বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০২০ : ১০:০৬ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

থাই-মালয়েশিয়ার ভিসা মিলছে ঢাকার ফকিরাপুল

প্রশাসনযন্ত্রের সাঁড়াশি অভিযানে আদম পাচারকারীরা তাদের বিলাস বহুল অফিসে তালা ঝুলিয়ে চম্পট দিচ্ছে। ক্রসফায়ার এবং গ্রেফতার এড়াতে তারা বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টায় রয়েছে। আবার অনেকেই বিদেশ পালিয়েও গেছে। আর নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালেরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার প্রাণ কেন্দ্র ফকিরাপুল থেকেই মানবপাচার সিন্ডিকেট ভূয়া ভিসা, ভূয়া টিকিট সরবরাহ করে থাকে।  দেশের হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রতারণা স্থল ফকিরাপুল। এখানে গড়ে উঠেছে শ শ রিক্রুটিং অফিস। পাসপোর্টে বিভিন্ন দেশের ভিসা লাগানো হয় এসব অফিস থেকেই। প্রতিটি অফিসে রয়েছে  শীততাপ নিয়ন্ত্রীত বিলাস বহুল ডেকোরেশন । দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকগুলো এসব অত্যাধুনিক অফিসে ঢুকেই মনে করেন সঠিক জায়গায় পৌঁছেছে। এরপর তারা পা বাড়ায় প্রতারণার ফাঁদে। ফকিরাপুল ছাড়াও আরামবাগ, পল্টন, নয়াপল্টন, মতিঝিল, বনানী, গুলশান, মগবাজার, উত্তরা, বাড্ডা, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে মানব পাচারকারী সিন্টিকেটের আস্তানা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে মানব পাচারের ২০টি সিন্ডিকেট শনাক্ত করেছে। এর সূত্রধরে প্রতিদিন চলছে গ্রেফতার অভিযান। র‌্যাব অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার এক হাজারের বেশি পাসপোর্ট উদ্ধার করে ওই সব এলাকা থেকে।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র থেকে জানা যায়, ফকিরাপুলের মালেক ওরফে কাইল্যা মালেক। বয়স ষাটের কোঠায়। এক সময় মালেক ঘরে বসেই মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের ভিসা তৈরী করতেন।  প্রশাসনের তালিকায়ও মালেক চিহ্নিত একজন প্রতারক। মালেকের রয়েছে অসংখ্য চেলা-পালা। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন অফিসের মানব পাচারকারী দলের রয়েছে সখ্যতা। এই সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত।
এদিকে র‌্যাব, পুলিশের অভিযানে কয়েকজন মানব পাচারকারী ক্রস ফায়ারে নিহত হয়েছে। মানব

পাচারকারীরা ৮টি দেশে জাল বিস্তার করে রেখেছে।  তা হলো থাইল্যান্ড, মালোয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন ও মিয়ানমার। এসব দেশের স্থানীয় গডফাদার ও এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বাংলাদেশি মানব পাচারকারী গডফাদারদের। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি গডফাদারদের মধ্যে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের অবস্থানকারী শাজাহান, সেলিম, শরীফ, পেনাংয়ে  জাফর, দক্ষিণ থাইল্যান্ডে  ওসমান, আনোয়ার, সায়্যাদুল হক, আজিমুল্লাহ, আমিন, হাশিম, আবদুল হাফিজ, হামিদসহ প্রায় ৩০০ শতাধিক পাচারকারী রয়েছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ আটটি দেশে বসে মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ করছে গডফাদাররা। এছাড়া বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা দালালদের নিয়ন্ত্রণ করছে রাজধানীর মানব পাচারকারী চক্র। এদের কেউ কেউ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাইয়ে রীতিমতো অফিস খুলে বসেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক ভূক্তভোগী জানান, কেউ বিদেশ যেতে আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রথমে তাকে মেডিক্যাল করানো হয়। পরে বলা হয় তাড়াতাড়ি বিদেশ যাবেন নাকি দেরি করে ? তখন বিদেশগামী ব্যক্তি বলেন আমি তাড়াতাড়ি বিদেশ যেতে চাই। এরপর তার নিকট হতে যত সামান্য টাকা রেখে বিদায় করে দেয়া হয়। একদিন হঠাৎ তাকে ফোনে জানানো হয় আপনার ভিসা হয়ে গেছে। তখন ওই ব্যক্তি খুশি হয়ে পর দিন অফিসে আসেন। ভিসা দেখে একটি ফটোকপি নিয়ে চলে যায় বাড়িতে। অধিকাংশ লোক গ্রামের হওয়ায় তারা আর ভিসা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনা। পরে একদিন তাদের ফ্লাইটের সময় নির্ধারণ করা হলে সমস্ত টাকা পরিশোধ করে প্রতারণার শিকার হয়। ভিসা সঠিক না হওয়ায় আদম ব্যাপারীরা একের পর এক ফ্লাইট ফেলায়। যা শত ভাগ মিথ্যা।  এরপর দেখা যায়, বিদেশ যাত্রীদের প্রথমে উঠানো হয় বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে। এক সময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, বিদেশ যাত্রী তার বাড়ির লোকজনের সাথে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন। হঠাৎ একদিন তাদেরকে পাচারকারীরা বলে তোমরা বিদেশ যেতে হলে সমুদ্র পথে নৌকা যোগে যেতে হবে। কোনো উপায় অন্তর না পেয়ে তারা তাতে রাজি হয়ে যান। ভূক্তভোগীরা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তাদের দু চোখের পানি ছলছল করছিল। কেউবা হাউমাউ করে কেঁদেও উঠেন। 

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

‘প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে’

ডেস্ক রিপোর্ট :: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বলেছেন, সেনা সদস্যদের কঠোর …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open