বৃহস্পতিবার, জুন ২৪, ২০২১ : ৩:৫০ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সহসায় চালু হচ্ছে না ওমরাহ ভিসা

সিলেটভিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম : ওমরাহ পালনের নামে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে গিয়ে অনেকেই ফিরে আসছেন না। এভাবে প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি সৌদি গিয়ে আর ফিরে আসেননি। এ কারণে ২২ মার্চ থেকে বাংলাদেশিদের ওমরা ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আর ওমরাহ ভিসা চালুর বিষয়ে কোনো সাড়া দিচ্ছে না দেশটির সরকার। তাই সংশয় দেখা দিয়েছে সহসায় চালু হচ্ছে না ওমরাহ ভিসা।

এদিকে ওমরার নামে সৌদি আরবে পাচার হওয়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। অবৈধভাবে সৌদিতে অবস্থানরত এসব বাংলাদেশিকে দ্রুত দেশে ফেরত আনার কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ওমরা ভিসা চালুর বিষয়ে সৌদি আরবকে রাজি করাতে ধর্মমন্ত্রীর নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল সৌদি আরবে অবস্থান করছে। তবে সহসাই ওমরা ভিসা চালু হচ্ছে না বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মো. নুরুল আলম স্বাক্ষরিত সম্প্রতি পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পত্র মারফত জানা যায়, কয়েক মাসে বেশ কিছু বাংলাদেশি ওমরা হজ করতে গিয়ে অদ্যাবধি বাংলাদেশে ফেরত না এসে সৌদি আরবে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, যা বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর। এ কারণে সৌদি সরকারের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ভবিষ্যতে ওমরা হজের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ফেলবে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান বলেন, ওমরাহ শেষে মোট কতজন দেশে ফেরেনি এবং তারা কারা, তাদের পাসপোর্ট নম্বরসহ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়ে আমরা দুই দফায় সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী (ওমরা) ঈসা বিন মোহাম্মদ রাওয়াসকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ওই তালিকা পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ওমরা এজেন্সিগুলোকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের জবাবের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর পবিত্র ওমরা পালন শেষে দেশে ফেরেনি ৫৬ এজেন্সির প্রায় ১২ হাজার ব্যক্তি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ওমরা করার নামে তাদের পাচার করা হয়েছে। আর এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে সৌদি আরবের স্থানীয় ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ওমরাহ এজেন্সির একটি শক্তিশালী চক্র। ইতিমধ্যে এ কারণে সৌদি আরবের সাত এজেন্সির ওমরাহ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে সে দেশের সরকার। পাচার হওয়া এসব ব্যক্তিকে দেশে ফেরত না আনা পর্যন্ত ওমরাহ পালনে কোনো ভিসা দেবে না সৌদি আরব। জেদ্দার হজ কাউন্সিলর (হজ) মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি চিঠি দিয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পবিত্র ওমরা পালনে যেতে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে না বলে কিছু হজ এজেন্সি ওমরা ভিসায় লোক পাঠাচ্ছে। ওমরা ভিসায় গেলেও তারা কাজের জন্য যাচ্ছেন। ওমরা পালনের নাম করে তারা সৌদি আরবেই থেকে যাচ্ছেন। আর এ কাজে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের একটি শক্তিশালী চক্র জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ কারণে ২২ মার্চ থেকে বাংলাদেশিদের ওমরা ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জেদ্দার বাংলাদেশ হজ অফিস থেকে সম্প্রতি কয়েক দফায় ধর্ম মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশের অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর তালিকা পাঠায়। সর্বশেষ ১ জুন পাঠানো তালিকায় ৫৫টি এজেন্সির নাম উল্লেখ করা হয়।

তালিকার সঙ্গে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের যেসব এজেন্সি ওমরাহ ভিসায় মানব পাচার করেছে, সেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পালনে আগ্রহী কোনো ব্যক্তি ভিসা পাবেন না। চিঠিতে ওই বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে এসব এজেন্সিকে চাপ দিতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open