিলিয়ে খুবই খারাপ অবস্থা।চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুলাহ বাংলামেইলকে বলেন, বর্তমানে প্রোডাকশন কম ও গরমের কারণে পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পানির সংকট বেড়েছে। এতদিন রেশনিং করে কোনরকমে চালালেও এখন সব জায়গায় পানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানির সরবরাহ লাইনের শুরুর দিকে বেশী পানি টেনে ফেলায় লাইনের শেষ দিকে গিয়ে পানি পাচ্ছেন না নগরবাসী।তিনি আরো বলেন, এছাড়া বৈদ্যুতিক লোডশেডিংয়ের কারণে পানি উত্তোলন করতে না পারায় পানি সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। প্রচন্ড খরায় গভীর নলকূপগুলোর পানির স্তর কিছুটা নিচে নেমে যাওয়ায় পানি উৎপাদন কম হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা নতুন নলকূপ বসাচ্ছি। পাশাপাশি পুরনো নলকূপগুলো সংস্কার করছি।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ডেপুটি প্রজেক্ট ডাইরেক্টর প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, যেসব নলকূপে পানি উৎপাদন কমে গেছে সেগুলোতে পানি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এছাড়া অনেকদিন ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি স্তর নিচে নেমে গেছে।প্রসঙ্গত ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিষ্ঠা লাভের পর ১৯৮৭ সালে হালদা নদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্প স্থাপনের পর আর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চলছে। মোহরা প্রকল্পের পাশাপাশি নগরীতে ৯৬টি নলকূপের মাধ্যমে নগরবাসীর চাহিদার মাত্র এক তৃতীয়াংশ পানি সরবরাহ করছে ওয়াসা।ব্রাহ্মণবাড়িয়া: প্রচন্ড তাপদাহের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথ। বিশেষ করে যেসব স্থানের রেললাইনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নেই সেসব স্থানে অতিরিক্ত গরমের সময় ট্রেনের গতি কমিয়ে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের গরমে এরই মধ্যে রেললাইন বেঁকে যাওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার গঙ্গাসাগরে রেললাইন বেঁকে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. কামরুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, রেললাইনের উপর ৫০ ডিগ্রীর বেশি তাপমাত্রা হলেই বাঁকা হওয়ার আশংকা থাকে। এজন্য যেসব জায়গায় রেললাইনে কিছু ত্রুটি আছে সেখানে গতি কমিয়ে দেয়া হয়। অতিরিক্ত গরমের কারণে বেলা ১২টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত গতি কমিয়ে ট্রেন চালানো নির্দেশনা বলবৎ রয়েছে। আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি মো. ইয়াছিন ফারুক মজুমদার জানান, বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একাধিক জায়গায় রেললাইন বেঁকে যায়। যে কারণে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে মেরামত কাজ করা হয়। রেললাইন মেরামত শেষে পোনে চারটার দিকে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open