সোমবার, মার্চ ৮, ২০২১ : ৭:১১ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

বিচার দেখে মনে হচ্ছে বাবা একাত্তরেও মন্ত্রী ছিলেন

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : কালকের দিন পরেই (১৬ জুন) জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের আপিলের চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করা হবে। রায়ে তিনি খালাস পাবেন নাকি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে তা আগেই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। এই মুহূর্তে কারাগারের ভেতরে থাকা সাবেক এই মন্ত্রী ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা কেমন আছেন, তিনি কী করছেন, তার মানসিক অবস্থাই বা কেমন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয় তার আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে।

মুজাহিদের ছেলেদের মধ্যে সবার ছোট ও সাময়িক বন্ধ হওয়া দিগন্ত টিভির ইংলিশ নিউজ প্রেজেন্টার আলী আহমাদ মাবরুর  বলেন, ‘আমিসহ আমাদের পরিবারের সদস্যরা গত তিন চার দিন আগে বাবার সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করেছি। তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তিনি আমাদের বলেছেন তিনি সুস্থ্য আছেন, স্বাভাবিক আছেন।’

আগামী মঙ্গলবার তার (মুজাহিদের) মানবতাবিরোধী অপরাধের চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করা হবে, এই মুহূর্তে তিনি কেমন আছেন, তার মানসিক অবস্থা কেমন, তিনি কারাগারে কী করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাবরুর বলেন, ‘আগের মতোই বাবা সুস্থ্য ও স্বাভাবিক আছেন। দৃঢ় মনোবল নিয়েই তিনি কারাগারে আছেন।’

প্রতিনিয়ত তিনি কী করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাবরুর বলেন, ‘তিনি সারা দিন নামাজ, খাবার গ্রহন, বই ও পত্রিকা পড়ে সময় পার করছেন।’

মুজাহিদ কি কি খাবার বেশি পছন্দ করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদ পুত্র বলেন, ‘বাবা সাদা ভাত, ছোট মাছ, শাক, ডাল এগুলো বেশি বেশি খান ও পছন্দ করেন।’

তার পছন্দ মতো খাবার জেলারের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয় কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বাবা বিস্তারিত কিছু বলেননি।’

আপিলের রায়ের আগে তিনি তার ছেলে মেয়েদের জন্য বিশেষ কোন দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মাবরুর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আগে রায় হোক তার কী হবে সেটি পরে বলা যাবে।

মামলায় মুজাহিদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একাত্তরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই আড়াই মাস আগে বাবা ফরিদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। মাত্র দুই আড়াই মাসে ঢাকা শহরের অলিগলি চেনাই কঠিন, এ অবস্থায় কীভাবে তিনি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন? পাল্টা প্রশ্নও করেন মাবরুর।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা বাংলাদেশ সরকারের ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মন্ত্রী ছিলেন এবং সংগঠনের মহাসচিব ছিলেন, কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দেখে মনে হচ্ছে তিনি ৭১ সালেও এ রকম ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন। এ বিচার দেখে মনে হচ্ছে বাবা একাত্তরেও মন্ত্রী ছিলেন।’

মুজাহিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, ‘আমি মুজাহিদের সঙ্গে গত দুই মাস আগে সাক্ষাৎ করেছি। সে সময় তার (মুজাহিদের) শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো ছিল। তিনি মানসিকভাবে শক্ত ছিলেন।’

এর আগে গত ২৭ মে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ রায়ের দিন ধার্য ১৬ জুন ঘোষণা করা হবে মর্মে আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

ওইদিন বেলা ১টার দিকে মুজাহিদকে দেয়া ট্রাইব্যুনালের সাজার বিরুদ্ধে করা আপিলের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষ করা হয়। মুজাহিদের পক্ষে আদালতে দুই দিন যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান এবং একটি লিখিত আর্গুমেন্টও জমা দেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষে দুইদিন মুজাহিদের বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। তিনিও ২৫ পৃষ্ঠার একটি লিখিত আর্গুমেন্টও আদালতে জমা দেন।

তবে আপিলে জামায়াত নেতার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে কি না তা নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আপিল নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষে যেসব যুক্তি-তর্ক হয়েছে তা বিশ্লেষণ করে এমনটাই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। কেননা, রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিগুলোকে দুর্বল বলে মনে হয়েছে অনেকের কাছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আশা মুজাহিদের সাজা বহাল থাকবে।

সে দিন আদালত থেকে বের হয়ে মুজাহিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আপিল বিভাগে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ জুন আপিল বিভাগ মুজাহিদের আপিল ঘোষণা করবেন মর্মে দিন ধার্য করেছেন। ট্রাইব্যুনাল যেসব অভিযোগের ভিত্তিতে মুজাহিদকে সাজা দিয়েছেন সেসব অভিযোগের যুক্তিখণ্ডন করে আদালতে আর্গুমেন্ট উপস্থাপন করেছি। আশা করছি, আপিল বিভাগ যুক্তিতর্ক ও উপস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে মুজাহিদকে এ মামলা থেকে খালাস দেবেন।’

শিশির বলেন, ‘৭১ সালে মুজাহিদ ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন, এ কথা সত্য। তবে আল বদর, আল শামস, আল মুজাহিদি ও রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে মুজাহিদের সম্পৃক্ততা না থাকার কথা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এ কথাগুলোই আমরা মাননীয় আপিল বিভাগে বার বার বলার চেষ্টা করেছি।’

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ‘বুদ্ধিজীবী হত্যার পেছনে আল বদরের ভূমিকা ছিল। এ মামলায় দেখানোর চেষ্টা করেছি ছাত্র সংঘের সভাপতি হিসেবে মুজাহিদ আল বদরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। পাকিস্তানি এক লেখকের ‘আল বদর’ নামক বই আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে মুজাহিদ ছাত্র সংঘের নাজেম। নাজেম মানে হচ্ছে প্রধান। এছাড়াও ১৬ ডিসেম্বর আল বদরের লোকজন পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিল। সেখানে মুজাহিদ ছিলেন।’

মুজাহিদের আপিলের রায়ে কী ধরনের রায় আশা করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, আশা করি আপিল বিভাগে তা বহাল থাকবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতটির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে এক, ছয় ও সাত নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। তিন নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এই দু’টি অভিযোগ থেকে মুজাহিদকে খালাস দেয়া হয়েছে।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী মুজাহিদকে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open