বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০ : ৬:১২ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

গ্রাম বাংলার মাছ ধরার বহু ফাঁদ বিলুপ্তপ্রায়

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : ফরিয়া, ডরি, উকা, পলো, হোফা, হগরা, টাবা, কুছা ও জালসহ নানা জাতের মাছ ধরার বহু ফাঁদ হারিয়ে যাচ্ছে। অঞ্চল ভেদে এসব মাছ ধরার ফাঁদের নাম ও ধরন ভিন। কৌশল ও এমনকি ব্যবহারও ভিন্ন। এসব ফাঁদ হাওর-বাঁওড়, খাল-বিল, নদীনালা, গাঙ্গছড়া ও পাহাড়ি ঢল বা প্লাবনের পানিতে দেশি প্রজাতির মাছ শিকারের জন্য ব্যবহার হয়। শুধু মৎস্যজীবীরাই নয়, গাঁও গ্রামের সৌখিন শিকারিরাও সময় বিশেষ মাছ ধরে থাকে। প্রতিটি বাড়িতে প্রয়োজনীয় মাছ ধরার হাতিয়ার থাকত। এখন নেই, এমন নয়। 
এল আষাঢ় হল বন্যা বৃষ্টিতে ভিজে মাছ ধরছে গ্রামের নদ নদী খালে ? 

সরকারকিন্তু মৎস্য আহরণের উৎসব এখন আর আগের মতো নেই। আগে মাছ ধরা উপলক্ষ করে দূর-দূরান্তের আত্মীয়স্বজনকে নিমন্ত্রণ করা হতো। সেই রেওয়াজ অনুসারে এখনো শুকনো মৌসুমে দু-চার গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে পলো নিয়ে উৎসব-আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিলে মাছ ধরতে নামে। কিন্তু মাছ না নিয়েই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়।

খাল-বিল-ছড়ায় প্রচুর মাছ ছিল। সামান্য বৃষ্টিতে মাছ উজানে যেত। উজানে যাওয়া এই মাছ আটকানোর জন্য বিলে ‘চাঁই’ বসানো হতো। জমির আইল কেটে চাঁই বসালে প্রচুর মাছ চাঁইয়ের ফাঁদে আটকা পড়ত। আর চাঁইয়ে আটকা পড়া মাছ বিক্রি করে অনেকে পরিবারের ভরণ-পোষণও চালাত। তাই অনেকে চাঁই দিয়ে মাছ ধরার জন্য বর্ষার প্রতীক্ষায় থাকত। অনেকে, বিশেষ করে যাদের নিজস্ব পুকুর আছে তারা চাঁইয়ের ভেতর খাদ্য দিয়ে রাতে পুকুরে বসিয়ে রাখত। আর খাদ্য খেতে গিয়ে মাছ চাঁইয়ের  ভেতর আটকে যেত।
একইভাবে পলো দিয়ে মাছ ধরার প্রচলনও ছিল সে সময়। বিশেষ করে ভাদ্র মাসের রোদে অতিষ্ঠ হয়ে মাছ যখন একটু ছায়ার জন্য ছোটাছুটি করত, তখন পলো দিয়ে মাছ আটক করা হতো। খাল ও পুকুর থেকে পলো দিয়ে মাছ ধরা হতো। মাছ ধরার দুই হাতিয়ার চাঁই ও পলো ব্যাপক হারে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের ফলে মাছের বংশ বৃদ্ধি যেমন কমেছে, তেমনি বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য মাছের জোগান দিতে ব্যাপক হারে মাছ নিধনের ফলে এখন বিলে-খালে মাছ নেই বললেই চলে। তাই চাঁই ও পলো দিয়ে মাছ ধরতে এখন আর কেউ বসালেও মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে চাঁই বসাতে বিরক্তি বোধ করে। অনেক পরিবার বর্ষা আসার পূর্বে বিক্রির জন্য চাঁই-পলো ইত্যাদি তৈরি করত। এটা ছিল পরিবারের বাড়তি আয়ের অবলম্বন। বিশেষ করে মহিলারা বাঁশ-বেতের এই কাজ করে পরিবারে অর্থের জোগান দিত। এখন বাজারে চাঁই-পলো তেমন বিক্রি হয় না।
সুনামপুর গ্রামের বৃদ্ধ আলকাছ মিয়া মাছ ধরার স্মৃতিচারণ করে জানান, ঐতিহ্য ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে। নির্বিচারে মা, ডিমওয়ালা ও পোনা নিধন করায় মাছের বংশ ধ্বংস হয়েছে। দিনদিন খালবিল, নদীনালা, হাওর-বাঁওড়, ডোবা-পুকুর ভরাট হচ্ছে। ফসল ও বাড়ি রক্ষার নামে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। জমির পোকা-মাকড় নিধনের নামে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিষাক্ত পানিতে মাছের বংশ ধ্বংস হচ্ছে।
প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, চোখের সামনে থেকে হাকালুকি, কাউয়াদিঘি, ফানাই, কন্টিনালা, কুশিয়ারা, মনু নদীসহ খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় থেকে রানী, শৌল, গজার, পাবদা, চিতল, চেলাপাতা, কাশ খয়রা, বাঁশপাতা, বোয়াল, বাঘা গুত্তুম. কালী বাউশ, বাঁচা, বাইন, চিংড়ি, বালুগড়া, চান্দুয়া, দাড়কিনা, কৈয়া, চান্দুয়া, তিত পুঁটি, নাপতে কই, টাটকিনি, ঢেলা, ফলি, একথুটি, গুজি আইড়, নাপতানি, আইড়, ঘারুয়া, রিটা, গোলসা, ছেপছেলা, টেংরা, রায়েকসহ শতাধিক প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত হাওর- খাল-বিল, নদীনালা খননের মাধ্যমে নাব্য বাড়িয়ে মাছের নির্দিষ্ট অভয়াশ্রম করে বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। নইলে অদূর ভবিষ্যতে যে কয়টি প্রজাতির এখনো মাঝেমধ্যে দেখা মেলে তাও চিরতরে হারিয়ে যাবে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open