রবিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২০ : ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

১৯৭১-এর ‘রণাঙ্গনের দুই মুক্তিযোদ্ধা আদালতের কাঠগড়ায়

 আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের দুই ‘রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা’ নামেই বেশি পরিচিত। নবম জাতীয় সংসদের পাবনা-২ থেকে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছাড়াও তিনি পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। অপরজন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডন থেকে এসে যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে আহতদের চিকিৎসার জন্য খুলেছিলেন ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল। মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর দেশে গণস্বাস্থ্য নামে একটি গণমুক্তি হাসপাতাল গড়েন তিনি। বর্তমানে তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক। এ কে খন্দকারকে আগামী ২৫ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজিরা দিতেই হবে। অপরদিকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত বৃহস্পতিবার এক ঘণ্টার কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। উল্লেখ্য, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথমদিকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর তরুণ সদস্য এ কে খন্দকার। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, ’৭১-এর ১৬ মার্চ পাকিস্তানী বাহিনীর অধিনায়ক আমীর আবদুল্লাহ নিয়াজি যখন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ করেন তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী পুরুষ এ কে খন্দকার। স্বাধীনতা-উত্তরকালে লন্ডন ও দিল্লিতে তিনি বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের অপর কিংবদন্তী পুরুষ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যুদ্ধের মাঝখানে লন্ডন থেকে উড়ে এসে যোগ দেন। তার সঙ্গে এসেছিলেন অপর একজন তরুণ চিকিৎসক ডা. মোবিন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের চিকিৎসা করতেন। যুদ্ধের পর ডা. জাফরুল্লাহ গড়ে তোলেন হাসপাতাল। তার গড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে (গণবিশ্ববিদ্যালয়) রূপ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয় স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে জাতীয় ওষুধনীতির একজন নেপথ্য প্রণেতা ছিলেন তিনিÑযার সুফল হিসেবে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির স্থান দখল করেছে দেশীয় ওষুধ শিল্প। বাংলাদেশের তৈরি ওষুধ বিশ্ববাজারে রফতানি হচ্ছে। : ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ নামের একটি বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক এ কে খন্দকারের কিছু মন্তব্য নিয়েই ঘটনার শুরু। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম-সচিব ও মুক্তিযোদ্ধা এম এ ইসহাক ভূঁইয়া বাদী হয়ে জনাব খন্দকারের বিরুদ্ধে একটি মামলা ঠুকে দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। আদালত আগামী ২৫ জুন জনাব এ কে খন্দকারকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। গত বৃহস্পতিবার ওই আদালতে হাজির হয়ে তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা সুলতানা তাকে ২৫ জুন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এম এ ইসহাক ভূঁইয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর গ্রামে। : উল্লেখ্য, দেশের একজন সিনিয়র সিটিজেন এ কে খন্দকার ঢাকাতেই বসবাস করেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ এবং জনসম্মুখে আসতে চান না বলে জানা যায়। তবে মুক্তিযুদ্ধের আরেক কিংবদন্তী পুরুষ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এখনো একজন প্রাণবন্ত পুরুষ। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই তিনি গণমানুষের জন্য কাজ করছেন। ঢাকার অদূরে সাভারে তার গড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান। ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমের একজন পরিচিত মুখ। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যথা গণতন্ত্রের পক্ষে তিনি কথা বলেন। : ঢাকার ডেইলি নিউএজের একজন সাংবাদিকের (ডেভিড বার্গম্যান) পক্ষে একটি যুক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর দেয়ার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর মাননীয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান গত বুধবার এক ঘণ্টার কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এ জরিমানা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। ডা. জাফরুল্লাহ এ জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। : উদ্বেগ : গত বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসকাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, তার মতো স্পষ্ট বক্তা মুক্তিযোদ্ধার অভাব রয়েছে। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাক প্লাটুনখ্যাত প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open