শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০ : ১:২৭ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদঃ

মানব পাচারকারীদের খপ্পরে হবিগঞ্জের ৩ যুবক, হতাশ বাবা-মা

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচঙ্গ ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার তিন যুবক মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েছে। তাদের সন্ধান পেতে ওই তিন যুবকের বাবা-মা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বানিয়াচঙ্গ উপজেলা সদর ৪নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের শরীফ উদ্দিন রোডের প্রথমরেখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রশিদ আহমদ ও তার স্ত্রী সাহিদা আক্তারের দ্বিতীয় সন্তান সাইফুল ইসলাম জুসেদ (২৭)। তারা ২ ভাই ও ৫ বোন। অভাবের কারণে অল্প বয়স থেকেই সংসারের ঘানি টানা শুরু করে জুসেদ। প্রায় তিন বছর পূর্বে সাড়ে চার লাখ টাকায় সিএনজি চালিত আটোরিকশা কিনে দিন রাত চালিয়ে দেড় দুই হাজার টাকা আয় করে বাবা-মা’র কাছে জমা দিতেন। এক সন্তানের পিতা জুসেদ। মোটামুটি খেয়ে-পড়ে সংসার চলছিল তাদের। কিন্তু সিএনজি চালাতে গিয়ে মানব পাচারকারী দলের সদস্যদের খপ্পরে পড়ে জুসেদ। প্রলুব্ধ হয়ে কাউকে না জানিয়ে গত ১ এপ্রিল বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়।
৭ মে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে অলিউর রহমানের ফোন নম্বর (০১৭২১৯১২৮৩৫) থেকে জুসেদের বাবাকে জানায় তার ছেলে মালয়েশিয়ার বর্ডারে আছে। ০০৬৬৮০৫৩৯১৪৮৯৩ ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে জুসেদকে পাবেন।
এরপর জুসেদের বাবা রশিদ আহমদ ওই নাম্বারে ছেলের সঙ্গে কথা বলেন। জুসেদ জানায়, তারা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বর্ডারে অমানবিক কষ্টে জাহাজে আছে। শিবপাশা ইউপি’র রহমত আলীর ছেলে এক নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল আজিজ ও আলী আকবরের ছেলে মকবুল আলীর মাধ্যমে উদ্ধারের জন্য আকুতি জানায়। পরবর্তীতে আজিজ ও মকবুলের নিকট বারবার ধরণা দিয়েও জুসেদের বাবা-মা কোন কুল-কিনারা না পেয়ে ছেলেকে উদ্ধারের আশায় পীর ফকিরের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ইতিমধ্যে ৫৪ দিন অতিবাহিত হলেও জুসেদ জীবিত না মৃত তা জানতে পারছেন না তারা। অজানা শঙ্কায় দিন কাটছে পরিবারের।
একই রকম ঘটনা ঘটেছে আজমিরীগঞ্জের শিবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিমবাগ গ্রামের তিনকোশা মহল্লার মো. নোমান চৌধুরী (২১) ও গোপী চন্দ্র চন্দের (২৫) পরিবারে। পিতা মৃত নিহার মনির চৌধুরী ও মাতা সুফিয়া খাতুনের ছয় সন্তানের জ্যেষ্ঠ ছেলে নোমান চৌধুরী বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের ঘানি টানছিল পশ্চিমবাগ বাজারে ব্যবসার আয় দিয়ে।
নোমানের ছোট ভাই উমান চৌধুরী জানান, পশ্চিমবাগের গোপী চন্দ্র চন্দ ও নোমান মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে সাগরে জাহাজে অথবা নৌকায় আটক রয়েছে। পশ্চিমবাগের অলিউরও তাদের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত সঙ্গে ছিল। সেখান থেকে কৌশলে বাড়িতে ফিরে আসে। একই গ্রামের সুরেশ চন্দ্র চন্দের ছেলে গোপী চন্দ্র চন্দ। তারা দুই ভাই ও পাঁচ বোন। সেলুনের ব্যবসার আয়ে তাদের ভালই চলছিল। কিন্তু জুসেদ ওনোমানের ন্যায় গোপীরও হদিস মিলছে না। এ ঘটনায় উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসীও। জুসেদ, নোমান ও গোপীর পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দিতে সাক্ষাত করেন হবিগঞ্জ জেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন। তিনি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিবপাশা ইউপি মেম্বার আব্দুল আজিজের ০১৭১২৪৯৬৭৬১ নাম্বারে ২৩ মে শনিবার দুপুরে কথা বলেন।
এ বিষয়ে ওই মেম্বার পরোক্ষ জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানান, চট্টগ্রামের টেকনাফের ফিরোজ নামের এক দালালের সঙ্গে ওরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যোগাযোগ করে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে মানব পাচারকারীর কবলে পড়েছে বলে তার ধারণা। তিনি জুসেদ, নোমান ও গোপীকে দেশে ফিরিয়ে আনার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এছাড়াও নিম্নের সংবাদগুলো দেখতে পারেন...

বিশ্বনাথে ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ডে মেম্বার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open