সোমবার, মে ১৭, ২০২১ : ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সুনামগঞ্জে কারেন্ট ও মশারী জাল দিয়ে ডিমওয়ালা মা মাছ অবাধে নিধন

 সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল ধর্মপাশা উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির মা মাছ অবাধে নিধন করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানাযায়, ৩৭ হাওর ও মাদার অফ ফিশারী টাংগা হাওরের একাংশ ধর্মপাশা উপজেলায় অবস্থিত। বর্ষার নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গেই মাছের প্রজনন সময়ে এক শ্রেণীর অসাধু মৎস্যজীবী কারেন্ট ও মশারী জাল দিয়ে মুক্ত জলাশয়গুলো থেকে ডিমওয়ালা মা মাছ অবাধে নিধন করছে। জানাযায়, জৈষ্ট মাসের নতুন পানিতে সব মাছ ডিম ছাড়ে। উপজেলার হাওর অঞ্চলে খাল-বিল, নদী-নালা, ডোবাগুলোতে স্বার্থলোভী মৎসশিকারী ডিমওয়ালা মা মাছ অবাধে নিধন করে স্থানীয় হাটবাজাগুলোতে প্রকাশ্য বিক্রয় করছেন। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ সময় উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ না করে ডাক ডোল বাজিয়ে মৎস্য সপ্তাহ পালন করে দায়িত্ব শেষ করেন। এর ফলে মৎস্য ভান্ডার নামে খ্যাত সমগ্র দেশের লোকে জানেন সারা বছর মিঠা পানির মাছের আকালে ভুগছেন সমগ্র এলাকা। মুঠো ফোনে যোগাযোগ কালে সুনামগঞ্জ ১ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, হাওর বায়র, নদী-নালা ও খাল-বিল নিয়ে গঠিত ধর্মপাশা উপজেলা এই উপজেলায় প্রচুর মাছ পাওয়া যেত কিন্তু মা মাছ নিধনের ফলে মাছের আকাল দেখা দিচ্ছে অচিরেই আইননুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মোসাহিদ তালুকদার জানান, মিঠা পানির মাছের জন্য বিখ্যাত ধর্মপাশা। মাছের চাহিদা পূরণের জন্য এবং অবাধে মা মাছ নিধন বন্ধ করার জন্য তিনি আইননুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই ব্যাপারে মৎস্য বিভাগে যোগাযোগ করা হলেও কোন সুরাহ হয়নি। অনুসন্ধানে জানাযায়, রুই, কাতলা, চিতল, পাবদা, পুঁটি, টেংরা, চান্দা, কৈ, মাগুর, বোয়াল, শৈল, গজার, বাইম, চিংগরি সহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ অবাধে বাজারে বিক্রয় হচ্ছে। এমন অবস্থায় চলতে থাকলে আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে নদ-নদী, খাল-বিল সহ মুক্তজলাশয় গুলোতে প্রাকৃতিক মাছ শুন্য হয়ে পরবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে হয়তো দেশীয় প্রজাতির মাছ চিরতরে হারিয়ে যাবে। মো. নায়েব আলী অবঃ প্রধান শিক্ষক জানান, ধর্মপাশা উপজেলায় বড় হাওর প্রায় ২৩টি রয়েছে এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত কিন্তু মৎস্যজীবীরা বিল বা নদী থেকে মা মাছ শিকার করা হলে মাছের বংশ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। ঠিকাদার শাহ আব্দুল বারেক ছোটন বলেন, আমরা পূর্বে প্রচুর মাছ পেতাম এখন তেমন মাছ পাওয়া যায়না এর প্রধান কারণ মা মাছ নিধন। ধর্মপাশা উপজেলা ফটো সাংবাদিক জাহিরুল আবেদিন (সালাম খান) জানান, প্রত্যেক হাওরে কম পক্ষে অর্ধশতাধিক জেলে ও সাধারণ মানুষ অবাধে মা মাছ শিকার করছেন এ ভাবে চলতে থাকলে আগামী প্রজম্ম শুধু মাত্র বইয়ের পাতায় মাছ দেখতে পাবে প্রকৃত মাছ দেখা ও খাওয়া জুটবেনা হাওর অঞ্চলের জন সাধারণের।
সরজমিনে দেখাযায়, ধর্মপাশা, মধুপুর, জয়শ্রী, বাদশাগঞ্জ, গাছতলা, পাইকরাটি, সুনাই, মধ্যনগর, শশীয়াম, মহেষখলা, রাজাপুর, দৌলতপুর, সুখাইর রাজাপুর সহ বিভিন্ন বাজারে দেশীয় মা মাছ অবাধে বিক্রয় হচ্ছে ছড়া দামে। এ অবস্থায় চলতে থাকলে দেশীয় প্রজাতির মাছ চিরতরে হারিয়ে যাবে। সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open