বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০২০ : ১০:৪৫ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রবিবার পালিত হয় ‘বাবা দিবস’। এবছর তাই ১৫ জুন দিবসটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু বাবা কে ভালোবাসার জন্যে কী শুধুই একটি দিন, এমন প্রশ্ন আসতেই পারে। মূলত বাবার প্রতি সন্তানের সেই চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। তারপরও পৃথিবীর মানুষ বছরের একটা দিনকে বাবার জন্য রেখে দিতে চায়। যেমনটা মায়ের জন্য করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাবা দিবসের প্রচলন।
‘বাবা দিবস’ পালন শুরু হয় গত শতাব্দীর প্রথমদিকে। পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু। ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই প্রথম ‘বাবা দিবস’ পালিত হয়। আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম এই দিনটি পালিত হয়।
আজ যেমন বাবা দিবস নিয়ে বিভিন্ন আয়োজন হচ্ছে প্রথমদিকে কিন্তু এতোটা ছিলো না। ‘বাবা দিবস’ বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো। আসলে ‘মা দিবস’ নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাতো, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাতো না, বরং ‘বাবা দিবস’ এর বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল । ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার ‘বাবা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।
 
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাবাকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হলেও ভালোবাসার আবেদনে কিন্তু একটুও ভিন্নতা দেখা যায় না।
জার্মান ভাষায় বাবা শব্দটি হচ্ছে “ফ্যাট্যা” আর ড্যানিশ ভাষায় “ফার”। আফ্রিকান ভাষায় ‘ভাদের’ হচ্ছেন বাবা। চীনারা আবার বাঙালির ‘বাবা’ কে কেটে ছোটো করে ‘বা’ বানিয়ে নিয়েছেন। কানাডিয়ান ভাষায় বাবা হচ্ছেন ‘পাপা’ তেমনি ক্রোয়েশিয়ান এ ‘ওটেক’। ব্রাজিলিয়ান পর্তুগিজ ভাষায় বাবা ডাক হচ্ছে ‘পাই’। ডাচ ভাষায় পাপা, ভাডের আর পাপাই এই তিনটি হচ্ছে বাবা ডাক। সবচাইতে বেশী প্রতিশব্দ ইংরেজি ভাষাতেই! ইংরেজরা বাবাকে ফাদার, ড্যাড, ড্যাডি, পাপা বলে ডাকেন। ফিলিপিনো ভাষাও কম যায় না, এই ভাষায় বাবা হচ্ছেন তাতেই, ইতেই, তেয় আর আমা। হিব্রু ভাষায় বাবা হচ্ছে ’আব্বাহ্‌’। হিন্দি ভাষার বাবা ডাকটি হলো পিতাজী! আবার ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় বাপা কিংবা আইয়্যাহ! জাপানিরা তাদের ভাষায় বাবাকে ডাকেন- ওতোসান, পাপা। পুর্ব আফ্রিকায় অবশ্য বাবাকে ‘বাবা’ বলেই ডাকে।হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় পাপা ছাড়াও বাবা শব্দের অনেকগুলো প্রতিশব্দ আছে, যেমন- আপা, আপু, এদেসাপা।
কাটে না সময় যখন আর কিছুতে/বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/জানালার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা/মনে হয় বাবার মত কেউ বলে না/আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয় …।
গীতিকার পুলক বন্দোপাধ্যায়ের লেখা এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া এই গান সন্তানদের এক অসীম আবেগে জড়িয়ে দেয়।
রোববার বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় বাবা দিবস। সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে এ দিনটি পালিত হয়ে থাকে।
বিশ্বের প্রায় ৫২ দেশে এ দিবসটি পালিত হয়। পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে। বাবা, সে তো বাবাই। যার কারণে এই পৃথিবীর রং, রূপ ও আলোর দর্শন। সেই বাবা শব্দটির সঙ্গেই অপার স্নেহ আর মমতার মিশেলে এক দৃঢ় বন্ধনে জড়িয়ে থাকি আমরা। একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে প্রিয় এবং সর্বাধিকবার উচ্চারণ করতে হয় যে শব্দগুলো তার মধ্যে `বাবা` অন্যতম। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যে শব্দগুলো সবার আগে তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে তার অন্যতম হচ্ছে `বাবা`। এ যেন সন্তানের কাছে চিরন্তন আস্থার প্রতীক। কোনো শিশু যখন এই শব্দ উচ্চারণ করতে শেখে তখন বাবার মন পুলকে ভরে যায়। বাবা বলে ডাকতে পারাতে বাবার হাস্যোজ্জ্বল অনুভূতি যেন সেই অবুঝ শিশুর হৃদয়কে মুহূর্তেই আন্দোলিত করে তোলে। নতুন প্রজন্মের কাছে মা দিবস-বাবা দিবসের ধারণাগুলো দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গত শতাব্দীর প্রথমদিকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এ দিবস পালন শুরু। ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই প্রথম ‘বাবা দিবস’ পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম এ দিনটি পালিত হয়। আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথায় বাবা দিবসের ধারণা আসে। যদিও তিনি ভার্জিনিয়ার ১৯০৮ সালে বাবা দিবস পালনের কথা একেবারেই জানতেন না। এক গির্জায় ফাদারের বক্তব্য থেকে স্মার্ট ডড এ ধারণাটা পান। ফাদার মাকে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তাতে ডডের মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড তার বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থ্যাৎ ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে ‘বাবা দিবস’ পালন করা শুরু করেন। প্রথমদিকে ‘মা দিবস’ এর মত ‘বাবা দিবস’ নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন কোনো উৎসাহ ছিল না। তবে ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়। পরে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন।

অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার ‘বাবা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

বাংলাদেশে বাবা দিবস
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ঘরে ঘরে নানা আয়োজনে পালন হবে বাবা দিবস। বাঙালি সন্তানদের হৃদয়ে দিবসটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। হাজার কষ্ট সয়ে তিলে তিলে যে সন্তানকে বড় করেছেন একজন বাবা, তাকে ঘিরেই এদিন হবে ব্যতিক্রমী উৎসব।

তবে বাবা কি শুধুই একটি বিশেষ দিনের জন্য ! এরকম বিতর্ক থাকলেও এই বিশেষ দিনটিতে একটি ফুল অথবা একটি কার্ড নিয়ে শুভেচ্ছা জানালে বাবা তাতেই খুশি। বাবার চাহিদা এতটুকুই। ছোট-বড়, অখ্যাত-বিখ্যাত সকলের কাছেই বাবা অসাধারণ। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা সকলেরই প্রথম চাওয়া আর পাওয়া। বাংলাদেশে এই বিশেষ দিনে বাবাকে শুভেচ্ছা জানানো এখন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বায়নের এই যুগে শুধু শহুরে সংস্কৃতিতেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে এই দিবসের বার্তা।

দিবসটিকে সামনে রেখে পাঞ্জাবির দোকান, কার্ডের দোকান, ফুলের দোকানে ভিড় জমান সন্তানরা। বাবাকে এই দিবসে শ্রেষ্ঠ উপহার দেওয়া নিয়ে চলে জল্পনা-কল্পনা। সব বয়সীরাই এই দিনটিতে তার বাবাকে একটি সুন্দর উপহার কিংবা একটু সঙ্গ দেওয়ার জন্য আগে থেকেই নানা পরিকল্পনা করে থাকেন। খাবারের দোকানগুলো এই বিশেষ দিবসে ভরে ওঠে বাবা ও সন্তানের আগমনে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

হোয়াইটহেডস দূর করতে গোলাপজলের প্যাক

লাইফস্টাইল ডেস্ক :: ত্বকে হোয়াইটহেডস নিয়ে সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বিশেষ করে হোয়াইটহেডসের কারণে মেকআপ করলে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open