শুক্রবার, এপ্রিল ১৬, ২০২১ : ৪:৩৯ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

সাতক্ষীরার শতাধিক পরিবারে চলছে শোকের মাতম

দেখতে দেখতে কেটে গেছে দুই বছর। কিন্তু এখনো খোঁজ মেলেনি মালয়েশিয়ায় যাওয়া নিখোঁজ সাতক্ষীরার শতাধিক যুবকের। সম্প্রতি গণমাধ্যমে থাইল্যান্ডের গণকবর থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের খবর পাওয়ার পর সাতক্ষীরার এসব পরিবারে এখন মাতম চলছে।

দালালের খপ্পরে পড়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়া এসব নিখোঁজ যুবকের মধ্যে রয়েছে শুধু কলারোয়া উপজেলার বসন্তপুর গ্রামেরই ২৩ জন, শুভঙ্করকাটি  গ্রামের ৪ জন, হেলাতলা গ্রামের একজন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের একজন ও তালা উপজেলার একজনসহ জেলার মোট ৩১ জন, কুমারনল গ্রামের পাঁচজন, নয়াকুড়া গ্রামের একজন, খাসপুর গ্রামের দুজন ও কুসুডাঙ্গা গ্রামের দুজনসহ শতাধিক যুবক।

অভিভাবকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কলারোয়া উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের রউফ ও শুভঙ্করকাটি গ্রামের আজিজ, মির্জাপুর গ্রামের আবদুল লতিফ, মানিকনগর গ্রামের আবদুল্লাহ, বাউনআলী গ্রামের রফিকুল মোল্লা, উকাপুর গ্রামের শাহাজান সরদারসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একদল দালাল ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে তাদেরকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

তারা এসব দালালের হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে ট্রলারে ওঠার পর থেকে পরিবারের কারও সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। অভিভাবকরা জানেন না তাদের প্রিয় সন্তানটি বেঁচে আছে, না মারা গেছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে অভিভাবকদের হতাশা বেড়েছে, বেড়েছে সন্তান হারানোর বুকফাটা আর্তনাদ।

কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা গ্রামের নিখোঁজ সজিবুজ্জামান অবুজের বাবা আব্দুল খালেক জানান, নিজের পৈতৃক জমি বিক্রি করে আজিজ দালালের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা ব্যয় করে একমাত্র ছেলেকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়েছেন। এতে তার কষ্ট না থাকলেও ছেলের খোঁজ না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা এখন শয্যাশায়ী। সন্তানহারা মা-বাবার বুক ফাঁটা আর্তনাদে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এসব পরিবার তাদের প্রিয় সন্তানকে ঘরে ফিরে আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বসন্তপুর গ্রামের নিখোঁজ ২৩ যুবকের মধ্যে রয়েছে আরিফ, সুমন, সাইফুল, সাহেদ, সোহাগ, রাজু, সাত্তার, আলামিন, রহিম, বাবু, কবির, জাহাঙ্গীর, মহিদুল। শুভঙ্করকাটি গ্রামের শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর, সুমন ও আবদুর রহমান।

নিখোঁজ আরিফ হোসেনের বাবা জালালউদ্দিন জানান, ‘দালালরা আমার সব নিয়ে গেছে। আমার মেয়ের দুল বিক্রি কইরেও টাকা দিছি। আমার কাছে আসে, আর টাকা নিয়ে যায়। কিন্তু আশ্বাস দিয়েও আরিফের সঙ্গে কথা বলায়ে দেয় না। আরিফকে ফিরিয়ে দেওয়ার নাম করে পুলিশও দফায় দফায় টাকা নিয়ে গেছে। কিন্তু কোনো কাজ হয় না।’

একইভাবে ঘরছাড়া সাত্তারের বাবা মজিদ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। রউফ আর আজিজ আমার সাত্তাররে নিয়ে গেছে। কোথায় আছে, কেমন আছে জানিনে। আমি ওদের বিচার চাই।’

নিখোঁজ সোহাগের বাবা সিরাজুল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আমরা শেষ হয়ে গেছি। ছেলে পাব কি না জানিনে, কিন্তু পাচারকারীদের বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ জানান, বসন্তপুরের ঘরে ঘরে চলছে আর্তনাদ। আমরা সবাই চিন্তিত, হতাশ।

সাতক্ষীরা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি ব্যুরোর সহকারী পরিচালক শেখ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, শুনেছি অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। তবে আমার কাছে এ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২৭ জন নিখোঁজের তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে কলারোয়া উপজেলার বসন্তপুর গ্রামেরই ২৩ জন, সরশকাটির গ্রামের একজন, সদর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের একজন ও তালা উপজেলার একজনসহ জেলার মোট ২৭ জন। এদের সন্ধান নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বেতন স্কেল ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবি প্রধান শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড (নন-ক্যাডার) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open