সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০২০ : ৫:১০ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

মানবপাচার বন্ধে সরকার কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ জাতিসংঘকে উদ্যোগ নিতে হবে : সুজন

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন-এর সভাপতি এম হাফিজ উদ্দীন খান বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে মানবপাচার হয়ে আসছে। কিন্তু সরকার নাগরিকদের পাচার হওয়া বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই মানবপাচার বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।’

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর উদ্যোগে ‘মানবপাচার বন্ধে করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এম হাফিজ উদ্দীন খান এসব কথা বলেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, সমুদ্র পথে অবৈধভাবে মানবপাচার বন্ধ করতে না পারলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা আরও খারাপ হবে। এ ঘটনা অব্যাহত থাকলে বৈধ অভিবাসনের জন্য হুমকির মুখে পরবে।

আজকের গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টিনা লুংডেল, সুজন-এর নির্বাহী সদস্য জনাব আলী ইমাম মজুমদার, ড. হামিদা হোসেন, সৈয়দ আবুল মকুসদ, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন, সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার ও সুমাইয়া ইসলাম প্রমুখ।  

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে নগ্ন ধরনের নব্য দাসপ্রথার আবির্ভাব ঘটছে। বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং মালয়েশিয়ার একদল মানুষ এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। মানবপাচার, জিম্মিকরণ, জবরদস্তিমূলক কারারুদ্ধকরণ, এমনকি হত্যাও তাদের অপকর্মের অংশ।’

তিনি বলেন, জীবন-জীবিকার সন্ধানে মানুষ বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। সরকারিভাবে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনিসহ নানা ধরনের কার্যক্রম প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে যথাযথভাবে না পৌঁছানোও মানবপাচারের অন্যতম একটি কারণ। সমাজে ন্যায়পরায়নতার অভাব থাকলে এবং বৈষম্য বিরাজ করলেও উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। কিন্তু দরিদ্রদের অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটে না। দুর্ভাগ্যবশত এমনি অবস্থায় বিরাজ করছে আমাদের দেশে, যে কারণে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবন-জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।

মানবপাচার বন্ধে করণীয় সম্পর্কে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘মানবপাচার একটি দ-নীয় অপরাধ। পাচারকারীদেরকে এই আইনের আওতায় এনে কঠোর শান্তি দিতে হবে। শুধু শাস্তি দিলেই হবে না, পাচারের কারণ অনুসন্ধান করে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়াও জরুরি। একইসঙ্গে জরুরি রাষ্ট্রীয় সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার নিশ্চিত করা দরকার।

স্টিনা লুংডেল বলেন, ‘দুই থেকে তিন হাজার ডলার ব্যয় করে এদেশের মানুষ সমুদ্র পথে বিদেশ যাচ্ছে। কিন্তু যারা আদৌ দেশের বাইরে যেতে চায় না তাদেরকেও সাগরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। কারণ তাদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ইউএনএইচসিআর এর তথ্য মতে, ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে বঙ্গোপসাগর দিয়ে ২৫,০০০ ব্যক্তি অবৈধভাবে দেশত্যাগ করে। এই সংখ্যা ২০১৩ এবং ২০১৪ এর একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই ২৫,০০০ মানুষের মধ্যে প্রায় ৪০-৬০ শতাংশ মিয়ানমারের, আর বাকি প্রায় সকলেই বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা থেকে গিয়েছিলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা পাচার হচ্ছে তাদেরকে অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে, কেউ কেউ মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। এই সমগ্র প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত রয়েছে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তা। এদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এতবড় অপকর্ম সম্ভব নয়।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘মানবপাচার শুধু বাংলাদেশের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় নয়। এরসাথে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড যুক্ত। তাই এটি বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে, বিশেষ করে জাতিসংঘের উদ্যোগে ভূমিকা নিতে হবে। এছাড়া আমাদের নাগরিকরা কী কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পথে গমন করছে এবং এটি বন্ধে কী করণীয় তা নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া দরকার।’

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে এবং বৈধভাবে অভিবাসন কমে যাওয়ায় মানবপাচার বেড়েছে। সরকারি উদ্যোগে বিদেশ নেয়ার কার্যক্রম ব্যর্থ হয়েছে। তিনি মনে করেন সরকার এটি নিয়ে ব্যবসা করতে পারে না। সঠিক তদারকির মাধ্যমে বেসরকারি রিক্রটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসী প্রেরণের কাজ করতে দেয়া উচিত।’

ড. সি আর আবরার বলেন, ‘বাংলাদেশে দারিদ্র্যের পরিমাণ কমলেও এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। এ বৈষম্যের কারণে মানবপাচার বাড়ছে।’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বসবাস করছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।’

ড. হামিদা হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত লোভের কারণে, দালালদের খপ্পরে পড়ে এবং ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে দেশের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ পাচারের শিকার হচ্ছেন। তাই এটি বন্ধে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে, বিশেষ করে সংসদে আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার, যাতে সম্পূর্ণভাবে এটি বন্ধ করা যায়।’

জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের নাগরিকরা পাচার নয় শুধু, মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। কেউ কেউ মানববেতর জীবন-যাপন করছে। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে এ নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হচ্ছে না।’ তাই সরকারকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এবং নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘মানবপাচার বন্ধে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতা দরকার। প্রয়োজনে জাতিসংঘকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া পাচারকারী এবং যেসব সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।’     

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এদেশের জনগণ সাগর পাড়ি দিচ্ছে। কারণ রাষ্ট্র তাদের মৌলিক অধিকার দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং কারা পাচারের সাথে জড়িত তা খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open