বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০ : ৬:৩৩ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

৮ নারী লাঞ্ছনাকারী চিহ্নিত ধরিয়ে দিলেই লাখ টাকা পুরস্কার

বর্ষবরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আট নারী লাঞ্ছনাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ধরিয়ে দিলে প্রত্যেক লাঞ্ছনাকারীর জন্য এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। ভিডিও ফুটেজ দেখে এ আটজনকে বর্ষবরণে নারী লাঞ্ছনাকারী হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ছবিটি পুলিশের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা।
গতকাল রোববার পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শহীদুল হক বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা আট নারী লাঞ্ছনাকারীর ছবি গণমাধ্যমে দেওয়া হবে। অন্যদের মধ্যে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেছুর রহমান, মাইনুর রহমান চৌধুরী, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। আইজিপি আরও বলেন, রেজিস্ট্রেশন নম্বর বিহীন মোটরসাইকেল ধরতে আগামী ৩ জুন থেকে অভিযান চালাবে পুলিশ। রেজিস্ট্রেশন নম্বর বিহীন মোটরসাইকেল মালিকদের এ সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংগ্রহ করার পরামর্শ দেন তিনি। বাংলা নববর্ষের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন কয়েকজন নারী।
ওই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে এ ঘটনা ঘটে। নিপীড়নকারীদের ঠেকাতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি লিটন নন্দীর হাত ভেঙেছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে এই ঘটনা জানানো হলেও তাঁরা যথাসময়ে ব্যবস্থা নেননি। এ কে এম শহীদুল হক। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন নন্দী বলেন, বাংলা নতুন বছর উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শাহবাগ থেকে টিএসসি আসার পথে তারা কয়েকজন দেখেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে ৩০-৩৫ জনের একদল যুবক বেশ কয়েকজন নারীর শ্লীলতাহানি করছে। তারা কারও কারও শাড়ি ধরে টান দিচ্ছিল। কয়েকজনকে তারা প্রায় বিবস্ত্রও করে ফেলে। এ সময় তিনি সেখানে বাধা দিতে গেলে ওই যুবকদের ধাক্কায় পড়ে যান এবং হাতে ব্যথা পান।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিটন নন্দী বলেন, এ দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না। আমি আমার পাঞ্জাবি খুলে এক নারীকে দিয়েছিলাম। আরেকটি মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। ওই যুবকেরা ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমরা পুলিশ সদস্য ও প্রক্টরকে ঘটনা জানালেও তাঁরা কেউ যথাসময়ে আসেননি।এ ঘটনায় ১৬ এপ্রিল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। বর্ষবরণের উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়নের ঘটনার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও দেখে আটজনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পেরে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। কেউ তাদের পরিচয় সনাক্ত করতে পারলে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কারেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক গতকাল রোববার রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন। গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের উৎসবের সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে এক দল যুবক নারীদের ওপর চড়াও হয়। তাতে বাধা দিতে গিয়ে আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দীসহ কয়েকজন। সে সময় চার নিপীড়ককে ধরে এসআই আশরাফসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন। ওই ঘটনায় পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও গত এক মাসে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যৌন নিপীড়কদের চিহ্নিত করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো ছবি অথবা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা কোনো ধরনের তথ্য থাকলে একটি নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে জানাতে অনুরোধ করেছিল পুলিশ।
কিন্তু নিপীড়নের শিকার কেউ ওই নম্বরে ফোন করে ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য তো দেননি, বরং প্রায়ই ভিওআইপি নম্বর থেকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর এর আগে জানিয়েছিলেন। পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও দেখেই আটজনকে তারা চিহ্নিত করেছেন। তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে যারা সহায়তা করবে, তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।
ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচিতে ছাত্র ইউনিয়ন ও পুলিশের মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ওই ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধী হলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।প্রসঙ্গত, বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় মিলনমেলা এবং অসাম্প্রদায়িক উৎসব উদযাপনের অন্যতম একটি উদাহরণ পহেলা বৈশাখ। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত সবার থাকে তাদের নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি। আর ঢাকার মূল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু মূলত রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ সমগ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বলতে গেলে বাংলাদেশের যেকোনো জাতীয় উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ পহেলা বৈশাখে ঘটে গেলো সবচেয়ে অনাকাক্ষিত, অপ্রীতিকর ঘটনা। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পাশবিকতার শিকার হয়েছেন বেশকিছু নারী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বখাটের দল নারীদের উত্যক্ত করে, হয়রানি করে, তাদের জামাকাপড় ধরে টানাটানি করে, গায়ের ওপর হামলে পড়ে। টানা হ্যাচড়া করে কয়েকজন নারীকে বিবস্ত্র করার ঘটনাও ঘটে ওইদিন। তাতে বাধা দিতে গিয়ে আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দীসহ কয়েকজন।চার নিপীড়ককে ধরে এসআই আশরাফসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে দেয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন। ওই ঘটনায় পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও গত এক মাসে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে এর কয়েকদিন পর ডিএমপির যুগ্ম কমিনশার মনিরুল ইসলাম বললেন উল্টো কথা। ডিবির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে বিবস্ত্রের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কোনো নারীকে বিবস্ত্র করার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা কোনো প্রত্যক্ষদর্শী এখনো নিশ্চিত করেনি। থানা বা পুলিশের কাছে কেউ এখনো অভিযোগও দায়ের করেনি। এতে ঘটনাটিতে যথেষ্ট কনফিউশন রয়েছে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

ব্রিটিশ ভিসা সেন্টার নিয়ে সিলেটে যা বললেন রুশনারা আলী

সংক্ষিপ্ত সফরে সিলেটে অবস্থান করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্যদূত ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি রুশনারা …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open