শুক্রবার, এপ্রিল ১৬, ২০২১ : ৫:৪১ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

রমজানের শুরুতেই অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : শুক্রবার পবিত্র রমজান মাস শুরু। রোজাকে সামনে রেখে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দর।পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিংয়ের কঠোর হুঁশিয়ারি এখনও পৌঁছেনি বাজারে। বেশ ঊর্ধ্বমুখীতে পেঁয়াজ, ছোলা, তেল, চিনি, সবজি ও মাছ, মাংসের দাম। লাগামহীন বাড়ছে বেগুন, মরিচ ও শশা লেবুর দর। বেগুন ছাড়িয়েছে ১০০ টাকা, মরিচ ও শসা ৬০ টাকা। 

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে রাজধানীর শান্তিনগর, মতিঝিল, মুগদা খিলগাঁও কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। মনিটরিং ব্যবস্থাও পণ্যের দরের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না সরকার। এতে বাজারে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান মাস যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে সেসব পণ্যের দামই বেড়েছে বেশি। বিশেষ করে ছোলা, মসুর ডাল, বুট, বেগুন ও পেঁয়াজের বাজার বেশ ঊর্ধ্বমুখী। ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েছে।

এছাড়া পাইকারি বাজারেও পণ্যের দর কিছুটা বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। চাহিদার তুলনায় বাজারে পণ্য সরবারহ পর্যাপ্ত থাকার পরও অধিক মুনাফার লোভে দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ক্রেতাদের অভিযোগ সরবারহ বেশি থাকা সত্ত্বেও বেশি দামে বিক্রি করছে বিক্রেতারা। মাছ, মাংস, সবজি, বেগুন পেঁয়াজ সব ধরণের পণ্যের দামই বেড়েছে। এদিকে রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারসাজির চেষ্টা করলে মঙ্গল হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে। কারণ বাজারে চাহিদার তুলনায় দেড়গুণ পণ্য বেশি মজুদ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫-৪৮ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজও কেজি প্রতি ২-৩ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০টাকায়। এদিকে রমজানের অন্যতম উপকরণ ছোলা আগের গত কালের চেয়ে ২ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে বিক্রেতারা। প্রতি কেজি ছোলা ৬৫ থেকে ৭০, বুট ৫০ থেকে ৫৫ টাকা খেসারির ডাল প্রতি কেজি ৫০-৫৫ টাকা, চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে। মসুরের ডাল প্রতিকেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি মসুরের ডাল প্রতিকেজি ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, মুগ ডাল প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারে গত সপ্তাহে বেগুন যেখানে বিক্রি হয়েছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৫৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লেবু প্রতি হালি প্রকার ভেদে ২৪ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছে। আর শসা কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

এছাড়াও প্রতি কেজি সাদা আলু ২২ থেকে ২৪ ও লাল আলু ৩২ টাকা। করলা ৪০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৪৪ টাকা, ঝিঙ্গে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৪২ টাকা,  পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, কচুরলতি ৪০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ২৪-৩২ টাকায় বিক্রি করছে। 

প্রতি আঁটি লাউ শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাল শাক ও সবুজ শাক ১৫ টাকা, পালং শাক ১০ টাকা, পুঁই শাক ২০ টাকা ও ডাঁটা শাক ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে দেশি রসুন কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মোটা রসুন ৯০ থেকে ১১০ টাকা ও এক দানা রসুন ১৬০ টাকা, আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি করছে ৩৮০- ৪০০ টাকা, খাসির মাংস বিক্রি করছে ৫৮০-৬০০ টাকায়। কেজিতে ব্রয়লার মুরগি বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। এ সপ্তাহে কেজি প্রতি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছে ১৭০ টাকায় ও লেয়ার ১৯০ টাকা, কক মুরগি ২২০-২৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে।

ফার্মের লাল ডিম প্রতি হালি ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৩৮ থেকে ৪০ টাকা ও হাঁসের ডিম ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর খুচরা মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরণের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি রুই দেশি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০, সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, আইড় ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি আকার ভেদে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, পুঁটি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, মলা ৪০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, শিং আকার ভেদে ৬০০ থেকে ১২০০, দেশি মাগুর ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, শোল মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৩০ থেকে ২২০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৯০০ গ্রামের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়।

রাজধানীর খোলাবাজারে লিটার প্রতি বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৬-১০০ টাকায়।

খেজুর : খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বড়ই খেজুর ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়, ডাব্বাস খেজুর ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকায়, পরিদা খেজুর (লাল) ২৫০ টাকায়, সাদা ২৮০ টাকায়, তিউনিসিয়ার খেজুর ৪০০ টাকা থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open