বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০ : ৬:০২ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

চট্টগ্রামে যাত্রীবাহী বিমানে আগুন !!

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড্ডয়নের জন্য ৬৫ জন যাত্রী নিয়ে প্রস্তুত ‘এক্সওয়াইজেড’ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমান। বিমানের ককপিট থেকে পাইলট ৬ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে জানিয়ে উড্ডয়নের জন্য কন্ট্রোল টাওয়ারের ক্লিয়ারেন্স চান। ঘড়ির কাঁটা তখন বুধবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের ঘরে।
 এসময় কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাইলটকে উড্ডয়নের অনুমতি দিয়ে সংকেত পাঠানো হলে এয়ারবাসটি উড্ডয়ন শুরু করেন।
এরপরই ১১ টা ২৪ মিনিটে পাইলট কন্ট্রোল রুমে সংকেত পাঠিয়ে জানিয়ে দেন বিমানের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে এবং ইঞ্জিনরুমে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পাইলটের কাছ থেকে এই সংকেত
পাওয়ার সাথে সাথেই কন্ট্রোলরুম থেকে বিমানটি অবতরণ করতে সংকেত পাঠানো হয়।
সংকেত পেয়েই ১১টা ২৭ মিনিটে বিমানটি জরুরী অবতরণ করতে গিয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং সাথে সাথেই আগুন ধরে যায় বিমানটিতে। দাঁও দাঁও করে জ্বলতে থাকে ৬৫ জন যাত্রীবাহী বিমানটি। এরই মাঝে বিমানে থাকা যাত্রীরা যে যেদিকে পারছেন বিমান থেকে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ সফল হলেও আবার কেউ বিফলও হচ্ছেন। যাত্রীরা চারদিকে ছুটাছুটি করছেন। তাদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে।

তাৎক্ষণিকভাবে খবরটি এয়ারপোর্ট কন্ট্রোলরুম থেকে বিমান বন্দরে সার্বক্ষণিক অবস্থানরত ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে, ১১টা ৩২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ী দুর্ঘটনাস্থলে রওনা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এরই মাঝে উদ্ধার কাজে যোগ দেয় বিমানবন্দরের অবস্থানরত উদ্ধারকারী দলও।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, সেনা বাহিনী, , নৌ বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, র‌্যাব, ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ও আনসার ভিডিপির সদস্যরা।
এছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, নৌ বাহিনী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরাও বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ৬টি অগ্নিনির্বাপক গাড়ী প্রায় ১৩ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে ১১টা ৪০ মিনিটে বিমানের আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই সময় উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দুর্ঘটনা কবলিত পুরো এলাকাটিকে ঘিরে রাখে। ফ্লাইট ওটা-নামাসহ বন্ধ ঘোষণা করা হয় বিমানবন্দরের পুরো কার্যক্রম।

বিমানের আগুন নিয়ন্ত্রণের পরপরই উদ্ধারকারী দলের মধ্যে কেউ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের উদ্ধার করে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত চিকিৎসক দল উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে যোগে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এরমধ্যে এক যাত্রীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে।
এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট কর্র্র্র্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় ২৫ জন যাত্রীকে। আহত ৩০ জনকে ৫টি অ্যাম্বুলেন্সে যোগে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর বিমান থেকে ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কাজ, প্রাথমিক চিকিৎসাসহ সব মিলিয়ে ৩৩ মিনিটের মধ্যে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় দুর্ঘটনা কবলিত বিমানের উদ্ধার অভিযান। উদ্ধার অভিযানের প্রতিটি তথ্য প্রতি মিনিট পর পর ঘটনাস্থলে থাকা বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা কন্ট্রোলরুমকে অবহিত করতে থাকেন।

পাঠক, ভাবছেন দেশের মাঠিতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বিমান দুর্ঘটনায় ১৫ জনের প্রাণহানী, কিংবা একটি বিমান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। না, এটি কোন সত্যিকার দুর্ঘটনার চিত্র নয়। এটি বিমান দুর্ঘটনারোধে বার্ষিক মহড়া। অগ্নিকাণ্ড কবলিত ‘এক্সওয়াইজেড’ এয়ারওয়েজের ৬৫ জন যাত্রীবাহি ছোট বিমানটিও ছিল নকল, মহড়ার জন্য কাঠবোর্ড দিয়ে বিশেষভাবে বানানো। দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন জ্বলে উঠার মত বিশেষ উপযোগী করা ছিল বিমানটি।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরের ম্যানেজার উইং কমান্ডার নুর ই আলম চৌধুরী জানান, আর্ন্তজাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক বিমানবন্দরে দু’বছরে একবার দুর্যোগ মোকাবেলার মহড়া দেয়া বাধ্যতামূলক। এর প্রেক্ষিতে বুধবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সী এক্সারসাইজ’ ২০১৫। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
মহড়ায় আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম সানাউল হক, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী সহ সামরিক বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মহড়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আজকে বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণকালে বিমানের অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবেলায় যে মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেটি বিমান অপারেশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পর পর এই মহড়া অনুষ্টিত হয়ে থাকে। এবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরে অনুষ্টিত হয়েছে। আগামীতে শাহ জালাল বিমান বন্দর ও ওসমানী বিমান বন্দরে এই মহড়া অনুষ্টিত হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই মহড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টি কিভাবে নিশ্চিত করা যায় সেটি এই মহড়া থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া সম্ভব। যদি সত্যি সত্যি এধরণের বিমান দুর্ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে যাত্রীদের জানমাল রক্ষায় এই মহড়া বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আবার মহড়ার মাধ্যমে ফায়ার ক্রুদের দক্ষতা, সচেতনতা ও পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধি হয়। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, হাসপাতালে প্রেরণ, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী কিভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে তা বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে এখানে।’
এরপর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘শাহ আমানতে বিমান দুর্ঘটনা মোকাবেলায় যে মহড়া অনুষ্টিত হয়েছে। সেটি আগুন লাগা থেকে শুরু করে নির্বাপণ ও যাত্রীদের উদ্ধার কাজ শেষ করা পর্যন্ত মোট সময় ব্যয় হয়েছে ৩৩ মিনিট। হয়তো সত্যিকার দুর্ঘটনায় সময় একটু বেশ লাগলেও এটি কাজে দেবে বলে আমি মনে করি।’
সম্প্রতি রাজশাহীতে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় দুইজন পাইলট নিহত হওয়ার ঘটনায় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ করেছিলেন তাদের পরিবার। সেই অভিযোগ প্রসঙ্গে মেনন বলেন, ‘আজকের মহড়া দেখে মনে হচ্ছে না তাদের অভিযোগটা যুক্তিযত। কেননা বিমানে আগুন লাগার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী ঘটনাস্থলেই হাজির হয়েছে। সব উদ্ধারকারী দল অল্প সময়ের মধ্যেই উপস্থিত হয়েছে এ থেকে বুঝা যায় অভিযোগটা আবেগতাড়িত, বাস্তব সম্মত নয়।’

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

ব্রিটিশ ভিসা সেন্টার নিয়ে সিলেটে যা বললেন রুশনারা আলী

সংক্ষিপ্ত সফরে সিলেটে অবস্থান করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্যদূত ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি রুশনারা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open