মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০ : ৩:১২ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

‘এটিও একটা মুক্তিযুদ্ধের সমান’

পুরঞ্জয় চত্রবর্তী বাবলা। একজন মুক্তিযোদ্ধা ও শিশু সংগঠক। বর্তমানে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত তিনি। সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার বাসিন্দা বাবলা। আরেকজন শরমিষ্ঠা দত্ত। বয়স ১৬ বছর। নগরের কিশোরী মোহন বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। সেও আক্রান্ত জটিল রোগ ক্যান্সারে। বাসা নগরের জল্লারপাড়ে। অপরজন কুলসুমা বেগম। বয়স মাত্র ২ বছর। বাড়ি কানাইঘাট উপজেলায়। সে আক্রান্ত কিডনিরোগে। শুধু তারাই নন; জটিল এমন রোগে সিলেটে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দিনদিন। একইভাবে রোগের ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবারের স্বজনরা। অনেকেই নি:স্ব হচ্ছেন রোগের ব্যয় বহন করে। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকে জটিল এমন রোগে আক্রন্তদের পাশে দাড়ায়। অর্থায়ন দেয়া শুরু হয় সমাজ সেবা অধিদফতরের আওতায় ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিলেরমত

জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠানিকভাবে ৩৪ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হয়-এমন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদেরকে। অনুষ্ঠান স্থল নগরের বাগবাড়ী এলাকার জেলা সমাজ সেবা কার্য়ালয়ের সম্মেলন কক্ষ। গতকাল দুপুরে অনুষ্ঠান স্থলেই কথা হয় অনেক রোগীদের সাথে। সরকারের এমন যুগান্তকারী প্রদক্ষেপ নিয়ে অনেক রোগীই তাদের বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
মুক্তিযোদ্ধা পুরঞ্জয় কুমার চত্রবর্তী বাবলা অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে ছিলাম। আমি মনে করি আমরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। আজকের এই অনুষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধের ফসল। কারণ আমাদের দেশ রোগে ভারাক্রান্ত। সরকারে সামান্য পরিমাণের অর্থায়ন নিয়ে যে আমাদের পাশে দাড়িয়েছে, এটিও একটা মুক্তিযুদ্ধের সমান। তিনি বলেন, সরকারের এমন কাজকে স্বাগত জানাই। দেশের প্রত্যেকটি রোগীর পাশে যেন বর্তমান সরকার দাড়াতে পাড়ে। সেই কামনা করি।’
কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্ধা আব্দুল আহাদ জানান, ‘তিনি একজন দিনমজুর। তাঁর পরিবারের এমনই অবস্থা যেন নোন আন্তে পান্ত ফুরায়। এরমধ্যে ২ বছরের কন্যা সন্তান কুলসুমা জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত। একজন দিনমজুর হয়ে মেয়ের চিকিৎসার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা অর্থায়ন পেয়ে তিনি অনেকটাই খুশি। বললেন, মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে ওই ৫০ হাজার টাকা তাঁর কাছে ৫০ কোটি টাকার সমান।’
স্বরমিষ্টা দত্ত এবার এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল তার। নগরের কিশোরী মোহনের এক মেধাবী ছাত্রী স্বরমিষ্টা। তার শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ। ৬ মাস থেকেই সে ক্যান্সারে আক্রান্ত। সরকারের দেয়া অনুদানের টাকাটিও সে নিজে এসে নিতে পাড়েনি। এসেছিলেন তাঁর গর্ভধারিণী মা। তিনি সবুজ সিলেটকে জানান, ‘মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারের এমন অর্থায়নে মেয়ের চিকিৎসায় অনেকটাই সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তিনি। তিনি বলেন, স্বরমিষ্টা আর স্কুলে যায়না। পড়া লেখাও করতে পাড়ছেনা। স্বরমিষ্টার অবস্থা অবনতি ঘটছে।’
কিডনি রোগে আক্রান্ত সুরমা আক্রার। বয়স ৪৫। ডায়ালাইসিস করানোর পর থেকে প্রতি সপ্তাহে তাঁর চিকিৎসা আর ওষুধের ব্যয় আসে ১০ হাজার টাকা। অন্যরোগীদের সাথে কথা বলতে দেখে তিনি নিজে থেকে এসে কথা বলেন এ প্রতিবেদকের সাথে।
‘শুরুতেই বললেন, বাবা সরকার কি আর টাকা দেবে? যে টাকা পেলাম মাত্র ১ মাস যাবে। বাঁচতে হলে যে আরো অনেক টাকার প্রয়োজন। সপ্তাহে ১০ হাজার টাকা লাগে। হাতটা দেখ। কি বড় বড় ইঞ্জেকশন নিতে হয়।’ এই টাকায় কয়দিন যাবে। আর কি কেউ টাকা দেবে আমাকে। এক প্রশ্নের জবাবে বললেন, সরকারতো চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিল। এমনিতেতো কেউই একটা টাকাও দেয়না। সুরমা আক্রার জানান তিনি নগরের বাগবাড়ী এলাকার পিডিবি কোয়াটারে বসবাস করেন।’
প্রসঙ্গত, সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিস আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক অনুদান দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। দেশের ৮৪টি হাসপাতালে এ কর্মসূচি পরিচালিতও হচ্ছে। কিন্তু ২০০৯ সালের আগে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিস রোগীদের আর্থিক অনুদান প্রদান বাংলাদেশে ছিলনা। প্রতিবছর দেশে প্রায় ৩ লাখ লোক এ সমস্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এবং ৩ লক্ষাধিক মানুষই ধুঁকে ধুঁকে মারা যান। কিন্তু এমন রোগে আক্রন্ত রোগীদের চিকিৎসাব্যয় বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন পরিবারের স্বজনরা। এমন বিষয় চিন্তা করে বর্তমান সরকার ২০০৯-১০ অর্থবছরে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত গরীব রোগীদের এককালিন ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুধান প্রকল্প চালু করে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open