শনিবার, মে ১৫, ২০২১ : ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

স্বাস্থ্য বিভাগকে আগে সুস্থ করতে হবে

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : অনিয়ম-দুর্নীতিই যেন স্বাস্থ্য খাতের নিয়ম-নীতি! দেশের যে কয়টি খাত দুর্নীতির সর্বগ্রাসী থাবায় নিমজ্জিত, স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের মধ্যে অন্যতম। শত চেষ্টা করেও এ খাতটি দুর্নীতির রাহুগ্রাসমুক্ত করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

কদিন আগেই স্বাস্থ্য বিভাগে দুর্নীতির নামে রীতিমতো পুকুরচুরির একটি সংবাদ আসে গণমাধ্যমে। ওই সংবাদ থেকে জানা যায়, নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩২০ টাকা দামের বই কেনা হয়েছে ৮৮ হাজার ৫০০ টাকায়! এতে করে দেড় কোটি টাকার পণ্য কিনতে ওই প্রকল্পে লুটপাট করা হয়েছে ছয় কোটি টাকা। একই ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বই ও আসবাব কিনে ব্যাপক দুর্নীতি করে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজও।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগের এক চিকিৎসকের নামে অন্য রকম এক মানবিক-দুর্নীতির খবর পাওয়া গেছে, যা নতুন না হলেও বিশেষত্বের দাবি রাখে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকমে প্রকাশিত ওই খবরে বলা হয়, ‘হবিগঞ্জ আধুনিক হাসপাতালে এক মা স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন ওই হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. আরশেদ আলী। এ সময় তিনি ওই রোগীর স্বজন ও সেবিকাদের গালিগালাজসহ চরম দুর্ব্যবহারও করেন। কারণ, এর আগে ওই রোগীকে প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজার করানোর জন্য স্বজনদের সঙ্গে দর-কষাকষি চলছিল।’
সংবাদ সূত্রে জানা যায়, একজন পরিবহণশ্রমিকের স্ত্রী ওই রোগীকে ৪ জুন সকালে হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তীব্র প্রসব বেদনায় কাতর রোগী হোসনাকে সিজার করানোর অনুরোধ জানালে সময় হয়নি, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট নেই, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই ইত্যাদি নানা টালবাহানায় কালক্ষেপণ করে রোগীর অবস্থা জটিল করে তোলেন ডা. আরশেদ।
একপর্যায়ে তিনি ওই রোগীকে ১০০ কিলোমিটার দূরের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। নিরুপায় স্বজনরা এ অবস্থায় জেলার সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি (সিভিল সার্জন) ওই হাসপাতালেই রোগীকে সিজার করানোর অনুরোধ জানিয়ে ডা. আরশেদকে স্লিপ পাঠান। আর এতেই হয় হিতে বিপরীত। নিজের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত (প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তির) বুঝতে না পারা ‘মূর্খ-ছোটলোক’ স্বজনদের ‘অফিস টাইম শেষ’ হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এ অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই রোগী স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিলে ক্ষিপ্ত হন ওই চিকিৎসক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে খবরটিতে আরো বলা হয়েছে, রোগী হোসনা এর আগে তিনবার সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এবার তিনি ৩৭ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় হাসপাতালে গিয়েছিলেন। বিধি অনুযায়ী তার দ্রুত সিজার করানো উচিত ছিল। নতুবা জরায়ু ফেটে তার মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। কারণ, সাধারণত তিনবার সিজারের পর মায়েদের স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসবের ক্ষমতা থাকে না।
ডা. আরশেদের এই উষ্মার কারণ জানা না গেলেও বোঝা যায় সহজেই। কারণ, সংখ্যায় কম হলেও চিকিৎসকের লেবাসধারী এমন আরশেদ এ দেশে আরো আছেন। নিজের পকেটপূর্তিতে কোনো বাধা এলেই আরশেদরা কসাইয়ের চেয়েও নির্মমতায় একজন রোগীকে মৃত্যুপুরীতে পাঠিয়ে দিতে পারেন অবলীলায়।
এ প্রসঙ্গে আমাদের বক্তব্য হলো, স্বভাবতই আরশেদরা চাইবেন নিজেদের মতো চলতে, থাকতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রযন্ত্র তা অনুমোদন করবে কেন? চিকিৎসক তার ব্যক্তিগত লাভের জন্য একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন নিয়ে টানাহেঁচড়া করবেন, আর দায়িত্বশীল মহল তা চেয়ে চেয়ে দেখবে, এ তো কোনো সভ্য সমাজের প্রতিবিম্ব হতে পারে না। আমাদের জানতে ইচ্ছে করে, স্থানীয় প্রশাসনের তখন কি ভূমিকা ছিল? যদিও প্রকাশিত সংবাদে সিভিল সার্জনের একটা ইতিবাচক পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবু জেলা প্রশাসনেরও একটা কার্যকর পদক্ষেপ এখানে প্রয়োজন ছিল বলে আমরা মনে করি।
পাশাপাশি, গুটিকয় অর্থলোলুপ ব্যক্তির হীনচরিত্রের কাছে পুরো সেক্টরের ভাবমূর্তি জিম্মি হলেও সচেতন চিকিৎসক সমাজ বা তাদের সংগঠনগুলোই বা কীভাবে নিশ্চুপ থাকে, সে প্রশ্নের জবাবটাও জরুরি। মানুষ ও মানবতার স্বার্থে আমরা এ অবস্থার অবসান চাই।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮.৯৫ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক : চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) রপ্তানি আয় বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open