শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ : ৫:১৮ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

হারিছ চৌধুরী এখন কোথায়? লন্ডন-ইরান-করিমগঞ্জ

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি ছিলেন আবুল হারিছ চৌধুরী। দোর্দন্ড প্রভাবশালী এই রাজনীতিবিদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব এবং আলোচিত হাওয়া ভবনের আশির্বাদপুষ্ট হয়ে অসীম ক্ষমতাধর এক নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু চারদলীয় জোট সরকারের পতনঘন্টা বাজার পর উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে সামরিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর পতিত হাওয়া ভবন ছেড়ে নিজেই হাওয়া হয়ে যান হারিছ চৌধুরী। ২০০৭ সালের ২৯ জানুয়ারি সিলেট বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতা সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তার মামাবাড়ি করিমগঞ্জে পাড়ি জমান। এরপর ভারত থেকে যুক্তরাজ্য, ইরানে কিছুদিন অবস্থান করার পর মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ফের যুক্তরাজ্যে ফিরে যান হারিছ চৌধুরী। এরকম তথ্যই পাওয়া গিয়েছিল তার স্বজনদের কাছ থেকে কিন্তু বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন সেই খবর জানে না কেউই। এমনকি সিলেটে থাকা তার স্বজনরাও বলতে পারছেন না হারিছ চৌধুরী কোথায় আছেন।
গত ১০ মার্চ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর গত মঙ্গলবার ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার খোঁজ মিলেছে। এরপর থেকে হারিছ চৌধুরীর উধাও রহস্য ফের আলোচনায় এসেছে।

সূত্র জানায়, ভারত থেকে যুক্তরাজ্য, পরবর্তীতে ইরান থেকে মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র হয়ে সর্বশেষ যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর হারিছ চৌধুরী ভারত ছাড়া অন্য কোথাও গমন করেননি। ভারতের করিমগঞ্জে হারিছ চৌধুরীর মামাবাড়ি হওয়ায় এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের আনাগোণা বেশি থাকায় তিনি করিমগঞ্জেই বেশি সময় অবস্থান করেন। যুক্তরাজ্য থেকে করিমগঞ্জ এবং করিমগঞ্জ থেকে যুক্তরাজ্য করেই এখন দিন কাটছে তার। তার মামবাড়ির লোকজন করিমগঞ্জের প্রভাবশালী মুসলিম পরিবার হওয়ায় সেখানে গা ঢাকা দিয়ে থাকাটা হারিছ চৌধুরীর জন্য অনেকটাই সহজ। ভারতের করিমগঞ্জে অবস্থানকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং নিজের আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্খিদের সাথে হারিছ চৌধুরী যোগাযোগ রাখেন বলেও জানায় সূত্রটি।

দেশজুড়ে জোর গুঞ্জন রয়েছে, সালাউদ্দিন সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন। আর জকিগঞ্জ সীমান্তের ওপারেই ভারতের করিমগঞ্জের অবস্থান। যে কারণে হারিছ চৌধুরী এবং সালাউদ্দিনের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সালাউদ্দিন করিমগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে গিয়ে থাকলে করিমগঞ্জে হারিছ চৌধুরীর সাথে তার দেখা হয়েছে কি না, এ বিষয়টি নিয়েও রয়েছে জোর গুঞ্জন। তবে সালাউদ্দিনকে যেখানে পাওয়া গেছে, জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে করিমগঞ্জ হয়ে সেই শিলং প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দূরে। অন্যদিকে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত থেকে শিলংয়ের দূরত্ব মাত্র ৬৫ কিলোমিটার।

বর্তমানে কোথায় আছেন হারিছ চৌধুরী: ভারতের করিমগঞ্জ হয়ে যুক্তরাজ্য, সেখান থেকে ইরান ঘুরে মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ফের যুক্তরাজ্য যান হারিছ চৌধুরী। কিন্তু বর্তমানে কোথায় আছেন তিনি? এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কেউ কিছু না বললেও তিনি তার নানাবাড়ি করিমগঞ্জেই অবস্থান করছেন বলে জানায় একটি সূত্র। বর্তমানে হারিছ চৌধুরী দাঁড়ি রেখেছেন এবং তার শারীরিক গঠন অনেকটাই বদলে যাওয়ায় তিনি নির্বিঘেœ সেখানে অবস্থান করছেন বলে জানায় সূত্রটি। তবে দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদেরকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানান না হারিছ চৌধুরী।

পালিয়ে যান যেভাবে: চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে পতন ঘটে হাওয়া ভবনের। রাজনীতিও হয়ে পড়ে ঘোলাটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুরু করে অ্যাকশন। দুদক’র শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের তালিকায় নাম ওঠে হারিছ চৌধুরী। বাধ্য হয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। কিছুদিন হবিগঞ্জে আত্মগোপনে থাকার পর সিলেট আসেন। ২০০৭ সালের ২৯ জানুয়ারি সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তার নানাবাড়ি ভারতের করিমগঞ্জে চলে যান হারিছ চৌধুরী। এর কিছুদিন পর তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বস্তাভর্তি টাকা পাঠানো হয় তার কাছে। সেখান থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান হারিছ। তারপর বড় ভাই আবদুল মুকিত চৌধুরীর কাছে ইরানে চলে যান তিনি। পরে মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে ফের ফিরে যান যুক্তরাজ্যে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

সেই রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

আত্মহত্যা’ করা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির সাবেক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open